সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০১:৪৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলের আরও ৩শ’ গৃহহীন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ। কালের খবর সব নৌযানের রুট পারমিট বাধ্যতামূলক হচ্ছে। কালের খবর কামরাঙ্গীরচরে কিশোর গ্যাং হোতা মাসুদ মিন্টু ককটেলসহ গ্রেফতার। কালের খবর নবীনগরের নাটঘরে ফসলি জমির পানি চলাচলের সরকারী জায়গা দখলের হিড়িক। কালের খবর তাড়াশে নওগাঁ হাটে নৈরাজ্য : ইজারাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ। কালের খবর দশমিনায় আইনজীবীদের মানববন্ধন। যশোরের বাঘারপাড়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ইউপি- সচিবের মৃত্যু। কালের খবর শাহজাদপুরে সাবেক স্বাস্থ্য-মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল। কালের খবর শ্রীমঙ্গলে মসজিদ নির্মানের জন্য ৩৫০ বস্তা সিমেন্ট প্রদান করেছে বিরাইমপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা। কালের খবর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরমুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর মাস্টারের দাফন সম্পন্ন। কালের খবর
ভণ্ড ধর্মগুরু আসারাম – রিকশাওয়ালা থেকে কোটিপতি !

ভণ্ড ধর্মগুরু আসারাম – রিকশাওয়ালা থেকে কোটিপতি !

কালের খবর ডেস্ক :
ভারতে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করায় স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারামকে বুধবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রাতারাতি কোটিপতি এই আসারাম একসময় আজমির শরিফে রিকশা চালাতেন বলে জানা গেছে।

কজানা গেছে, স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর জীবনের একটি অংশ কেটেছে আজমির শরিফ এলাকায়। সে সময় তিনি রিকশা চালাতেন।
তখন তার নাম ছিল আসুমাল সিন্ধি। আজমির শরিফের দরগায় পুণ্যার্থীদের রিকশা করে পৌঁছে দিতেন তিনি।

আসারাম সেখানে টানা দুই বছর রিকশা চালান। এখনো বহু পুরনো রিকশাচালক তার কথা মনে রেখেছেন। আজমির রিকশা ইউনিয়নের সদস্য পান্না ওস্তাদ বলেন, ধর্মগুরু হিসেবে খ্যাতি পাওয়ার পরই আমরা আসরামকে চিনতে পারি।

আসারামের জন্ম পাকিস্তানের সিন্ধুপ্রদেশে। আসারামের যখন সাত বছর বয়স, তখন তার পরিবার গুজরাটে চলে আসে।

১৯৬৩ সালে আসারাম বাপু আজমির চলে যান।
চিরঞ্জিৎ সিং ওবেরয় নামের এক প্রবীণ আইনজীবী জানান, আসুমালের বাবা পরিবার নিয়ে পরে আজমিরে চলে আসেন। সেখানে খারিকুইতে থাকতেন তারা।

জানা গেছে, পুণ্যার্থীদের দরগায় পৌঁছে দিতে দিতেই আধ্যাত্মিক বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আসারাম। প্রথমে একটি ছোট আশ্রম দিয়ে ধর্ম ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পরে তা ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। অনেক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে।

ধর্ম ব্যবসা করে পাওয়া বিপুল বিত্তবৈভব আসারামের মাথা খারাপ করে দেয়। প্রথমে নিজেকে ভগবানের দূত বলে দাবি করেন তিনি।
এক পর্যায়ে শিষ্যদের আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেওয়ার নাম করে যৌন নিপীড়নে জড়িয়ে পড়েন। আসারাম তার নারী শিষ্যদের রাতের অন্ধকারে আশ্রমের নির্জন কক্ষে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। ওই সময় তাদের ধর্ষণ করা হতো।

২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে প্রেতাত্মার হাত থেকে বাঁচানোর নাম করে জোধপুরের মানাই গ্রামে নিজ আশ্রমে এনে ধর্ষণ করেন আসারাম। ওই কিশোরীর বাড়ি উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে। সে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারায় আসারামের আরেকটি আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করত। তাকে প্রেতাত্মার হাত থেকে বাঁচানোর নাম করে সেখান থেকে জোধপুরের আশ্রমে ডেকে আনেন আসারাম।

ওই কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে আসারামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া গুজরাটের সুরাটে দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আসারাম ও তার ছেলে নারায়ণ সাইয়ের বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর নারায়ণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রিকশাচালক থেকে হঠাৎ করে ধর্মগুরু হয়ে যাওয়া আসারামকে বিচারের মুখোমুখি করা মোটেই সহজ কাজ ছিল না। গত পাঁচ বছর ধরে তার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ মামলা চালাতে আদালত ও পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছে। তার মামলার ৯ সাক্ষীর ওপরই একে একে হামলা হয়েছে। হামলায় তিন সাক্ষী নিহত হন। অবশেষে বুধবার রাজস্থানের জোধপুরের বিশেষ আদালত আসারামকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

           দৈনিক কালের খবর   – ৩০/৪/১৮:

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com