বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি, কালের খবর :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উত্তর সাইনবোর্ড বাসস্ট্যান্ডে মসজিদে রাসুল (সা:) জামে মসজিদের টয়লেট দখলে নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করায়, চাঁদাবাজদের আটক করে গণধোলাই দিয়েছে মসজিদের মুসল্লী ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, গত ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের পর লেবার পার্টির চাঁদাবাজ ও জবরদখলকারী গোলাম আজম, জামাতের রোকন পরিচয় দানকারী চাঁদাবাজ ও জবরদখলকারী আহমদ আল ইরফান, ইমরান খান, আশরাফ পঠান, আশরাফ জান্নাতগংরা মসজিদের টয়লেট দখলে নিয়েই ক্ষান্ত হননি। তারা মসজিদ ও মসজিদের সামনের জায়গাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ ঘটিকার সময় জামায়াতের রোকন চাঁদাবাজ আহমদ আল ইরফান, লেবার পার্টির চাঁদাবাজ গোলাম আজম ২০-২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ গ্রুপ নিয়ে মসজিদের সহকারী মোয়াজ্জিন ও খাদেম মাওলানা মোঃ সিদ্দিক হাওলাদারের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় হামলাকারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ চক্র খাদেমের থাকার রুমের তালা ভেঙে তার ব্যবহৃত ৩০ হাজার টাকা দামের স্যামসাং ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল, মসজিদের নির্মাণ কাজের ৫০ হাজার টাকা ও অন্যান্য মালামাল সহ মসজিদের বিভিন্ন মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায়। এবং চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দদেরকে বিভিন্ন ভাষায় গালাগাল করে মসজিদ ছেড়ে যাওয়ার হুমকি প্রদর্শন করে।

এদিকে জামায়াতের রোকন- চাঁদাবাজ ও জবরদখলকারী আহমদ আল ইরফান, ইমরান আহমদ, আশরাফ পাঠান, আশরাফ জান্নাত ও লেবার পার্টির চাঁদাবাজ ও জবরদখলকারী গোলাম আজমদের নিয়োগ কৃত আবুল হোসেন রানা ওরফে টোকাই রানাকে দিয়ে তারা চাঁদা উত্তোলন করতো। এবিষয়ে টোকাই রানাকে জিজ্ঞসা করলে রানা বলেন, চাঁদাবাজ আহমদ আল ইরফান, ইমরান আহমদ, আশরাফ পাঠান, আশরাফ জান্নাত ও লেবার পার্টির চাঁদাবাজ ও জবরদখলকারী গোলাম আযম গংরা চাঁদা উত্তোলনের জন্য তাকে ১০হাজার টাকা বেতনে চাকরি দিয়েছেন।
এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাদ জুম্মা এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে টয়লেট দাখলকারী চাঁদাবাজ চক্রের সহযোগী আবুল হোসেন রানা প্রকাশ টোকাই রানাকে ধরে গণধোলাই দেয়। এসময় চাঁদাবাজ রানাকে উদ্ধারে চাঁদাবাজ গোলাম আজম, চাঁদাবাজ আহমদ আল ইরফান গংরা এগিয়ে এলে তাদেরকে ও উত্তম মাধ্যম দিলে তারা সকলে দৌড়ে পালিয়ে যায় বলে জানান উপস্থিত জনতা। এ সময় মসজিদ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট সমাজসেবক নুর হোসেন নুরু ভূঁইয়া ও মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ, এলাকাবাসী ও মুসল্লিদেরকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এলাকাবাসী ও মসজিদের মুসুল্লিরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ধর্মীয় ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা দখলের চেষ্টা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।