বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
মোঃ জসিম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি, কালের খবর : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সারাবিশ্বে। বিশেষ করে অস্থির হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাত। এই সংকট সামাল দিতে প্রায় সব দেশের সরকারই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সরকারও চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্রহণ করেছে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়ে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর উদ্যোগে ০৩ এপ্রিল রাজধানীর কাকরাইলস্থ উষাচত্বে “জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের খনিজসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সংকট মোকাবেলায় জ্বালানি মৌজুদ করণ বৃদ্ধির দাবিতে নাগরিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেঃ কর্নেল অবঃ প্রফেসর ড. এস কে আকরাম আলী, প্রধান আলোচক উপস্থিত হিসাবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ছিলেন এস জি কিবরিয়া দিপু, প্রধান প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রুলার জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালের ছবির সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম শিশির। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রুবেল, সেলিম রেজা বাচ্চু, এডভোকেট মু. ইমরান, মুহা রবিউল ইসলাম, মোঃ সামছুল আলম সুমন, জে এম শফিউল আলম, রোজিনা আক্তার, ডা. মোঃ তারিকুল ইসলাম, মোঃ ইউসুফ জামিল, মোঃ আব্দুস সালাম প্রমুখ, সঞ্চালনায় ছিলেন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর সমন্বয়ক মু. সাহিদুল ইসলাম।
এসময় বক্তাগণ বলেন, যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিকভাবে যেকোনো সংকট- যেকোনো সময় তৈরি হতে পারে। সংকট কালীন সময় দেশের চাহিদা পূরণের জন্য রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পূর্ব প্রস্তুতি রাখতে হয়। আমাদের দেশে তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই বল্লেই চলে। বাংলাদেশে একটি মাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার রয়েছে। বর্তমানে অপরিশোধিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারটিও তীব্র তেল সংকটে ভুগছে। পথে সমস্যার কারণে তেলের চালানও আটকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সার্বোচ্চ একমাসের চাহিদা মেটানোর মতো তেল সংরক্ষণ করতে পারে। পক্ষান্তরে পাকিস্তান দুই মাস এবং ভারত তিন মাস ও তার চেয়ে কিছু বেশি সময়ের জন্য তেল মৌজুদ করতে পারে। বাংলাদেশের সংকটকালীন সময় অতিক্রম করতে জ্বালানি মৌজুদ করণ একান্তভাবে অপরিহার্য, যেকোনো সংকট মোকাবেলায় অন্তত এক বছরের জ্বালানি মজুদ রাখা নিশ্চিত করতে হবে আমাদের।
দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজকের মুক্ত আলোচনায় যে বিষয়গুলো সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তা হল জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের খনিজসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় আমরা শুধু জ্বালানি আমদানির উপরই নির্ভরশীল। কিন্তু অতীত ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি আমাদের দেশের আভ্যন্তরীণ অনেক জ্বালানির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সমস্ত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে নিশ্চিত উপায়ে আমাদের জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া আমরা জানি, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বিশাল খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাময় একটি স্থান। তাই আমাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের খনিজসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সদইচ্ছাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।