রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০১:০০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
তাড়াশে মহেশরৌহালী গ্রামের প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের বেহাল দশা। কালের খবর মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে ডুবেছে গ্রামের পর গ্রাম। কালের খবর সাংবাদিকরা পারে ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করতে : তথ্যমন্ত্রী। কালের খবর নবীনগর আঞ্চলিক কথা গ্রুপের উদ্যোগে দুটি অসহায় পরিবারের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান। কালের খবর সখীপুরে গরুর লাথি খেয়ে আহত ১৩ জন হাসপাতালে। কালের খবর মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ট্রাকভর্তি উপহার পাঠিয়ে চমকে দিলেন বাবা। কালের খবর জীবন অগাধ : আলাউদ্দিন খাঁর বড় ছেলে। কালের খবর তিন দিনে ৮ কোটি টাকার টোল আদায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে। কালের খবর শোক সংবাদ : জয়দেব সূত্রধর আর নেই। কালের খবর বোয়ালমারীতে পৌরসভার ৫০০শত ভ্যানচালককে ঈদ উপহার প্রদান। কালের খবর
বঞ্চিতদের মূল্যায়ন ও পরিবারতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। কালের খবর

বঞ্চিতদের মূল্যায়ন ও পরিবারতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। কালের খবর

স্টাফ রিপোর্টার, কালের খবর : বিএনপি-জামায়াত ও অন্যান্য দলের আর্দশধারনকারি নেতারা ক্ষমতার স্বাদ নিতে ঝাঁকে ঝাঁকে সরকারি দল আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে এবং রাতারাতি বনে যায় আওয়ামী লীগ। ওইসব হাইব্রিড নেতারা দলীয় পদ থেকে শুরু করে মেয়র-কাউন্সিল টিকেট পান নৌকার। তারা নির্বাচিত হয়ে প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানিও কোনঠাসা শুরু করেন। এরবাইরে নৌকা বিরোধী অনেককে দেখা যায় নৌকার টিকেট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এদের সর্বত্র বিচরন ও ক্ষমতার দাপটে একপ্রকার কোনঠাসা হয়ে পড়ে দলের দু:সময়ে পাশে থাকা পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ নেতারা। শুধু তাই নয়, দলের কর্মসূচিতে ও তাদের উপস্থিতি দিনকে দিন কমতে শুরু করে। দলের প্রতি চরম অনিহা বেড়ে যায় ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের। এরফলে সরকারে প্রভাব থাকলেও দলে দেখা দেয় অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা। তবে সর্বশেষ গত ১২জুন ৩টি উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি বঞ্চিত-পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন শুরু করে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দল আওয়ামী লীগ। এতে দলের প্রতি আস্থা বেড়েছে মাঠ পর্যায়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের। এ বিষয়ে কথা হয় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ সুজাউল করীম চৌধুরী বাবুল এর সাথে। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় আছে বলেই দেশজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। একইসাথে ক্ষমতার স্বাদ নিতে কিছু অনুপ্রবেশকারি দলের বিতরে ঢুকে সরকার ও দলের বদনাম করছে। তাদের বিষয়ে ইতিমধ্যেই দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অপরদিকে দলের দু:সময়ের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করছেন। এতে নিষ্কৃয় হয়ে পড়া নেতাকর্মীরা আবারো সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন অধ্যক্ষ সুজাউল করীম চৌধুরী বাবুল। একইকথা বলেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন। গত ১২ জুন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথসভায়, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা যোগ্যতা ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দলের মনোনয়ন পাননি তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে যথাযথ মূল্যায়ন করার আশ্বাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দল ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিয়োজিত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান কামরুল হাসান রিপন। তিনি বলেন, যারা দলীয় টিকেট পেয়ে দলের নেতাকর্মীদের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালাচ্ছেন, তাদের বিষয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন। একইকথা বলেছেন দলের দু:সময়ে জীবন বাজি রাখা একাধিক ছাত্রনেতা।
সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি দলীয় কর্মসূচি ও সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হতাশার কোনও কারণ নেই। সবাইকে তো আর মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয় না। তারপরও যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন, কে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেতা হলো, কে সংসদ সদস্য হলো আর কে মন্ত্রী হলো, কে হলো না; এটা ভুলে গিয়ে আওয়ামী লীগ এবং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা-বিশ্বাস রেখে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমাদেরও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ গত দুই মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। এজন্যই জনগণ টানা তৃতীয়বার ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। আমরা গত দশ বছরে যেসব উন্নয়ন করেছি সেগুলো ধরে রাখতে হবে। বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো শেষ করতে হবে। নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। দেশকে নিয়ে যেতে হবে উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির শিখরে। এজন্য আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর সাহায্য প্রয়োজন। কী পেলাম, কী পেলাম না- সেটা ভুলে কাজ করতে হবে। দল অবশ্যই মূল্যায়ন করবে।
প্রসঙ্গত, ১২জুন ৩টি উপনির্বাচনে পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেয়নি সরকারি দল আওয়ামী লীগ। দলের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে। এর আগে দলের মনোনয়নে এমপি পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দেওয়া হলেও এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসছে সরকারি দলটি। গত ১২ জুন ৩ টি উপনির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব আসনে প্রয়াত এমপিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্ত্রী, ভাইসহ অনেকেই মনোনয়ন চাইলেও শেষ পর্যন্ত কেউই পাননি। ঢাকা-১৪ আসনে আগা খান মিন্টু, সিলেট-৩ আসনে হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-৫ আসনে আবুল হাসেম খানকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটির সংসদীয় বোর্ড। তিনটি আসনেই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ করছেন এমন ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনগুলোয়ও এমপি পরিবারের বাইরে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এরআগের উপ-নির্বাচনগুলোতে ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে যোগ্য ও পরীক্ষিতদের বদলে এমপি পরিবারের কাউকে বাছাই করা হয়েছে। পরিবারের যোগ্য কেউ না থাকলে অন্য কাউকে বেছে নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পরিবারকে প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন দিতে হয়েছে। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যতগুলো উপনির্বাচন হয়েছে তার অধিকাংশতেই এমপি পরিবারের বাইরে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাবনা-৪, ঢাকা-৫, নওগাঁ-৬, ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হয় যথাক্রমে নুরুজ্জামান বিশ্বাস, কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, আনোয়ার হোসেন হেলাল ও হাবিব হাসানকে। পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী) আসনে ১৯৯৬ সাল থেকে টানা ২৪ বছর আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন মরহুম শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। গত বছরের ২ এপ্রিল তিনি ইন্তেকাল করায় আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে মনোনয়ন পান পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস। যদিও ডিলুর স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, জামাইসহ পরিবারের আটজন সদস্য মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com