সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত করছে দুদক ও মাউশি। কালের খবর তাড়াশে সেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত। কালের খবর যশোর সদরে ইউপি নির্বাচন ৫ জানুয়ারি। কালের খবর কুমড়া বড়ি তৈরি করতে ব‍্যস্ত তাড়াশের কারিগররা। কালের খবর বাঘারপাড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় চেয়ারম্যান প্রর্থীসহ আহত ২০-অফিস ভাংচুর। কালের খবর যশোর সদর হাসপাতালে দালালদের কাছে জিম্মি রোগীরা। কালের খবর উৎপাদনে নতুন ‘দেশি মুরগি’, ৮ সপ্তাহে হবে এক কেজি। কালের খবর ইউপি নির্বাচনে শাহজাদপুরের ১০ ইউনিয়নে আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা। কালের খবর যশোরের শার্শায় শোকজের জবাবের আগেই যুবলীগ নেতা বহিষ্কার! কালের খবর জাতীয় শ্রমিক লীগের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টুর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত। কালের খবর
দোহার ও নবাবগঞ্জে মাদকের ভয়াল থাবা : গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে। কালের খবর

দোহার ও নবাবগঞ্জে মাদকের ভয়াল থাবা : গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে। কালের খবর

কালের খবর রিপোর্ট, নবাবগঞ্জ :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশব্যাপী চলছে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান। আর ঠিক তখনই ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার মাদক ব্যবসার মূলহোতাদের অনেকেই গোপনে এলাকা ছাড়ছে।

কেউবা ‘দৌড়ের ওপর’ রয়েছে। দোহারের ইয়াবা সম্রাট সাগর ও তার বাহিনী এখন আত্মগোপনে রয়েছে। একসময় সে শুধু দোহার নয়, কারাগারে বসেও এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। তবে সাগর আড়ালে থাকলেও থেমে নেই তার সহযোগীরা।

সম্প্রতি মাদকদ্রব্য অধিদফতর দোহারের রাইপাড়া এলাকার আকাশের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, যারা দলকে ভালোবাসে ও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে, তারা কখনও ইয়াবা ব্যবসা করতে পারে না। কিন্তু আমাদের নবাবগঞ্জে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নামে কথিত কয়েক যুবনেতা ইয়াবার মতো ভয়ংকর ব্যবসায় জড়িত হয়ে সরকারের সুনাম নষ্ট করছে।

গত ৬ মাসে দোহার থানায় প্রায় ৬০টি মাদক মামলা হয়েছে। দোহার থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই। সে যত বড়ই হোক, ছাড় পাবে না।

উল্লেখ্য, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে যুব ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কথিত একাধিক নেতা মাদক ব্যবসাসহ টেন্ডারবাজি, দখল বাণিজ্যে জড়িত থেকে ‘জিরো থেকে হিরো’ বনে যায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলমান সাঁড়াশি অভিযান শুরুর পর এসব নেতাকে দলীয় কর্মকাণ্ডে এখন আর সরব দেখা যায় না। এমনকি এবার প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তাদের ছবিসহ ব্যানার-পোস্টারও চোখে পড়েনি। কথিত এসব নেতা এখন পালানোর পথ খুঁজছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, র‌্যাব, পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযান চালিয়ে মাঝেমধ্যে কিছু ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে জেলে দেয়। কিন্তু তাতেও থামছে না ইয়াবার ব্যবসা।

যারা নেপথ্যে অর্থ ও প্রশ্রয় দিয়ে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত। নইলে ইয়াবার ভয়াল থাবায় ভেসে যাবে, এলাকাবাসী মনে করেন।

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়নের বড় রাজপাড়া, আমিরপুর, জালালপুর, মাধবপুর, খন্দকারহাটী, পানালিয়া, বাহ্রা এলাকার চরকান্দা, আলগীরচর, চক বাহ্রা, বক্সনগরে বালুরচর, টুকনীকান্দা, বর্ধনপাড়া, কোমরগঞ্জ হাটবাজার এলাকা, আগলার মোহনপুর, টিকরপুর, কৈলাইলের মেলেং, পাড়াগ্রাম বাজার সংলগ্ন এলাকা, চরদরিকান্দা, দড়িকান্দা, মধুপুর, মালিকান্দা বাজার এলাকা, দৌলতপুর বাজার এলাকা, শোল্লার চকোরিয়া, উলাইল, চকবাড়ি, ঝনঝনিয়া, আবদানী, চন্দ্রখোলা বাজার সংলগ্ন এলাকা, চর সিংজোর, যন্ত্রাইলের খলসী, হরিস্কুল, গোবিন্দপুর, দাপারি বাজার এলাকা, গালিমপুরের সূর্যখালী, বড়গ্রাম নোয়াদ্দা, বান্দুরা বাজার এলাকা, মাঝিরকান্দা বাসস্ট্যান্ড, হযরতপুর, সৈয়দপুর, সাদাপুর, শিকারীপাড়া নয়নশ্রীর বাংলাবাজার, তাসুল্লা, জয়কৃষ্ণপুরে বেরিবাঁধ এলাকা, তিতপালদিয়া, কুঠরীসহ দোহার উপজেলার লক্ষ্মিসাদ, কাঁঠালীঘাটা, পোদ্দারবাড়ি, চরকুশাই, পালামগঞ্জ, হলের বাজার, কাটাখালী, মেঘুলা এলাকায় বিভিন্ন প্রভাবশালী চক্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নতুন কৌশল অবলম্বন করে ব্যবসা করছে। আর মাদক ব্যবসায় নারী ও উঠতি বয়সের যুবকরা জড়িত বলে জানা গেছে।

গালিমপুর সূর্যখালী এলাকার রাহুল দাস যুগান্তরকে জানান, তাদের এলাকায় কথিত রিহাম বাহিনীর সদস্যরা বেশ কয়েক বছর বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বেচাকেনা করে আসছে। পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্রের সাহায্যে রিহাম বাহিনী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত মাদক ব্যবসা করছে বলে জানান তিনি।

কৈলাইল মালিকান্দা এলাকার সাবেক এক মাদক ব্যবসায়ী যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে দোহার-নবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইয়াবা পৌঁছে দিতে নারী ও কিশোরদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা ও মানিকগঞ্জ থেকে ইয়াবার বড় চালান সড়কপথে না এনে নদীপথ ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে পাড়াগ্রাম বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকা, মালিকান্দা বাজার এলাকা, শোল্লা ইউনিয়নের চকসিংজোর ও সিংগাইর উপজেলার আবদুলের খেয়াঘাট এলাকাটি ব্যবহার করা হয়। নদীপথে মানিকগঞ্জ থেকে সিংগাইর হয়ে চান্দহর ইউনিয়নের খেজুর গাছতলা এলাকার পথটি মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।

খেজুরতলার নান্নু ও তার দল দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসায়ীদের সাহায্য করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নান্নুর নামে সিংগাইর থানায় অসংখ্য অপরাধ কর্মকাণ্ডের তথ্য থাকলেও সে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলার সন্ত্রাসী ও স্বেচ্চাসেবক লীগ নেতা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তার লাইসেন্স করা ২টি অস্ত্রের আড়ালে অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হচ্ছে। অনেক ইজিবাইকচালক মাদকদ্রব্য পরিবহনে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

দোহার-নবাবগঞ্জের একাধিক যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ রাতের আঁধারে নিজ বাড়িতে জুয়ার আসর বসিয়ে অর্থ লুটে নিচ্ছে। কথিত এসব নেতাকর্মীর দাপটে ত্যাগীরা এখন কোণঠাসা।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা জেলা দক্ষিণের দফতর সম্পাদক আবদুল করিম যুগান্তরকে বলেন, কেউ যদি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়, তাকে দলে না রাখাই ভালো।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com