শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:০৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
রাজস্ব আহরনে সবাই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি : প্রধানমন্ত্রী। কালের খবর খেলাধুলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিতি লাভ করা যায় – স্মৃতি। কালের খবর মুরাদনগরে চলছে ফসলি জমির মাটি কাটার মহা-উৎসব। কালের খবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুদের কারবারির হাতে ওষুধ ব্যবসায়ী খুন! কালের খবর প্রেসক্লাব বাসুন্দিয়ার (৫ম) প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত। কালের খবর সাংবাদিক শিমুল হত্যার ৬ বছর : শুরু হয়নি বিচারকার্য। কালের খবর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু। কালের খবর শাহজালালে সাড়ে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এয়ারলাইন্সের চালক আটক। কালের খবর নবীনগরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডি জি এম এর অপসারণের দাবিতে সাংবাদিক সমাজের মানববন্ধন। কালের খবর চট্রগ্রামের পতেঙ্গায় ৯ লক্ষ টাকার বিয়ারসহ দুই মাদক কারবারি আটক। কালের খবর
সাংবাদিকদের এ অবস্থা কেন সৃষ্টি হলো। কালের খবর

সাংবাদিকদের এ অবস্থা কেন সৃষ্টি হলো। কালের খবর

সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের যে সমীহ ও শ্রদ্ধাবোধ ছিল তা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। কলকাতার বাংলা সিনেমার একটা ডায়ালগ শুনেছিলাম, ‘কাকু, পেছনে মিডিয়া লেলিয়ে দিলে সামাল দিতে পারবেন না।’ এখন মফস্বলে সাংবাদিক পরিচয় পেলেই মানুষ তাকে অশিক্ষিত, ধান্দাবাজ বা টাউট মস্তান বলে ঠাহর করে। এ অবস্থা কেন সৃষ্টি হলো? এর জন্য কি ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ধারী ওই ব্যক্তিই শুধু দায়ী? না, তিনি একা দায়ী নন। এর জন্য দায়ী নিয়োগকারী টিভি, অনলাইন ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। তবে নিশ্চয়ই সবাই নন।

ইদানীং তো শোনা যায়, সরকারি চাকরির মতো টাকা দিলে মিডিয়ার কার্ড পাওয়া যায়। টাকা পেলে কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষাগত যোগ্যতা-মেধার আর প্রয়োজন পড়ে না। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো মিডিয়া এক জেলাতেই একাধিক লোক নিয়োগ করেছে। এই যখন অবস্থা তখন প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা কী করবেন? অনেক সাংবাদিক তার প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান না। হাতেগোনা দু-চারজন নিয়মিত বেতন পেয়ে থাকেন। আর মফস্বলের সাংবাদিকদের বেতনও আহামরি কিছু নয়। কথায় আছে, ‘মেয়েদের বয়স আর সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা জিজ্ঞেস করতে নেই’। কোনো সাংবাদিকের বেতন কত- জিজ্ঞেস করলে তিনি বিব্রত হন, লজ্জিত হন।

কিন্তু সাংবাদিককেও তো খেতে হয়, সমাজে মানুষের সঙ্গে চলতে হয়। তাদের ওপর হয়তো আরো কয়েকজন নির্ভরশীল। তাদেরও ভরণপোষণ জোগাতে হয়। নাকি সাংবাদিকের পেট নেই? নাকি পেট থাকলেও তারা পেটে পাথর বেঁধে থাকবে? আরে ভাই, জিডি করতে গেলেও তো একশ-দুইশ টাকা খরচ হয়, উকিল-মহুরির কাছে গেলেও চার-পাঁচশ টাকা খরচ হয়ে যায়। মেধার তো একটা মূল্য আছে নাকি! আপনারা ব্যক্তিগত কোনো একটা নিউজের জন্য সাংবাদিককে দুইশ-পাঁচশ টাকা দিলে, সেটা নেয়াই সাংবাদিকের অপরাধ হয়ে যায়!

এটা ঠিক, সাংবাদিক নামধারী কিছু ‘অপসাংবাদিক’ মানুষকে প্যাঁচে ফেলে, বিপদগ্রস্ত করে যেভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়, তা অবশ্যই অনৈতিক ও অপরাধ। এই অপসাংবাদিকদের রোখার দায় কি শুধু সাংবাদিকদের? ঢাকায় যারা তথাকথিত মিডিয়া খুলে বসেছেন, তাদের দিকে আঙুল তোলেন না কেন?
সাংবাদিক আর অপসাংবাদিকদের এক করে দেখা ও ভাবা ঠিক নয়, এটা কোনো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হতে পারে না। কিন্তু ইদানীং তাই হচ্ছে। কেউ কেউ পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। সাংবাদিকদের সততা ও আয়-রোজগার নিয়ে নোংরা ইঙ্গিত করছেন। আরে ভাই, সাংবাদিকরা এ সমাজেই বাস করেন। নাকি? তারা তো কেউ মঙ্গলগ্রহ থেকে ছিটকে পড়েননি। সমাজ নষ্ট হলে, দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব সাংবাদিকদের ওপরও পড়ে। নষ্ট সমাজের শিকার হয়ে দু-চারজন সাংবাদিকও দুর্নীতিগ্রস্ত, অসৎ হয়ে পড়তে পারেন।

তবে এ কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, অন্য যে কোনো পেশার চেয়ে সাংবাদিকতায় যুক্ত সাংবাদিকরা অনেক সৎ আছেন, মানবিক আছেন। সবাই অসততার চর্চা করেন না, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন না। এখনো অনেক সাংবাদিক আছেন, যারা সকালে চা-পরোটা খেয়ে সারাদিন দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করেন। এটা এক ধরনের তাড়না। সবার এই তাড়না থাকে না, একমাত্র সাংবাদিকদেরই এই তাড়না থাকে।

বহু শ্রæত সেই পুরনো কথাই বলতে হয়, ভালো সাংবাদিকের কোনো বন্ধু নেই। আজ যিনি খুশি হচ্ছেন, আবার কালকেই তিনি গোসা করছেন। কোনো একটি সংবাদ কারো পক্ষে যায়, আবার কারো না কারো বিপক্ষে যায়। পক্ষেরজন খুশি হলেও বিপক্ষেরজন শুধু অখুশি হন না, ক্ষুব্ধও হন। আর ক্ষুব্ধ ব্যক্তি তখন সাংবাদিককে লাল, নীল, সবুজ রঙে আখ্যায়িত করেন।

রাস্তার ফুচকাওয়ালা, চাওয়ালা থেকে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, অফিসের চাপরাশি, বড়বাবু থেকে বড় কর্তা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, শিল্পী, সংগঠক, পুলিশ, ব্যবসায়ী এমনকি কখনো কখনো সাধারণ মানুষও পান থেকে চুন ঘষলেই সাংবাদিককে গালি দেন।

তারা ভাবেন, তাদের বাড়া ভাতে সাংবাদিকই ছাই ফেলে দিল। রাজনৈতিক নেতা ভাবেন, তার নিউজটা কেন ছোট করে ছাপা হলো। আবার কোনো নেতা ভাবেন, নিউজে তার নাম কেন ছাপা হলো না বা এই নিউজটা এভাবে কেন করল সাংবাদিক? ডাক্তার ভাবেন, হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা পায় না, সে নিউজ কেন করবে সাংবাদিক? ইত্যাদি নানা দোষ সাংবাদিকের!

মোট কথা আপনি অনিয়ম-দুর্নীতি করবেন, কিন্তু তা প্রকাশ করা যাবে না। প্রকাশ করলেই সাংবাদিকের ওপর নেমে আসে নানা অপবাদ, অসম্মান। কিন্তু সাংবাদিকরা সব সময় দেশ ও মানুষের পক্ষেই কাজ করেন, কল্যাণের জন্যই কাজ করেন। আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় দু-চারজন অসৎ-কপট সাংবাদিক আছে, সব পেশাতেই আছে এবং থাকবে। গড়ে সব সাংবাদিককে দোষ দেয়া অন্যায়।

তবে সাংবাদিকদের এখন ভাবার সময় এসেছে, নিজেদের  প্রয়োজনেই নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য না থাকার কারণে সাংবাদিক সমাজ আজ অবহেলিত, লাঞ্চিত। তাই সকল ভেদাভেদ ভূলে সাংবাদিকদের ঐক্য থাকা অতিব জরুরী।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com