বুধবার, ০৩ অগাস্ট ২০২২, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
চলনবিলে খাল বিল শুকিয়ে নেমে এসেছে বিপর্যয়। কালের খবর ঢাকায় ৯ ফ্ল্যাট ২ প্লট পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালকের রাজশাহীর ভদ্রায় ডিসির অনুমোদন নিয়ে চলছে পুকুর ভরাট সিদ্ধিরগঞ্জে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি, থানায় অভিযোগ। কালের খবর ডিজিটাল আইনে মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে : বিএফইউজে। কালের খবর সাংবাদিক স্ত্রী প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ রাশিদা আক্তারের দিত্বীয় মৃত্যুবার্ষিকী। কালের খবর লেবেল কেটে ২০ টাকার সিরাপ ৩৫ টাকায় বিক্রি করায় জরিমানা দিলেন ৩৭ হাজার। কালের খবর সখীপুরে এমপি’র অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা, সাংবাদিকদের মৌন মিছিল। কালের খবর আমিরাতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি। কালের খবর তাড়াশে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন। কালের খবর
শ্রীমঙ্গলে আবারো দখলবাজদের কবলে রেলওয়ের ২ দশমিক ৮৭ একর ভূমি টনক নড়ছেনা প্রশাসনের। কালের খবর

শ্রীমঙ্গলে আবারো দখলবাজদের কবলে রেলওয়ের ২ দশমিক ৮৭ একর ভূমি টনক নড়ছেনা প্রশাসনের। কালের খবর

স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসানঃ. কালের খবর :
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রেলওয়ের দুই দশমিক সাতাশি একর জায়গা দখলমুক্ত করতে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের ১৭ তারিখ অভিযান শুরু করে রেলওয়ের এস্টেট অফিসারের নেতৃত্বে রেলওয়ের একটি টিম। তখন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙ্গিয়ে একদল লোক উচ্ছেদ অভিযান করতে বাধা দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ।
পরবর্তীতে উচ্ছেদ না করেই ফিরে যায় রেলওয়েরসেই দলটি। বেশ কিছুদিন পরে কারো কোন বাঁধা না মেনে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ফের অভিযানে নামে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেদিন শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ সড়কের পাশের রেলের ২ দশমিক ৮৭ একর ভূমি একদিনের অভিযানে দখলমুক্ত করে তারা। কিন্তু ভানুগাছ সড়কের পাশে রেলওয়ের জায়গায় গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর আবারও অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে যাচ্ছে জায়গাটি। উচ্ছেদ অভিযানের ২/৩ সপ্তাহ পর থেকে ফের আবারও জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা করতে শুরু করেন অবৈধ দখলদাররা। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর রেলওয়ের এই জায়গাটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখলমুক্ত করা হয়। প্রায় ৩ শতাধিক দোকানপাটের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। উক্ত অভিযান কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার নজরুল ইসলাম। উচ্ছেদ অভিযানের সময় পাকা ভবন থেকে শুরু করে সব ধরনের স্থাপনা উচ্ছেদ করেন তারা। যার যার মালামাল দ্রুত সরানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল তখন। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার ২/৩ সপ্তাহ পর থেকেই আবারো দেদারছে দখল হচ্ছে রেলওয়ের ভুমি। যেনো দখলের প্রতিযোগিতা চলছে ।
এ বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু গণমাধ্যম এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। যেনো রেলওয়ের ভুমি রক্ষায় কেউ নেই। তখনও জায়গাটি দখল করলেও স্থায়ী স্থাপনা কম ছিলো ৷ গত কয়েক মাসের ব্যবধানে এই জায়গাটিতে এখন ইট সিমেন্ট দিয়ে স্থায়ীভাবে পুনরায় দোকানকোঠা নির্মাণ করছেন দখলদারেরা। সংবাদগুলো প্রকাশিত হওয়ার পরও টনক নড়েনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। দখলদারদের উচ্ছেদ করার কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সরেজমিন এই জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ কাঠ টিন দিয়ে বানানো ছোট বড় ঘর সাথে সাথে ইট সিমেন্ট দিয়ে বড় বড় ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তা থেকে যেন দেখা না যায় তাই ইটের তৈরি আধা পাকা ঘরগুলোতে ত্রিপল (প্লাস্টিকের চট) দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এসব আধাপাকা ঘরের ভিতরে অবৈধ দখলদারেরা ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই জায়গা উচ্ছেদ করার আগে কয়েক দশক ধরে আমাদের দখলে ছিলো। কখনো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ করতে আসেনি। সবশেষ ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে চাপের মুখে পড়ে জায়গাটি দখলমুক্ত করে। এখন আর উচ্ছেদ হবো না। এখন জায়গা যদি দখল না করি তাহলে পরে দখল করতে পারবো না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ করতে চাইলে সে সময় উঠে যাবো।
সরেজমিনে দেখা যায় একটি সাইনবোর্ড লাগানো উক্ত সাইনবোর্ডে শাহজাহান মিয়া নাম ও মোবাইল নাম্বার দেখা যায় উক্ত মোবাইল নাম্বারে কল করে বিস্তারিত জানতে চাইলে প্রতিবেদককে বলেন আমরা আবেদন করেছি আবেদনের কাগজপত্র দুই-একদিনের ভিতরে পেয়ে যাব তাই আমরা কাজ ধরিয়েছি ঘরের। উনার কথার পরিপেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভুসম্পত্তি কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে উনি আমাদের প্রতিবেদককে জানান আবেদনের ব্যাপারে উনি কোন অবগত নেই এবং সেটা কখনো সম্ভব নয় কারণ সেটা বাংলাদেশ রেলওয়ের একান্ত নিজস্ব সম্পত্তি যেকোনো সময় আবার অভিযান দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন এবং তদন্ত করে দেখবেন বিষয়টি বলে জানান। জায়গাটি উচ্ছেদ করার পর রেলওয়ে পুলিশের কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল থানার ওসিকে উচ্ছেদকৃত স্থাপনা স্থিতিশীল রাখার জন্য জিম্মায় দেওয়া হয়। নতুন করে কেউ স্থাপনা তৈরি করতে চাইলে রেলওয়ে পুলিশ বাধা দিবে। তবে রেলওয়ে পুলিশ উচ্ছেদ করছে না।
এদিকে অভিযোগ আছে শ্রীমঙ্গলের রেলওয়ে পুলিশ কে ম্যানেজ করেই চলছে এসব স্থাপনা নির্মাণের কাজ। এমন প্রশ্ন করা হলে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনকে তিনি বলেন, রেলওয়ের এস্টেট অফিসাররা আমাদের কোন লিখিত না দিলে আমরা স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারি না। উনারা (ভূ সম্পত্তি বিভাগ) যেটা বলছেন সেটা পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন,উচ্ছেদকৃত ভূমি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এরকম কোন নির্দেশনা রেল পুলিশ কে এখনো দেওয়া হয়নি আমার জানামতে বলে জানান তিনি।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com