মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় অবৈধ ভেজাল গুড় তৈরি কারখানায় অভিযানে জেল-জরিমানা। কালের খবর যশোরের মাটিতেই প্রথম উড়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। কালের খবর শাহজাদপুরে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমুলক সভা। কালের খবর আগামীকাল ছাত্রলীগের সম্মেলন: অনূর্ধ্ব ২৯ বছরেই বন্ধি ছাত্রলীগ বিতর্কমুক্ত ছাত্রলীগের কমিটি উপহার চলন বিলে পানি যাওয়ার সাথে সাথে আমন কেটেই জমিতে সরিষা বুনছেন কৃষক। কালের খবর নজু মুন্সির বাড়ীতে বেআইনিভাবে হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। কালের খবর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অপতৎপরতা প্রতিরোধে এবার মাঠে নামছে আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ। কালের খবর সখীপুরে হায়দার মাস্টার স্মৃতি ফুটবল টুর্নান্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত। কালের খবর যশোরে সন্তানের বায়না পূরণই কাল হলো তহমিনার, স্বামী-সন্তান হারিয়ে নির্বাক। কালের খবর নবীনগরে ২০০ শত বছরের কবরস্থান রক্ষায় গ্রামবাসীর মানববন্ধন। কালের খবর
চীনের ভয়াবহ নির্যাতন বর্ণনা করলেন মিহিরগুল। কালের খবর

চীনের ভয়াবহ নির্যাতন বর্ণনা করলেন মিহিরগুল। কালের খবর

কালের খবর ডেস্ক :

চীনের উইঘুর প্রদেশেই জন্ম মিহিরগুল তুরসুনের। প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করে মিশরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়তে যান তিনি। সেখানেই প্রেম, বিয়ে। তিনটি সন্তানের জন্মও দেন তুরসুন। ২০১৫ সালে নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চীনে ফেরেন তিনি। সঙ্গে ছিল তার তিন সন্তান। এর পরই বদলে যায় তার জীবন। বাচ্চাদের থেকে আলাদা করে তাকে বন্দিশিবিরে নিয়ে যায় চীন সরকার। বিভিন্ন দফায় তিন বার তাকে আটক করা হয়। চালানো হয় নারকীয় অত্যাচার। মাকে না পেয়ে অযত্নে মারা যায় তার ছোট সন্তান। বাকি দুই সন্তানও এখনও দুরারোগ্য অসুখের শিকার। সোমবার ওয়াশিংটনে চীনের উইঘুর প্রদেশের মুসলিমদের ওপর চীন সরকারের এই বর্বরতার কাহিনী শোনাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মিহিরগুল তুরসুন।
উইঘুর প্রদেশের মুসলিমদের ওপর চীন সরকারের অত্যাচারের অভিযোগ এই প্রথম নয়। চীনের বিভিন্ন বন্দিশিবিরে আনুমানিক ২০ লক্ষ উইঘুর মুসলিমকে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের। সোমবার আমেরিকার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে পৃথিবীর ২৬টি দেশের ২৭০ জন গবেষক ও সমাজকর্মী উইঘুরদের ওপর অত্যাচার নিয়ে সারা পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যৌথ বিবৃতি দেন। সেখানেই আনা হয়েছিল মিহিরগুল তুরসুনকে।
‘অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছিল। আমি বারবার আমাকে মেরে ফেলতে ওদের কাছে অনুরোধ করেছি’, জানিয়েছেন মিহিরগুল। একই সঙ্গে তিনি সামনে এনেছেন তার ওপর চলা ভয়াবহ অত্যাচারের বিবরণ। ২০১৫ তে দেশে ফেরার পর তাকে তিন মাসের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল বন্দিশিবিরে। এই সময়েই মারা যায় তার কনিষ্ঠ সন্তান। শুধু তাই নয়, বাকি দুই সন্তানের ওপরও বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন মিহিরগুল। দুই বছর পর তাকে ফের আটক করা হয় বন্দিশিবিরে। কয়েক মাস বন্দি রেখে নিরন্তর অত্যাচার চালানো হত তাঁর ওপর। ছেড়ে দেওয়ায় সাত মাস পর আবার বন্দি করা হয় তাকে। এই দফায় তাকে বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছিল তিন মাসের জন্য।
বন্দিদশায় তাকে বিভিন্ন অজানা ওযুধ খেতে বাধ্য করা হত বলে জানিয়েছেন মিহিরগুল। এই ওষুধ খেয়ে অনেক সময়ই জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন তিনি। যে কক্ষে তাকে রাখা হয়েছিল, সেখানে তিন মাসের মধ্যে ন’জন মহিলা মারা গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সেখানে ক্যামেরার সামনে তাকে মলমূত্র ত্যাগ করতে হত। চীনের কম্যুনিস্ট পার্টির স্তুতিতে গান করতে বাধ্য করা হত যখন তখন। তার কথায়, ‘এক দিন আমাকে ন্যাড়া করে হেলমেটের মতো কিছু একটা পরিয়ে ইলেকট্রিক চেয়ারে বসানো হয়। শক দেওয়ার সময় ভীষণ ভাবে কাঁপছিলাম আমি। যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ছিল আমার শিরা আর ধমনীতে। তার পর আর কিছু মনে নেই। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। শুধু মনে আছে, আমি উইঘুর বলে ওরা আমাকে গালি দিচ্ছিল।’
এর পর সন্তানদের নিয়ে মিশর যাওয়ার অনুমতি পান মিহিরগুল। কায়রো পৌঁছেই মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ করে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি। তাকে আশ্রয় দেয় আমেরিকা। এই মুহূর্তে তিনি বসবাস করেছেন আমেরিকার ভার্জিনিয়ায়। ভুলে যেতে চান নিজের পিতৃভূমির ভয়াবহ স্মৃতি। সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com