বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৪০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
পাঁচ ভাইয়ের এক বউ! কালের খবর নানা আয়োজনে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন উদযাপন। কালের খবর বোয়ালমারীতে স্বেচ্ছাসেবকলীগের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত বেগমকে ঘর দেয়ার আশ্বাস। কালের খবর নবীনগরে আবারো আধিপত্য বিস্তারে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ। কালের খবর মুন্সীগঞ্জ লৌহজংবাসী পদ্মার রাক্ষুসে থাবায় দিশেহারা। কালের খবর তাড়াশে মহেশরৌহালী গ্রামের প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের বেহাল দশা। কালের খবর মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে ডুবেছে গ্রামের পর গ্রাম। কালের খবর সাংবাদিকরা পারে ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করতে : তথ্যমন্ত্রী। কালের খবর নবীনগর আঞ্চলিক কথা গ্রুপের উদ্যোগে দুটি অসহায় পরিবারের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান। কালের খবর
নরসিংদীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ ক্লিনিক। কালের খবর

নরসিংদীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ ক্লিনিক। কালের খবর

নরসিংদীতে অবৈধ ক্লিনিকের ছড়াছড়ি
নরসিংদী ব্যুরো অফিস, কালের খবর :
নরসিংদীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসবের অধিকাংশের নেই অনুমতিপত্র।

বেশির ভাগ ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকেন না। নেই প্রশিক্ষিত সেবিকা ও প্যাথলজিস্ট। এ ছাড়া অভিযোগ উঠেছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রক্ত, মলমূত্র, কফসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন অদক্ষ কর্মীরা। তাই প্রায়ই এসব পরীক্ষার বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেবা নিতে এসে রোগীরা নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে অনুমোদনহীন বা নবায়নহীন অথবা পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় জরিমানা করেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় উপজেলায় ৪৮টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ৭৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এদের মধ্যে শুধু সদর উপজেলায় বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৩৬টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৪৪টি। তবে বেসরকারি হিসাব মতে, সংখ্যা কিছু বেশি হতে পারে।

এর মধ্যে বেশির ভাগ হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমতিপত্র নেই। যেগুলোর অনুমতিপত্র আছে, তার মধ্যে বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্র নবায়ন করা হয়নি। সম্প্রতি অনলাইনে অনুমোদনপত্র ও নবায়নের আবেদন নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রটি আরো জানায়, ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন বিধিমালার অন্যতম শর্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিতে নির্দিষ্ট শয্যা (১০/১৫/২০) থাকতে হবে। একটি প্যাথলজি বিভাগ, একটি তথ্যসেবা দানকেন্দ্র থাকতে হবে। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্য তালিকার বিলবোর্ড থাকতে হবে, আগত রোগীদের জন্য একটি অপেক্ষমাণ কক্ষ থাকতে হবে, আলাদা আলাদা নমুনা সংগ্রহের জায়গা থাকতে হবে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড-কেবিন ও টয়লেট থাকতে হবে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক একটি দায়িত্বরত চিকিৎসক, তিনজন সেবিকা ও একজন টেকনোলজিস্ট থাকতে হবে।

কালের খবর’র  সন্ধানে দেখা যায়, অনুমোদনহীনসহ বেশির ভাগ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বিধিমালার বেশির ভাগ শর্ত মানা হয়নি। হাসপাতালগুলোতে দিনের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে (কয়েক ঘণ্টার জন্য) সেবিকা ও টেকনোলজিস্ট পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকের দেখা মেলা ভার। তাই বেশির ভাগ সময় চিকিৎসকের কাজ করানো হচ্ছে সেবিকা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের দিয়ে। এমনকি কোনো কোনো সময় একজনই একসঙ্গে চিকিৎসক, সেবিকা ও টেকনোলজিস্টের দায়িত্ব পালন করেন।

এ বিষয়ে শিবপুরের আবদুল আলী বলেন, ‘আমি নরসিংদী শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমার স্ত্রীর রক্ত পরীক্ষা করাই। পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়, আমার স্ত্রীর ক্যান্সার হয়েছে। পরে ঢাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলে দেখা যায়, তাঁর এ ধরনের কিছুই হয়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি রিপোর্টে যে চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সিলমোহর দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া আর রক্ত পরীক্ষাটি কোনো চিকিৎসকের মাধ্যমে হয়নি। ’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কমিশন চুক্তিতে এসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হয়। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি নষ্ট কিংবা নেই এমন অজুহাতে রোগীদের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান। আর এই সুযোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করে। যদি ভুলে কেউ অন্য কোনো হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সেবা নেয় তাহলে বিভিন্ন ত্রুটির অভিযোগে ফের নির্দিষ্ট জায়গা থেকে পরীক্ষা করাতে হয়।

নরসিংদী ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও হলি ক্রিসেন্ট প্রাইভেট হাসপাতালের পরিচালক নোমান মো. সনেট বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগে। অথচ এ প্রতিষ্ঠানগুলোর আরেক নাম হচ্ছে হয়রানি। আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় যে অভিযান চালানো হয়, সেটা প্রতিনিয়ত হওয়া দরকার। ’

নরসিংদী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু কাউছার সুমন বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন অনলাইনের মাধ্যমে দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। আমরা তদারক করি। তবে লোকবল একেবারে কম থাকায় তা সব সময় করা সম্ভব হয় না। মাসে এক-দুইটা হাসপাতাল তদারক করার সুযোগ হয়। এ ক্ষেত্রে আলাদা একটি ফোর্স করা দরকার। ’

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সরকারি চিকিৎসকদের সঙ্গে ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কতটুকু সম্পর্ক আছে, আমার জানা নেই। তথ্য-প্রমাণ ও লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com