সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলির বিরুদ্ধে কাজ না করে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ এর গুঞ্জন পা দিয়ে লিখে চতুর্থবার জিপিএ-৫ পেলেন তামান্না। কালের খবর মৌলভীবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের নিবন্ধন পত্র গ্রহণ। কালের খবর পুলিশ সম্মেলন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ ৬ জন নিউ ইয়র্কে যাবেন। কালের খবর বাঘারপাড়ায় নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান। কালের খবর বিএমএসএফ ঢাকা জেলার সদস্য গোলাম রাব্বানীর মরদেহ সোনারগাঁওয়ে উদ্বার। কালের খবর মাদকসেবিদের উৎপাত ঠেকাতে আখাউড়ায় তল্লাশি চৌকি বসছে। কালের খবর কুমিল্লায় সাংবাদিক জিতুকে হত্যার হুমকি, বাসায় প্রবেশ করে গুলিবর্ষণ। কালের খবর চট্টগ্রামে বিনা নোটিশে শতশত স্থাপনা ধ্বংস বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন জনজীবন ব্যাহত। কালের খবর দেবিদ্বারে ৩৩ টি প্রাইভেট হাসপাতাল- ডায়োগনেষ্টিক সেন্টারের ১৭ টি পরিদর্শন। কালের খবর
সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২০ সালে ৬,৬৮৬ জনের মৃত্যু। কালের খবর

সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২০ সালে ৬,৬৮৬ জনের মৃত্যু। কালের খবর

কালের খবর ডেস্কঃ  করোনায় প্রায় দুই মাস বাসসহ পরিবহন বন্ধ থাকলেও ২০২০ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬ হাজার ৬৮৬ জন। এ সব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৬০০ জন যাত্রী। শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

২০২০ সালে দেশে বিচ্ছিন্নভাবে ৪ হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই সময় দেশে রেলপথে ৩২৩টি দুর্ঘটনায় ৩১৮ জন নিহত হয়েছেন ও আহত হয়েছেন ৭৯ জন। নৌপথে ১৮৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১৩ জন ও আহত হয়েছেন ৩৪২ জন এবং নিখোঁজ হয়েছেন আরও ৩৭১ জন।
সড়ক, রেল, নৌ-পথে সর্বমোট ৫ হাজার ৩৯৭ টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩১৭ জন নিহত এবং ৯ হজার ২১ জন আহত হয়েছেন।

২০১৯ এর তুলনায় ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯-এর তুলনায় ২০২০ সালে ১২ শতাংশ দুর্ঘটনা কমেছে। কিন্তু এটাকে কম বলা যাবে না। কারণ, করোনায় দুই মাসের বেশি সময় গণপরিবহন বন্ধ ছিল। সে হিসেবে ২০২০ এ সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে সড়কে মারা গেছে ৭ হাজার ৮৫৫ জন। ২০২০ সালে মারা গেছে ৬ হাজার ৬৮৬ জন।
২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ নসিমন মাহিন্দ্রা-লেগুনায়, ১ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ০ দশমিক ১৯ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাসে দুর্ঘটনা বেড়েছে। এদিকে গত বছরের তুলনায় বাস-ট্রাকে দুর্ঘটনা কমেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাসে ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা কমেছে। একইভাবে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-লরিতে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে এবং ০ দশমিক ৮৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দুর্ঘটনা কমেছে।

পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে। একইভাবে, বেপরোয় গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হায়িয়ে খাদে পড়ার ঘটনা ০ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ ০ দশমিক ১৬ শতাংশ কমলেও মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ২৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে এবং ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। ২০১৯ সালের চেয়ে বিদায়ী বছরে আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও জাতীয় মহাসড়কে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, লেভেল ক্রসিং এ ০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ফিডার রোডে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার ১৫টি কারণ তুলে ধরেছে। সেগুলো হলো- বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তার ত্রুটি, ফিটসেববিহীন যান, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার, মাসক সেবন করে গাড়ি চালানো, ফিডার রোড থেকে হঠাৎ মহাসড়কে উঠে আসা, ফুটপাত দখলে থাকা বা ফুটপাত না থাকা, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ না থাকা, ছোট যানের বৃদ্ধি, সড়কে চাঁদাবাজি, রাস্তার পাশে হাটবাজার এবং ত্রুটিপূর্ণ যান রাস্তায় নামানো। এসব সমস্যা সমাধান করে ১২টি সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এর আগে, করোনার বছর ২০২০ সালে প্রায় দুই মাস বাসসহ পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে চার হাজার ৯৬৯ জনের। এ সময়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে চার হাজার ৯২টি। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৫ হাজার ৮৫ জন। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এতে সড়ক দুর্ঘটনার ১৩টি কারণও তুলে ধরা হয়।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com