সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সুন্দরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর বই পাচারের মুলহোতাদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন। কালের খবর  সুন্দরগঞ্জ পরিত্যক্ত পুরাতন বাঁধ কেটে নতুন বাঁধ ভরাটের দাবিতে মানববন্ধন। কালের খবর তরুণদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে– রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। কালের খবর নবীনগরে পাওনা টাকার জের ধরে সাংবাদিকের উপর হামলা,আটক দুই। কালের খবর স্ত্রীর দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন। কালের খবর বোয়ালমারীতে ভগ্নিপতির আক্রমণে শ্যালকসহ আহত ৩। কালের খবর ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কালের খবর কর ন্যয্যতার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত। কালের খবর নকল-ভেজাল আর নিম্নমানের ঔষধে ঠকছে যশোরের মানুষ। কালের খবর সখীপুরে প্রয়াত সাংসদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত। কালের খবর
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ৩১ বেডের সীমিত জনবল দিয়েই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ৩১ বেডের সীমিত জনবল দিয়েই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি,  কালের খবর  :

২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর। আজ থেকে প্রায় ৬ বছর আগের কথা। সাধারণ মানুষদের কাছে সরকারি চিকিৎসাসেবার মান আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করণ করা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও আজো অবধি সেই সুযোগ সুবিধার ছোঁয়া এই কমপ্লেক্সে লাগেনি। উপরন্তু ৩১ বেডের সীমিত জনবল দিয়েই খুড়িয়ে খুড়িয়ে স্বাস্থ্য সেবা কোনো মতে চলছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ এটিএম আনোয়ার গাজী জানান, হাসপাতালটিতে বর্তমানে ডাক্তার আছেন মোট ১৩ জন। এর মধ্যে ৪ জন ডাক্তার রয়েছেন ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত। এরা হলেন- ডা. আহমেদ শিবলী মহিউদ্দিন। তিনি প্রেষণে রাজনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। ডা. শুভ্রাংশু শেখর দে তিনি বড়লেখা হাসপাতালে প্রেষণে কর্মরত। ডা. মিনাক্ষী দেব নাথ তিনি মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন অফিসে (এম ও সি এস) পদে কর্মরত প্রেষণে আছেন। মেডিকেল অফিসার হোমিও ডা. মঈন উদ্দিন আহমেদ মামুন ডেপুটেশনে ঢাকা মিরপুর হোমিও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ দিন কাজ করেন। আর সপ্তাহে একদিন মাত্র শুধু বৃহস্পতিবারে শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে ডিউটি পালন করে আসছেন।
তিনি আরো জানান, হাসপাতালটিতে রয়েছে-অন্ত:বিভাগ, বর্হি:বিভাগ ও প্রসূতি বিভাগ। চিকিৎসা নিতে প্রতিদিনই শহরের মানুষ ও চা বাগানের শ্রমিক এবং উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারী, পুরুষ, প্রসূতি মা ও শিশুদের ভিড় লেগেই থাকে। এর মধ্যে মাত্র ৯ জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতাল চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া প্রসূতি বিভাগে মাসে ২৫/৩০ টি অপারেশন হয়। এর জন্য দুইজন ডাক্তারকে সেখানে সময় দিতে হয়।

বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির কোনো সু-ব্যবস্থা নেই। যেটি আছে তাতে আয়রনযুক্ত পানি। এই পানি ব্যবহারের অনুপোযোগী। নাসিং ডরমেটরিও জরাজীর্ণ অবস্থায়। নেই আধুনিক ওষুধ রাখার স্টোরও। পুরাতন যেটি আছে তাতে স্থান সংকুলান হয় না।
আলটাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও সনোলজিষ্ট না থাকায় এটি ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে মূল্যবান এ মেশিনটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। এক্সরে মেশিন থাকলেও সেটি পুরোপুরি নষ্ট। সে কারণে এক্সরে টেকনোলজিষ্ট আবু সাঈদ সম্প্রতি হবিগঞ্জ বদলী হয়ে চলে যান। প্রসূতি বিভাগের ওটিতে বিদ্যুৎ ও আইপিএস লাইন নেই।সে কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি ও চার্জারের আলোতে সিজার করতে হয়।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় হঠাৎ হাসপাতালের বিদ্যুৎ চলে যায়। আসে রাত একটায়। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতালে আসা আমেনা,মরিয়ম ও শাহেদার প্রসব ব্যথা উঠে। তাদের ডেলিভারি করানো হয়। রাত ১০টার পর থেকে চার্জারের আলো কমতে শুরু হলে অন্য দুই প্রসূতি ফাতেমা ও শরিফার সন্তান জন্মের জন্য মোমবাতি জ্বালিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন চিকিৎসকরা।
এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক আর এম ও মোহাম্মদ মহসীন জানান, সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চলে যাওয়ার পরই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করেছিলাম। কিন্তু বিদ্যুৎ আসে রাত একটায়। তাই চার্জারের আলোতে ডেলিভারি করাতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে জেনারেটর ও আইপিএস থাকলেও লেবার ওয়ার্ডে সংযোগ নেই।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম প্রকৌশলী শিবু লাল বসু জানান, ঝড়ে কোথায় লাইন নষ্ট হয়েছিল এটা খোঁজতে সময় লেগেছে।

তবে উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, ‘দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হাসপাতালে যখন কারেন্ট চলে যায় তখন মোমবাতি আর টর্চ লাইট দিয়ে অপারেশন করতে হয়। ওই দিন ৪/৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। রোগীর মোমবাতির আলোয় স্যালাইন পুশ করতে সুই দিতে অসুবিধা হয়। রক্তনালী খোঁজে পাওয়া যায় না। তবুও আমরা সফলভাবে সিজার করতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘গত বছরে প্রসূতি বিভাগে ২৯৬ জনকে সিজার করা হয়। নরমাল ডেলিভারি করানো হয় ১ হাজার ২১৫ জনকে। নতুন বিল্ডিংয়ে প্রসূতি বিভাগে আইপিএস কানেকশান নেই। জেনারেটর একটি আছে। বছরাধিকাল ধরে এটির ডায়নামা নষ্ট। তাছাড়া ইর্মাজেন্সি মেডিকেল অফিসার নেই শুরু থেকেই। অন্ত: বিভাগে মেডিকেল অফিসার নেই। পর্যাপ্ত ক্লিনার নেই। যারা আছেন তারা বয়স্ক।’
তিনি আরো বলেন,‘৫০ বেড এখন পর্যন্ত শুধু নামেই। সে মানদণ্ডে অন্ত: ও বহি: বিভাগে ডাক্তারদের পদ সৃজন হয় নাই। মানুষ এখন অনেকটা সচেতন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ও প্রসূতি সেবা নিতে সবসময় ভিড় লেগেই আছে। তবুও আমরা সাধ্য মতো চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’
শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরাজমান সমস্যার বিষয়গুলো শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যার কথা কেউ বলে নাই। বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প হিসেবে আইপিএসের জন্য আবেদন করলে ব্যবস্থা নিব।’

………….দৈনিক কালের খবর  

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com