মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
আতাউস সামাদ ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান তাড়াশ চলন বিলে নৌকা ভ্রমণের নামে চলছে অশ্লীলতা!। কালের খবর ডেমরায় আঞ্জুমান আরা মিতু হত্যার রহস্য উম্মোচন চ্যাম্পিয়ন চা-পাতা দিয়ে তৈরী চা মাসে ৭৫ হাজার টাকা বিক্রি করে স্বাবলম্বী আনোয়ারা। কালের খবর “নবজাগরণ “( নসাস) আত্মপ্রকাশ : আহবায়ক অলিদ তালুকদার ও সদস্য সচিব এডভোকেট স্বপ্নীল। কালের খবর ফিলিপাইন জাতের আখ চাষে চেয়ারম্যানের সফলতা। কালের খবর জাতিসংঘে এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। কালের খবর প্রথম ধাপের ১৬১ ইউপি নির্বাচনের প্রচারণা শেষ। কালের খবর যশোরে গ্রাম ডাক্তার কল্যান সমিতির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। কালের খবর শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানে হট্টগোল : মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর রাগ উগড়ে দিলেন এমপি মনু। কালের খবর
তরুণ প্রকৌশলী সানি হত্যার চার বছর, হত্যাকারীরা অধরা

তরুণ প্রকৌশলী সানি হত্যার চার বছর, হত্যাকারীরা অধরা

 

 


কালের খবর, ঢাকা :

ঘরের আসবাবপত্র যেমন ছিল তেমনি আছে। খাটঘেঁষা কাঠের আলমারি, পাশেই পড়ার টেবিল চেয়ার সেখানে বই-খাতা-কলমও আছে। সোফাসেট সংলগ্ন টেবিলে হেলানো অবস্থায় আছে প্রিয় গিটারটি যা ছিল সানির খুব প্রিয়। দেওয়ালের এ মাথা থেকে ওমাথা সারিবদ্ধভাবে ঝুলছে ফ্রেমবন্দি ছানি। থরে থরে সাজানো আছে তার বসন-ভূষণ। কিন্তু সানি নেই।
২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে হোন্ডার উপর বসা অবস্থায় সন্ত্রাসীরা আচমকা গুলি করে। বুকের বাম দিকে গুলি লেগে ভেন ছিরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ল্যাবএইড হাসপাতালে ইর্মাজেন্সিতে নিয়ে গেলেও চিকিৎসা শুরুর আগেই সানি (২৫) মারা যান। প্রকৌশলী কাজী সাদ বিন হোসেন সানি হত্যার চার বছরপূর্ণ হলো আজ। কিন্তু অদ্যবধী অপরাধীরা সনাক্ত বা গ্রেফতার হয়নি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবারের সদস্যরা।
এক ভাই এক বোনের মধ্যে সানি ছিলেন বড়। বাবা-মায়ের আশা ভরসা সবই হারিয়ে যায় সানির অকাল মৃত্যুতে। বাবা-মা, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সানির রেখে যাওয়া স্মৃতি হাতড়িয়ে বেড়ান। তরুণ প্রকৌশলী কাজী সাদ বিন হোসেন সানির বাসায় যাওয়ার পর সানির কক্ষে এমন দৃশ্যই দেখা যায়।
রাজধানীর কলাবাগান থানার আওতাধীন চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরপরই খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী। সানি হত্যার পর শোকবাণীও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এখনো পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। কারণ, তিনিই রাজনৈতিক অভিভাবক।
সানির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হত্যার চার বছর পেরিয়ে গেলেও খুনিরা আজও ধরা পড়েনি। এমনকি উদ্ধার করাও সম্ভব হয়নি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাদা রঙয়ের প্রাইভেট কার ও অস্ত্র।
সানির বাবা কাজী শওকত হোসেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সেই সাথে তিনি একজন লেখক এবং কলামিস্টও। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নিবেদিত ত্যাগী কর্মী হিসেবে সুনাম রয়েছে কাজী শওকতের।
ছেলে হত্যার বিষয়ে জানতে তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, জীবনে সৎ এবং আদর্শবান থেকে কী লাভ হলো? সানিকেও একজন সৎ শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছিলাম। সে খুব মেধাবী ছিল। চাকরি করত, সৎ জীবনযাপন করত, পরোপকারী ছিল। খালুর বাসা ধানমন্ডি ৭/এ-তে। ওই বাসার নিচে সন্ত্রাসী এসে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে- খালাতো ভাই রনির এমন ফোন পেয়ে সানি সেখানে ছুটে যায়, বেইলি রোডে বন্ধুদের সাথে আড্ডা থেকে। রাস্তায় খালুর সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। সানি পুলিশকে খবর দেওয়ার কথা বলেছিল। খালু পুলিশকে ফোন করেছিল। একটু পরেই বারান্দায় উঁকি দিয়ে কাউকে না দেখে পুলিশকে ফোন দিয়ে আসতে বারণ করে। খালাতো ভাই, খালাতো বোন, বোনের জামাই, খালা সবাই সানির সাথে ফোনে কথা বলে আসতে বলে।
স্মৃতিচারণ করে বাবার বিশ্লেষণ, সানিরও একা যাওয়া ঠিক হয় নাই, এটাই ছিল বড় ভুল। সন্ত্রাসীরা অনেকদিন আগে থেকেই ডাক্তার খালু এবং তার পরিবারকে চাঁদা দাবি করে এবং উত্ত্যক্ত করে আসছিল ডাক্তার খালাতো বোনকে। ওই পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল অনেকদিন থেকেই। পুলিশে অভিযোগ করে, মামলা করেও কোনও লাভ হয় নাই।
‘কিন্তু সানিকে তারা (হত্যাকারী) চিনতো না, কোনও পরিচয়ও ছিল না। সানি উপস্থিত হওয়ায় ঘটনার শিকার।’
জানা গেছে, মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগেই স্বপরিবারে ইমিগ্রেন্ট হয়েছিল, আমেরিকা চলে যাওয়ার, সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। সানি আমেরিকাতে এমএস করতে ছোট বোনও আমেরিকাতে বিবিএ করার জন্য মা-বাবাকে সাথে নিয়ে চলে যাওয়ার সব আয়োজনই সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু এক মুহূর্তেই সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেল। গোটা পরিবারই সানিকে হারিয়ে অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে।
কলাবাগান থানার পুলিশ প্রথমে তদন্ত করেছে। পরে র্যাব-২ তদন্ত করেছে। মাদকাসক্ত ডাক্তার নাজিম ও ড্রাইভার আসাদুলকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে তারা জামিন নিয়ে বেরিয়ে যায়। মামলাটি বর্তমানে ডিবিতে আছে।
ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তা দীপক সাহার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন দুই আসামির নাম ঠিকানা ও ছবি সানির বাবাকে দেখিয়েছে এক বছর আগে। আসামি ধরার কথা বলার পরও আজ পর্যন্ত তাদের ধরা হয় নাই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমান মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সানি হত্যার সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জানানোর কথা বলেছিল লিখিতভাবে। কিন্তু হয়নি।
সানির পরিবার জানায় স্বারষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিবি প্রধান কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামকে ও বর্তমান ডিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান আব্দুল বাতেনকে বলার পরও আজ পর্যন্ত আসামিদের ধরা যায়নি।
সানির খুনিরা ধরা পরবে কিনা তা অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে তার পরিবার।
তবে তারা চাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি। যাতে সানির খুনিরা ধরা পড়ে। মুখোমুখি হয় বিচারের। আর কোনও বাবা-মাকে অকালে হারাতে না হয় বুকের ধনকে।

কালের খবর -/কে/কে

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com