শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হরমোন দিয়ে পাকানো হচ্ছে অপরিপক্ব টমেটো!। কালের খবর ৫০ বছর পর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই মাঠে জন সমুদ্রে শেখ হাসিনা। কালের খবর নিউমুরিং হতে অপহরণ হওয়া শিশুটি কে লক্ষীপুর জংগল থেকে উদ্ধার : প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিসি শাকিলা। কালের খবর নবীনগরে সাংবাদিক বাবুলকে প্রাণনাশের হুমকির অডিও ভাইরাল, প্রশাসন নিরব। কালের খবর গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপিসহ ৮ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন। কালের খবর ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছাস আর প্রাণচাঞ্চল্য। কালের খবর খনি শিল্পে কর ন্যায্যতার দাবীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ। কালের খবর টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ী ক্রিকেটার রাজু গ্রেফতার। কালের খবর মায়ের কিডনি নিয়ে বাঁচতে চায় ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। কালের খবর সীতাকুণ্ডে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন। কালের খবর
৭ মার্চ কেন জাতীয় দিবস নয় : হাইকোর্ট

৭ মার্চ কেন জাতীয় দিবস নয় : হাইকোর্ট

ফাইল ছবি

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যুগান্তকারী ভাষণের স্মারক হিসেবে দিনটি অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

ঐতিহাসিক ওই দিনটিকে কেন জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হবে না ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, যেখানে সেদিন বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে কেন তার ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, অর্থ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব, গণপূর্ত সচিব, সংস্কৃতি সচিবকে উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করেছেন আদালত।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে আইনজীবী ড. বশীর আহমেদ নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অবন্তী নূরুল।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চ ভাষণ দিয়েছিলেন, মঞ্চটি পুনর্নির্মাণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ৭ মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে কেন ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রুলে বলা হয়েছে একাত্তরের ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্থানে ও যে মঞ্চে ভাষণ দিয়েছিলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধীকে যেস্থানে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল, সে স্থানে কেন মঞ্চ পুনর্নির্মাণ করা হবে না।

একই সঙ্গে ৭ মার্চ তর্জনি উঁচিয়ে স্বাধীনতায় উদ্বুদ্ধকরণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ভাস্কর্য ওই মঞ্চে কেন করা হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আগামী ১২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন এ রুলের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা জানিয়ে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদ ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা ও যে মঞ্চে বঙ্গবন্ধু এ ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই মঞ্চে তার আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মাণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করেন।
আদালতের শুনানিতে বশির আহমেদ বলেন, ‘১৯৫টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুপ্রিম কোর্ট দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে বিভিন্ন আদেশ দিয়েছেন। এ কারণে আমি এ রিট দায়ের করেছি’।

‘বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ যে স্থনে ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে মঞ্চ নির্মাণ করতে হবে’। তখন আদালত বলেন, ‘বললে তো অনেক কথা চলে আসে। যে মঞ্চটায় বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন কিংবা যে জায়গায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পন করেছিল, বা আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমর্পন করেছিলেন, যেখানে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল, সে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো যেন না থাকতে পারে সেজন্য সেখানে করা হল শিশুপার্ক।’

এ সময় আইনজীবী বশির আহমেদ বলেন, ‘আগ্রার তাজমহল সংরক্ষণের বিষয়ে তদারকি করতে ছুটির দিনে দেশটির ফুলকোর্ট বসে আদেশ দিয়েছিলেন। আমাদের বিষয়েও আদেশ হতে পারে। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প নেয়া যেতে পারে।’

এরপর আদালত বলেন, ‘ভারতে তো অফিসিয়াল সম্বোধন আছে, ‘জয় হিন্দ’। আমাদের এখানে কোনো সম্বোধনই তো নাই। আমাদের এখানে ছিল ‘জয় বাংলা’। এখন ‘জয় বাংলা’ বললে মনে করে রাজনীতিবিদ। ওয়ান পার্টি স্লোগান।’

সাড়ে চার দশক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ৭ কোটি বাঙালিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তিনি ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। তার ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পরাজিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের ৭৭টি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com