বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বর্জ্য দূষণ ও দখলে বিপর্ণ কর্ণফুলী নদী। কালের খবর সখীপুরে পুলিশ কর্মকর্তাকে থাপ্পড় দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার। কালের খবর ধীরগতির উন্নয়নে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ৬ লেন সড়কে চলাচলকারীদের ভোগান্তি চরমে রাজশাহীতে সাংবাদিক সমাবেশ : অবিলম্বে গাজীসহ কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি। কালের খবর আতাউস সামাদ ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান তাড়াশ চলন বিলে নৌকা ভ্রমণের নামে চলছে অশ্লীলতা!। কালের খবর ডেমরায় আঞ্জুমান আরা মিতু হত্যার রহস্য উম্মোচন চ্যাম্পিয়ন চা-পাতা দিয়ে তৈরী চা মাসে ৭৫ হাজার টাকা বিক্রি করে স্বাবলম্বী আনোয়ারা। কালের খবর “নবজাগরণ “( নসাস) আত্মপ্রকাশ : আহবায়ক অলিদ তালুকদার ও সদস্য সচিব এডভোকেট স্বপ্নীল। কালের খবর ফিলিপাইন জাতের আখ চাষে চেয়ারম্যানের সফলতা। কালের খবর
তাবলিগ জামাতে ফেতনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা !

তাবলিগ জামাতে ফেতনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা !

কালের খবর : বিশ্বব্যাপী দ্বীনি দাওয়াত ও তালিম-তারবিয়তের কাজ করে আসছে তাবলিগ জামাত।
গত কিছুদিন ধরে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার ও তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভির কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের সঙ্গে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়।

দারুল দেওবন্দের মতপার্থক্যের কারণে বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান এবং বিশ্বের অনেক দেশের আলেম ওলামাগণ মাওলানা সাদের বিতর্কিত আপত্তিকর বক্তব্যের প্রকাশ্য রুজুনামা কামনা করছে। দিনকে দিন এ রুজুনামাকে কেন্দ্র করে দাওয়াত ও তাবলিগের কার্যক্রম বাধা গ্রস্তে হচ্ছে।
মাওলানা সাদ ইস্যুতে তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ও জিম্মাদার থেকে শুরু করে সাধারণ মুসল্লি পর্যন্ত দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশের ওলামারা আন্তরিক প্রচেষ্টা করেও সমাধানে পৌছাতে পারছেন না।

তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরব্বি ও দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভিকে ঘিরে চলমান সংকটের রেশ ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে। এতে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ, তেমনি উদ্বেগ বাড়ছে উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলিমদের মনে।

কারণ তিনি বার বার রুজু করার পর আবার স্বমতে ফিরে যাওয়ায় তাবলিগের মুরব্বি, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আলেম-ওলামাদের মধ্যে ইসলামের শরিয়ত থেকে তার ছিটকে পড়া এবং তাবলিগ জামাতে ফেতনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা বাড়ছে।

এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে বাড়ছে জটিলতা। তৈরি হচ্ছে পক্ষ-বিপক্ষ। উভয় পক্ষ ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। যে কারণে তাবলিগ জামাত নিয়ে দিন দিনে উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে।

দ্বিধাবিভক্ত তাবলিগের অনুসারীদের মধ্যে মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা যেমন ‘হজরতজিকে (মাওলানা সাদ) না মানলে দেওবন্দের সিদ্ধান্ত মেনে না নেয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে; অন্যদিকে মাওলানা সাদ প্রকাশ্যে তাঁর আপত্তিকর বক্তব্য থেকে রুজু না করলে তাবলিগের কোনো কাজে তাকে সমর্থন ও সহযোগিতা না করে বয়কট করার অবস্থান স্পষ্ট করছে ওলামায়ে কেরাম। এ নিয়ে তাবলিগের অনুসারীদের মধ্যে বাড়ছে বড় ধরনের ফেৎনার আশংকা।

দারুল উলুম দেওবন্দ গত ৩১ জানুয়ারি মাওলানা সাদ কান্ধলভির রুজুনামার ব্যাপারে যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে তাতে এমন আশংকাই প্রকাশ পেয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে-

‘আমরা মনে করি, আকাবিরদের চিন্তা ও আদর্শ থেকে সামান্য বিচ্যূতিও তীব্র ক্ষতির কারণ। মাওলানাকে অবশ্যই নিজ বয়ানে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পূর্বসূরীদের পথ এড়িয়ে শরিয়তের ভাষ্য থেকে নিজস্ব ইজতিহাদের (মতামত বা চিন্তা-চেতনার) এই ধারাবাহিকতা বন্ধ করতে হবে।

কেননা মাওলানার এই নিজস্ব ইজতিহাদ দেখে আমাদের মনে হচ্ছে, আল্লাহ না করুন! তিনি এমন একটি দলের সৃষ্টি করছেন, যা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত তথা পুণ্যাত্মা পূর্বসূরীদের মতাদর্শ বিরোধী হয়ে যায়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আকাবির-আসলাফের পথের ওপর অবিচল রাখুন।’

দারুল উলুম দেওবন্দের এ ঘোষণা ওলামায়ে কেরামের ভেতর নতুন ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরামও এ বিষয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দেওবন্দের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেছেন, ‘মাওলানা সাদ কান্ধলভির উচিৎ দ্বীনি কাজের ব্যাপারে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে আকাবির ও আসলাফের মত ও পথে ফিরে আসা।

মাওলানা সাদ কান্ধলভি তার আপত্তিকর মন্তব্য থেকে রুজু করার পর বিভিন্ন স্থানের বক্তব্যে পুনরায় স্বমতে ফিরে আসা এমনকি তা প্রচারে নিয়োজিত হচ্ছেন। যা বিশ্ব ওলামায়ে কেরামকে চিন্তাগ্রস্ত করেছে। এভাবে তাঁর রুজু করার পর স্বমতে ফিরে যাওয়া বিশ্ব আলেমদের শংকার কারণ।

উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছর ধরে দেওবন্দসহ বিশ্ব ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে মাওলানা সাদ কান্ধলভির আপত্তিকর বক্তব্যের কারণে মত পার্থক্য চলে আসছে। যার ফলে ২০১৭ সালে আপত্তির মুখে বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারলেও ২০১৮ বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসা সত্ত্বেও তিনি ইজতেমা মাঠে যেতে পারেননি।

ব্যক্তি মাওলানা সাদ ইস্যুতে তৈরি হয়েছে পক্ষ-বিপক্ষ। যার ধারা অব্যাহত রয়েছে জেলাভিত্তিক আঞ্চলিক ইজতেমাগুলোতে। মাওলানা সাদের পক্ষ অবলম্বনকারীদেরকে দেশের জেলা ইজতেমাগুলো অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে ওলামাদের স্বাক্ষরিত চিঠি যাচ্ছে বাংলাদেশের তাবলিগ জামাতের মারকাজ কাকরাইলে।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com