রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
স্ত্রীর যৌতুক মামলায়,ব্যাংক কর্মকর্তা রাশেদের শেষ রক্ষা মিলেনি বাকলিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার। কালের খবর নবীনগর থানা প্রেস ক্লাবের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে কমিটি গঠন, সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক রুবেল। কালের খবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত। কালের খবর ঘিওরে কৃষকদের মানববন্ধনে নিয়মিত বর্ষা ও জলবায়ু সুবিচারের জোরালো দাবি। কালের খবর বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই চট্টগ্রামের অভূতপূর্ব উন্নয়ন : খোরশেদ আলম সুজন। কালের খবর “ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ক্লাব এন্ড হিউম্যান রাইটস” এর কেন্দ্রীয় কমিটির চূড়ান্ত প্রার্থিতা গ্রহণ। কালের খবর জগন্নাথপুরে প্রাথমিক শিক্ষক মদপান করে সাজা ভোগ করায় এলাকায় ক্ষোভ। কালের খবর ময়মনসিংহ বিআরটিএ টাকা ছাড়া কাজ করেন না সহকারী পরিচালক এস এম ওয়াজেদ, সেবাগ্রহীতারা অসন্তোষ। কালের খবর হাইকোর্টের রায় : মোটরযানে বিজ্ঞাপনের জন্য ফি নিতে পারবে না বিআরটিএ। কালের খবর অবশেষে চালু হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত হাট, তাজা মাছের চাহিদা ভারতের। কালের খবর
অবৈধ দখলে মেঘনা গ্রুপ গিলে খাচ্ছে মেঘনা নদী। কালের খবর

অবৈধ দখলে মেঘনা গ্রুপ গিলে খাচ্ছে মেঘনা নদী। কালের খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের খবর :

মেঘনা গ্রুপের নদী চুরি নিয়ে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ‘মেঘনা গ্রুপের পেটে নদী’ শীর্ষক শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে।

একই সঙ্গে সর্বত্রই আলোচনা হয়েছে মেঘনা গ্রুপের নদী দখলের প্রসঙ্গ। বছরের পর বছর প্রভাব খাটিয়ে ও মিডিয়া ব্যবহার করে মেঘনা গ্রুপ যেভাবে নদী গিলে ফেলেছে তার চিত্র ফুটে উঠেছে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনে।

কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে গিয়ে মেঘনা গ্রুপের ৭টি প্রতিষ্ঠান প্রবহমান মেঘনা নদীর ২৪১ দশমিক ২৭ একর জমি অবৈধ দখল করে নিয়েছে। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক ৭৭ একর নদীর জমিতে মূল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

আবার ৫ দশমিক ৫ একর জমিতে নির্মাণ করেছে নিজস্ব রাস্তা। অবৈধভাবে দখল করা এসব জমি এক মাসের মধ্যে উদ্ধার করে নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন। এ ছাড়া নদী রক্ষায় ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করেছে জাতীয় নদী কমিশন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক এখনি ব্যবস্থা নিতে না পারলে দখলদারদের কবল থেকে নদী উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে। মেঘনার ক্ষেত্রে এটি আরও কঠিন হবে। কারণ এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের অভিযানে মেঘনা নদী দখলকারী মদিনা গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মেঘনা গ্রুপের দখলকৃত নদীর জায়গা উদ্ধার করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মেঘনা গ্রুপের দখলে থাকা নদীর জায়গা দখলমুক্ত করতে একাধিকবার অভিযান শুরু হলেও মাঝপথে তা আটকে গেছে। এরপর আর সেখানে অভিযান পরিচালিত হয়নি। এতে করে অন্য দখলদাররাও ছাড় পেয়ে গেছে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনটি আমরা এখনও পাইনি। তবে ২৮ জানুয়ারি জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের সঙ্গে এ বিষয়ে সভা হয়েছে।

মেঘনা গ্রুপের নদী দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের গঠিত ১২ সদস্যের তদন্ত কমিটি দীর্ঘ দুই বছর সরেজমিনে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন ১৪ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছে।

জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান হাওলাদার স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নারায়গঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলা এলাকায় মেঘনা গ্রুপের প্রবহমান মেঘনা নদী দখলের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার জন্য ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সব সদস্য তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কমিটির তদন্ত কার্যক্রম কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। পরে তা আবারও কার্যক্রম শুরু করে তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মেঘনা শাখা নদী মারাখালী নদীর অংশের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের পাড় থেকে নদীর ভেতরে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দখল করার অভিযোগ উঠেছে। মেঘনা নদীর অন্তত ৩০০ বিঘা জমি দখল করেছে মেঘনা গ্রুপ। দখলকৃত স্থানে ইতোমধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে মেঘনা গ্রুপের মালিকানাধীন ফ্রেস টি ফ্রেস সুগার মিলস, পেপার মিলস ও কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান। ভূমি দস্যুতার এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই মেঘনার পারিবারিক প্রতিষ্ঠানগুলোও।

গ্রুপের ভাগ্নিজামাই বলে পরিচিত আল মোস্তফার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গ্রুপও নদী দখল করে ব্যাগের কারখানা গড়ে তুলেছে। যা বিগত ২০১০ সাল থেকে ধাপে ধাপে এবং একটু একটু করে এসব জমি দখল করে নেওয়া হয়। মেঘনা গ্রুপের এমন অবৈধ দখলে ভরাট হওয়ায় সাধারণ গতিপথ হারাতে বসেছে প্রবহমান মেঘনা। নদী ডাকাতির এমন কর্মকাণ্ডে অস্তিত্ব সঙ্কটের হুমকিতে আছে আশপাশের নদী সংলগ্ন বিভিন্ন নিচু এলাকা ও চরের জমিগুলো।

আনন্দ বাজার এলাকায় মেঘনা নদীর প্রায় ৫০০ ফুট জায়গা দখল করে মাটি ভরাট করেছে মেঘনা গ্রুপ এবং প্রায় ৫০ একর জমি। পিরোজপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা জৈনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০০ বিঘা জমি গ্রাস করেছে। আষাড়িয়ার চর ও ঝাউচর এলাকায় নদীর অধিকাংশ বালু ভরাট করেছে। নদীর প্রায় ৭০০ ফুট দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছে মেঘনা গ্রুপ।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ ইউএনও আতিকুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে মদিনা গ্রুপের দখলে থাকা নদী ও নদীর তীরবর্তী সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু মেঘনা গ্রুপের দখলে থাকা নদীর জায়গাই নয়, অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানেরও দখলের তালিকা করে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে নদীর জায়গা উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com