বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি কালের খবর :
নিম্নচাপের প্রভাবে পাহাড়ী জেলা খাগড়াছড়িতে ৪দিন ধরে চলা টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় খালের পেটে বিলীন হয়ে গেছে বসতঘর। বুধবার ভোর রাতের দিকে ঘরের এক-তৃতীয়াংশ ধলিয়া খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
বাড়ির মালিক অধির দাশ জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ধলিয়া খালের পাড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। দশ শতক জায়য়গার উপর নির্মিত বাড়িতে তার পরিবারের ২০ জনেরও বেশি সদস্য বসবাস করতেন। ধ্বসে যাওয়া টিনশেড ঘরে থাকা সদস্যরা এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ।
দরিদ্র পরিবারের পুরুষ সদস্যরা দীর্ঘ বছর ধরে মাটিরাঙ্গা বাজারে নাফিত ও মুচির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। হঠাৎ এই দুর্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে তারা। একটি টিনশেড ঘরের এক-তৃতীয়াংশ খালের পেটে গেলেও অপর টিনশেট ঘরটি নদীর দিকে হেলে রয়েছে। যে কোন সময় সেটাও বিলীন হয়ে যেতে পারে।
খবর পেয়ে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরের দিকে মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন
মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সবধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
পরে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইশতিয়াক আহম্মেদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন।
এ সময় মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন সরকারসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিকালের দিকে ঝুমঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়েনের দুর্গম ধনিরামপাড়া ও সাদিয়াবাড়ি এলাকায় দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেণ মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইশতিয়াক আহম্মেদ।
এ সময় যে কোন দুর্যোগে দুর্গতদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের প্রন্তুতি রয়েছে। সমস্যা হলে সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।