মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত করছে দুদক ও মাউশি। কালের খবর তাড়াশে সেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত। কালের খবর যশোর সদরে ইউপি নির্বাচন ৫ জানুয়ারি। কালের খবর কুমড়া বড়ি তৈরি করতে ব‍্যস্ত তাড়াশের কারিগররা। কালের খবর বাঘারপাড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় চেয়ারম্যান প্রর্থীসহ আহত ২০-অফিস ভাংচুর। কালের খবর যশোর সদর হাসপাতালে দালালদের কাছে জিম্মি রোগীরা। কালের খবর উৎপাদনে নতুন ‘দেশি মুরগি’, ৮ সপ্তাহে হবে এক কেজি। কালের খবর ইউপি নির্বাচনে শাহজাদপুরের ১০ ইউনিয়নে আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা। কালের খবর যশোরের শার্শায় শোকজের জবাবের আগেই যুবলীগ নেতা বহিষ্কার! কালের খবর জাতীয় শ্রমিক লীগের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টুর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত। কালের খবর
শওকত মাহমুদকে শোকজে হতবাক বিএনপি’র তৃণমূল ও পেশাজীবীরা। কালের খবর

শওকত মাহমুদকে শোকজে হতবাক বিএনপি’র তৃণমূল ও পেশাজীবীরা। কালের খবর

শওকত মাহমুদের একান্ত সহকারি আবদুল মমিন এ কথা নিশ্চিত করেন।

গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের স্বাক্ষরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী অভিযোগ এনে এ বিষয়ে কেনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তার জবাব ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছিলো এক নোটিশে। শওকত মাহমুদ ছাড়াও দলের আরেকজন ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেয়া হয়। তাকে ৫ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শওকত মাহমুদ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক মহাসচিব ও সভাপতি এবং সম্মিলিত পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্ববায়ক। এক সময়ে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষে একজন বুদ্ধিজীবী ও দলটির পক্ষে পেশাজীবী সংগঠক হিসেবে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দলটির সরাসরি সাংগঠনিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন শওকত মাহমুদ। দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন শওকত মাহমুদকে দলের ২০১০ সালের সম্মেলনের পর চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়। এরপর পরবর্তী সম্মেলনের পর তাকে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়। পাশাপাশি তার নিজ এলাকা কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাম্মণপাড়া) এলাকায় বিএনপির সমন্বয়ক করা হয়। দলের চলমান ক্রান্তিকালে পেশাজীবী নেতা এবং দলের দায়িত্বশীল হিসেবে সবসময়ই সক্রিয় শওকত মাহমুদ। তিনি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় টক’শোতে দল ও দেশের পক্ষে জোড়ালো যুক্তি দিয়ে বক্তব্য রাখায় সাধারণের মাঝে তার ব্যপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে দলের সারাদেশের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাকে ভীষণ পছন্দ করেন। সাংগঠনিক প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন জেলায় তার সফরে এর প্রমাণ মেলে।

বিএনপি’র মার্চ ফর ডেমোক্রেসী কর্মসূচি সফলে বিএনপি রাজপথে কোথাও দাড়াঁতে না পারলেও শওকত মাহমুদের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে কর্মসূচী হয় এবং সেখানে পেশাজীবীরা ক্ষমতাসীন দলীয় লোকদের হাতে আক্রমণেরও শিকার হন। রাজনৈতিক কারণে অন্তত অর্ধশত মামলার আসামী শওকত মাহমুদ। প্রায় এক বছর কারাবন্দী ছিলেন শওকত মাহমুদ। এখন প্রতিদিনই আদালতের বারান্দায় তাকে থাকতে হয় মামলায় হাজিরা ও বিচার মোকাবেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রথম শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হওয়া শওকত মাহমুদ একজন মেধাবী সাংবাদিক হিসেবে সব সাংবাদিকদের কাছে পরিচিত। শত্রুরাও শওকত মাহমুদের মেধার প্রশংসা করেন।

কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির রাজনীতি এবং আন্দোলনসহ নেতাকর্মীদের সংকটে বিগত প্রায় এক যুগ যাবৎ সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন শওকত মাহমুদ। বিনিময়ে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়নই পাননি। মনোনয়ন পেয়েছেন দলীয় রাজনীতি এবং দলের ক্রান্তিকালে শতভাগ নিস্ক্রিয় এমন একজন। দেশে দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী মামলা-হামলা-জেলের শিকার হলেও ওই প্রার্থী ছিলেন শতভাগ নিরাপদ। কেন এতো ত্যাগ শিকারের পরও শওকত মাহমুদের মতো মেধাবী ব্যক্তিত্ব পেশাজীবী ও রাজনীতিবিদকে বিএনপি মনোনয়ন দেননি-সে রহস্য এখনো অজানা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর রিজভী শোকজ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলের নাম ব্যবহার করে নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত করে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না- সে বিষয়ে শওকত মাহমুদকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এবং হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে পাঁচ দিনের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত জবাব জমা দেয়ার জন্য বলা হয়।
দলের দুই ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদকে বিএনপির কারণ দর্শানোর নোটিস বা শোকজ করার ঘটনায় নানামুখী জল্পনা-কল্পনা চলছে দলটির সকল নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এই জল্পনা-কল্পনা বিএনপির পরিধি ছাড়িয়ে দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মাঝেও বিস্তৃত হয়ে পড়েছে।

২০ দল শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমীর জানাজা হয় সোমবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায়। জানাজায় লক্ষাধিক লোক অংশ নেন। জানাজার পর দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় হঠাত্ করে পেশাজীবী পরিষদের ব্যানারে বিএনপির কয়েক হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক অবস্থান নেন। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন শওকত মাহমুদ, সাদেক খান ও কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। পরে লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুঁড়ে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায়ও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন অবস্থান নেয়া নেতাকর্মীরা। এসময় তারা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গনস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে করি হাফিজ-শওকতরা খুব ভালো কাজ করেছেন। বিএনপির মূল নেতৃত্ব তো দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়। একারণে দলের নেতাকর্মীরা হতাশ। এজন্য হাফিজ-শওকতদের উদ্যোগটিকে আমি স্বাগত জানাই। তবে দলের হাইকমান্ডকে আগে না জানিয়ে তারা ভুল করেছেন। তারা হয়তো মনে করেছেন- হাইকমান্ডকে জানালে না করতো। তারপরেও বলবো, হাইকমান্ডের উচিত ছিল তাদেরকে ডেকে নিয়ে জানতে চাওয়া। এভাবে পাবলিকটি তাদেরকে শোকজ করাটা বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত।’

বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতা, পেশাজীবী নেতারা শওকত মাহমুদকে শোকজ বিষয়ে হতবাক হয়েছেন বলে জানান। তারা বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বিভিন্ন নির্যাতন হয়রানির শিকার শওকত মাহমুদ। একজন সাংবাদিক হিসেবে শুধুমাত্র পেশায় সময় দিলে শওকত মাহমুদ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারতেন। রাজনীতিতে জড়িয়ে এবং দেশ ও দলের পক্ষে ভূমিকা রাখতে গিয়ে এরুপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত দূঃখজনক।

নিশ্চয়ই দেশের অন্যতম প্রধান বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির নীতি-নির্ধারকগন বিষয়টি উপলদ্ধি করতে সক্ষম হবেন। বিএনপির তৃণমূলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও শোকজ বিষয়টি নিয়ে হতবাক হয়েছেন। অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন গনমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।

মানুষের ভোটাধিকার ও গনতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি ১৯৯০ সালে যেভাবে সফল হয়েছেন, চলমান অবস্থায়ও নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেই ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আবারও সফল হবে এটিই দলটির নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা। প্রায় দেড়দশক ধরে অসীম হয়রানি হামলা-মামলা-জেল সয্য করা দলটির অসংখ্য নেতা-কর্মীরা দলের সকলের মাঝে ইস্পাত-কঠিন ঐক্য সময়ের দাবী বলে গুরুত্বারোপ করেছেন।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com