শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
জগন্নাথপুর বন্যার প্রভাবে হাটভর্তি গরু, ক্রেতা কম !! কালের খবর রূপগঞ্জে কারখানার বিষাক্ত পানিতে মরে গেলো ৩ লাখ টাকার মাছ : অসুস্থ অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা। কালের খবর মুরাদনগরে  দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক  বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত। কালের খবর বাঘারপাড়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অর্থায়নে এক,শত শিক্ষার্থী কে বাইসাইকেল প্রদান। কালের খবর পৈত্রিক সম্পত্তি ভূমিদস্যু হাতে থেকে রক্ষার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন জগন্নাথপুরে রেমিটেন্স যোদ্ধার মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া, জানাযা সম্পন্ন। কালের খবর সাইবার অপরাধ দমন ও অপপ্রচার ঠেকাতে একটি আলাদা ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ হবে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন। কালের খবর ইউপি চেয়ারম্যান পিতার এক ছেলে এমপি আরেক ছেলে উপজেলা চেয়ারম্যান। কালের খবর ঢাকা প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য এম নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক। কালের খবর
ডেমরার নিম্নাঞ্চলগুলো বর্ষার পানিতে ড্রেনের ময়লা পানি মিশে ছড়িয়ে পড়েছে রোগবালাই, মশার উপদ্রব বেড়েছে কয়েকগুণ। কালের খবর

ডেমরার নিম্নাঞ্চলগুলো বর্ষার পানিতে ড্রেনের ময়লা পানি মিশে ছড়িয়ে পড়েছে রোগবালাই, মশার উপদ্রব বেড়েছে কয়েকগুণ। কালের খবর

ডেমরা, ঢাকা প্রতিনিধি :
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ডেমরার ৭০ থেকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলো বর্ষার পানিতে প্লাবিত হয়েছে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে। এসব এলাকায় বর্ষার পানির সঙ্গে ড্রেনের পানি, মানুষ ও গবাদি পশুর বর্জ্য মিশে একাকার হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ৩ টি পয়েন্ট দিয়ে নির্বিচারে শহর থেকে ছাড়া ড্রেনের ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি ওইসব এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে যা অব্যাহত রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত বর্ষার পানিও ক্রমেই দুর্গন্ধযুক্ত হয়েছে বলে দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে এখানকার জনজীবন। এদিকে গত ১৫ দিন ধরে বর্ষার পানি নামতে শুরু করেছে বলেও পচা পানির উৎকট দুর্গন্ধ চারদিকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় দুর্ভোগ প্রকট আকার ধারন করেছে। ফলে ডিএসসিসির নবসম্পৃক্ত ওই ৬টি ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলবাসীর দুর্ভোগ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা।

ডিএসসিসর নবসম্পৃক্ত ৭০,৭১,৭২,৭৩,৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে সাবেক ইউনিয়নভুক্ত নগরীর ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও, ও নাসিরাবাদ এলাকা। এর মধ্যে ৭০ নং ওয়ার্ডভুক্ত ডেমরার নলছাটা, ধিৎপুরা, পাইটি, আমুলিয়া, মেন্দিুপর, তাম্বুরাবাদ, ৭১ ও ৭২ নং ওয়ার্ডভুক্ত মান্ডা এলাকার ঝিলপাড়, কদমআলী ঝিলাপাড় ও নামাপাড়ার কয়েকটি এলাকাসহ মান্ডা খালপাড়, ৭৩ ও ৭৪ নং ওয়ার্ডভুক্ত দক্ষিনগাঁও এলাকার দক্ষিণগাঁও, বেগুনবাড়ী, শাহীবাগ, নন্দিপাড়া, নেওয়াজবাগ, ৭৫ নং ওয়ার্ডের ত্রিমোহনী, দাসেরকান্দি, ফকিরখালী, ইদারকান্দি, নাগদারপাড় এলাকাগুলো নি¤œ। এসব এলাকার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শহরের বেরাইদ, বাড্ডা ও ডুমনিসহ বালু নদ তীরবর্তী বেশ কয়েকটি নি¤œ এলাকা। প্রতিবছরের ন্যায় এবারের বর্ষা-বৃষ্টিতেও পূর্বাঞ্চলীয় ওইসব এলাকায় পানি জমেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ হাতিরঝিলের চারপাশের লোকালয়ের গৃহস্থালি, পয়োবর্জ্য, ড্্েরনের পানি ও বৃষ্টির পানি রামপুরা স্লুইসগেট দিয়ে নড়াই নদিতে যায়। পরবর্তীতে ময়লা ও কালচে দুর্গন্ধযুক্ত ওইসব পানি নড়াই নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বালু নদসহ অভ্যন্তরীণ খালের মাধ্যমে নাসিরাবাদের সব নিম্নাঞ্চল, দক্ষিণগাঁও, নন্দিপাড়া ও মান্ডার নিম্নাঞ্চলে পানির সঙ্গে মিশে যায়। বালু নদ ও নাসিরাবাদের নি¤œ এলাকা দিয়ে ময়লা পানি ডেমরার সব নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে নগরীর মতিঝিল ও আশাপাশের এলাকাগুলোর পয়োবর্জ্য ও নোংরা পানি জিরানি খালের মাধ্যমে নন্দিপাড়া দিয়ে ত্রিমহোনী গুদারাঘাটে এসে নড়াই নদিতে মিশে যায়। এছাড়া যাত্রাবাড়ী দয়াগঞ্জ দিয়ে প্রবাহিত খালের মাধ্যমে ডিএসসিসির ৬ নং ওয়ার্ডের মুগদাপাড়া হয়ে মান্ডা ও বেগুনবাড়ী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত দেবধোলাই খালে মিশে যায় সংশ্লিষ্ট ওইসব এলাকার পয়োবর্জ্যসহ নোংরা পানি।

সরেজমিন আরও দেখা গেছে, রামপুরা সেতুর নিচ দিয়ে বাইরের পানি যেন শহরের ভেতরে আসতে না পারে সে জন্য স্লুইসগেটের কপাটগুলো বন্ধ অবস্থায় আছে। তবে শহরের ভেতরের পানির পরিমাণ কমানোর জন্য পাম্প করে ময়লা পানি বাইরে নড়াই নদীতে ফেলা হচ্ছে। এজন্য স্লুইসগেট এলাকায় ঢাকা ওয়াসার ৫টি নিষ্কাশন পাম্প চালু রয়েছে। কারণ গত তিন দিন আগের বৃষ্টিতে পানি কিছুটা বেড়েছিল। আর জরুরী মুহূর্তে ওই পাম্পগুলো চালিয়ে সেচের মাধ্যমে শহরের পানি দ্রুত বাইরে ফেলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহরের পানি পরিশোধন করে সংশ্লিষ্ট খাল ও নদীর মাধ্যমে নিম্নাঞ্চলগুলোতে ছাড়লে পরিবেশ ভাল থাকবে। কিন্তু পয়োবর্জ্য ও ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে নদ-নদির ভাল পানি নষ্ট হচ্ছে। এসব এলাকায় বর্তমানে জলজ প্রাণের অস্তিত্ব মারাত্মক সংকটে রয়েছে। এছাড়া ময়লা পানির কারণে বর্ষার পানিতে মাছের বংশ বিস্তার হওয়াতো দূরের কথা, এখন প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে আর মাছ পাওয়া যায়না। অথচ একটা সময় এখানকার প্রতিটি খাল ও নদ-নদিতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। আর নদ-নদির দেশিয় মাছকে কেন্দ্র করে শত শত জেলে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। বর্তমানে ওইসব জেলে পরিবার ্খন অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়ে কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

আরও অভিযোগ, চারদিকে ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট প্রায় প্রতিটি এলাকায় ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ পানিবাহিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে অধিবাসীদের মধ্যে। এছাড়া শুস্ক মৌসুমেও শহরের ছাড়া পয়োবর্জ্য ও ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি এলাকাগুলোর অভ্যন্তরীণ খালের পানিতে মিশে যায়। এতে সারাবছরই খালের তীরবর্তী মানুষ নানা সমস্যায় থাকেন। বিশেষ করে নাসিরাবাদসহ কিছু এলাকায় কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অধিবাসীদের বর্জ্য ও ময়লা পানি পাইপের মাধ্যমে সরাসরি খাল ও নদে ফেলা হয়। এতেও এলাকায় সারাবছরই মশার ভয়াবহ উপদ্রব থাকে। বর্তমানে এসব এলাকার অসংখ্য ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রাজধানীর মুগদা হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিরাবাদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থায়ী বাসিন্দা মো. আকবর হোসেন  বলেন, শহর থেকে বিচ্ছিন্ন এলাকা হচ্ছে নাসিরাবাদ। আর নাসিরাবাদ মূল এলাকা থেকে নদির মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন এলাকা হচ্ছে বালুরপাড়, ইদারকান্দি, ফকিরখালী, দাসেরকান্দি ও বাবুর জায়গা গ্রাম। প্রতিবছর বর্ষাকালসহ অন্তত ৬ মাস পানিবন্দি থাকে এখানকার অধিবাসীরা। এ সময় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে থাকে মানুষ। এ ৫টি গ্রামে চলাচলের কোন যোগ্য রাস্তা না থাকায় নৌকায় চলাচল করতে হয় বাসিন্দাদে। এমনিতেই প্লাবিত অঞ্চল, তার ওপর শহরের ছাড়া ময়লা পানি। দুর্ভোগ যেন কিছুতেই পিছু চাড়ছেনা।

দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণগাঁও-নন্দিপাড়া এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান এইচ.এস সোহ্রাওয়ার্দী বলেন, প্রতিবছর বর্ষার পানিতে নিম্নাঞ্চলোর ঘাস গুল্ম পচেও চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তার সঙ্গে মানুষের বর্জ্য ও শহরের বর্জ্যসহ ড্রেনের পানি নদী ও খালের মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে দুর্ভেগময় অবহেলীত এক ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে সজাগ হতে হবে। তাহলে এখানকার নদী ও খালগুলো প্রাণ ফিরে পাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মো. তোফাজ্জল হোসেন, ৭১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাউন্সিলর মো. খাইরুজ্জামান ও ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল আলম শামীম একই দাবি জানিয়ে  বলেন, এখানকার নিম্নাঞ্চলগুলোও শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব অঞ্চলে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো কিছুতেই অবহেলীতভাবে রাখা ঠিকনা। অনেক আগে থেকেই আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও সজাগ হওয়া উচিত। এদিকে নাসিরাবাদের দাসেরকান্দি এলাকায় অধিগ্রহনকৃত ৬০ একর জমির মধ্যে দেড় বছর আগে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত গতিতে যদি কাজটি শেষ হয় তাহলে এ সমস্যা কমে যাবে। এখনো মানুষ ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে নিম্নাঞ্চলে শহরের ময়লা পানি ছাড়ার বিষয়ে অন্য কোন বিকল্প পথ বেছে নিতে হবে।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com