রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মেসি নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনার অসাধান জয়। কালের খবর গরিবের থেকে ‘কম ঘুষ নেওয়া’ তহশিলদার আব্দুস সাত্তার বরখাস্ত। কালের খবর অর্থের অভাবে চিকিৎসা পাচ্ছেনা টিউমার ও হরমোন রোগে আক্রান্ত কুষ্টিয়ার সুবেল হোসেন। কালের খবর রূপগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। কালের খবর যশোরে ওএমএসে বরাদ্দ কম হওয়ায় খালি হাতে ফিরছে অনেকই আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সম্মেলন স্থগিতাদেশ আদালতের। কালের খবর এমপি-পুলিশের টাকার রক্ষক এখন ভক্ষক, কে এই জাকির চেয়ারম্যান! কালের খবর নবীনগরে ৮বছর পর আ’লীগের সম্মেলন, কে আসছে আগামী’র নেতৃত্বে? কালের খবর তাড়াইলে ইউএনও লুবনার বিলাসিতা, দুপুরের খাবার বিল ১০০০ টাকা। কালের খবর বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক সোহরাব সুমনের উপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ। কালের খবর
ওসিরা এত সাহস কোথায় পায় ? : হাইকোর্ট। কালের খবর

ওসিরা এত সাহস কোথায় পায় ? : হাইকোর্ট। কালের খবর

কালের খবর ডেস্ক :
সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার ওসির কর্মকাণ্ডে থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

এক বিচারক বলেছেন, ওসিরা যেখানে সেখানে কোর্ট বসায়, রাতে কোর্ট বসায়।

এত সাহস তারা কোথায় পায়? তারা নিজেরা বিচার বসায় কেমনে?
মামলা না নেওয়ায় শ্যামনগরের ওসির বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির রিট আবেদনের শুনানিতে মঙ্গলবার বিচারপতি নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ থেকে এ মন্তব্য আসে।

শুনানিতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার ওসির বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীর মামলা না নেওয়ার অভিযোগের আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানালে আদালত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিচারক বলেন, ওসি মামলা নিলেন না কেন? আমরা রুল দিয়ে দেখি, কেন তিনি মামলা নিলেন না। ওসি সাহেবরা সব জায়গায় কোর্ট বসিয়ে দেন। তারা কি সালিশ করতে বসেছেন যে সুবিধামতো হলে মামলা নেবেন। অথচ টাকা ছাড়া থানায় একটা জিডিও হয় না।

বিচারক আরও বলেন, ১৩ হাজার পুলিশ যারা থানায় বসেন, তাদের জন্য গোটা পুলিশের বদনাম হতে পারে না। অনেক পুলিশ খুব কষ্ট করে জীবন-যাপন করেন। অথচ অনেকের দেখি ৪-৫টা করে বাড়ি।

দেশটা কি চোরের দেশ হয়ে গেছে?
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার সোরা গ্রামের মো. ফজলুর করিমের বাড়িতে হামলা হয়। এজন্য ওই গ্রামেরই ইউসুফ আলীসহ তার সঙ্গীদের দায়ী করছেন ফজলুর।

তার অভিযোগ, তাকে মারধর করে নগদ দুই লাখ টাকা, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি সোনার চেইন ও ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে এবং যাওয়ার সময় তারা বাড়ির সীমানা প্রাচীরও ভেঙে দেয়।

ফজলুরের অভিযোগ, হামলার সময় শ্যামনগর থানার ওসিকে ফোন দিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওসি ‘অন্য কাজে ব্যস্ত’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এরপর ফজলুর কালিগঞ্জ সার্কেলের এএসপিকে ফোনে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি ৯৯৯ এ ফোন করে সাহায্য চাইলে শ্যামনগর থানার এক এএসআই ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

ফজলুরের বাড়িতে গিয়ে ওই এএসআই থানার ওসিকে ফোন করেন। এক পর্যায়ে এএসআইর ফোনে ওসির সঙ্গে কথা হয় ফজলুরের।

তিনি বলেন, ওসি তখন তকে শাসিয়ে বলেছিলেন, উপর মহলে নালিশ করিস, তোর মামলা হবে না, কোর্টে মামলা কর।

তখন ফজলুর করিমের বাবা অনুনয়-বিনয় করলে ওসি বলেন, কাল সকালে আবার তদন্ত হবে। সে কথা মতো, শ্যামনগর থানার এসআই মরিুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে বলেন, মামলা হবে না। পারলে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে মীমাংসা করতে বলেন তিনি।

শালিসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ফজলুর করিম সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের কাছে পুরো ঘটনা তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ করেন। সে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এসপি শ্যামনগর থানার ওসিকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে লিখিত নির্দেশ দেন। তা সত্ত্বেও ওসি কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট এসে গত ৩ মার্চ রিট আবেদন করেন ফজলুর করিম।

এরপর গত ১০ মার্চ প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিষয়টি খোঁজ নিতে মৌখিক নির্দেশ দেন আদালত। আজ এ বিষয়ে আবার শুনানি শুরু হলে ঘটনার আংশিক সত্যতা আছে বলে আদালতকে জানান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com