শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
।। মোঃ সহিদুল ইসলাম সুমন, কালের খবর ।।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা তার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বৈচিত্র্যময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির জন্য সুপরিচিত। পাহাড়, ঝরনা, ঝিরিপথ, উপত্যকা ও সমতলের এক অনবদ্য মিশেলে গঠিত এই জনপদ যেন প্রকৃতির তুলির আঁচড়ে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। শুধু নিজ রূপেই উজ্জ্বল নয়, খাগড়াছড়ি রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালির প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিত। আলুটিলা গুহা, রিসাং ও সিন্দুকছড়ি ঝরনা, দৃষ্টিনন্দন চেংগী নদীসহ শতাধিক প্রাকৃতিক আকর্ষণ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে। সাজেকগামী আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর ঘন মেঘের রাজ্য প্রায়শই এক কল্পলোকের অনুভূতি এনে দেয়, যা যেকোনো ভ্রমণপিপাসুকে আবিষ্ট করে রাখে।
ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি
দাপ্তরিকভাবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা (Khagrachari Hill District) নামে পরিচিত এই অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলা, পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলা ও ভারতের মিজোরাম রাজ্য এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলা। প্রায় ২৭০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই জেলা তার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য দেশের মানচিত্রে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭,৩৮,৯৭৪ জন। এই জেলার সামাজিক বুনন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি এখানে ত্রিপুরা, চাকমা, ওমারমা এই তিনটি প্রধান সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের নিজস্ব ভাষা, পোশাক, লোকাচার এবং উৎসব এই অঞ্চলের সংস্কৃতিতে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে, যা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতার দ্বার খুলে দেয়। প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে মুসলিম, বৌদ্ধ, হিন্দু এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা উল্লেখযোগ্য, তবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। এই সাংস্কৃতিক সহাবস্থান খাগড়াছড়িকে পর্যটকদের কাছে শুধু একটি প্রাকৃতিক গন্তব্য নয়, বরং এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক যাদুঘর হিসেবে উপস্থাপন করে।