বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ছাই হওয়া স্বপ্ন গড়লেন লাগালেন এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন’। কালের খবর বাঘারপাড়ায়-পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দে এলাকাবাসী কে মিষ্টি খাওয়ালো (চায়ের দোকানদার) মারজোন মোল্লা। কালের খবর কানাইঘাটে বিএমএসএফ ও রেড ক্রিসেন্টের যৌথ উদ্যোগে বন্যার্তদের ফ্রি চিকিৎসাসহ ঔষধ বিতরণ। কালের খবর সরকার সারা দেশে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করছে : প্রধানমন্ত্রী। কালের খবর শাহজাদপুরে বাধা দেয়ার পরও সহবাস করায় ব্লেড দিয়ে স্বামীর লিঙ্গ কর্তন করলো স্ত্রী!। কালের খবর পদ্মাসহ সকল সেতুতে সাংবাদিকদের টোল ফ্রি করা উচিৎ: বিএমএসএফ। কালের খবর বৃহত্তর ডেমরার যাত্রাবাড়ি বর্ণমালা স্কুলের অধ্যক্ষ ও সভাপতির দুর্নীতি তদন্তে কমিটি গঠন। কালের খবর স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখা হলো না শিশু নাসিমের। কালের খবর তাড়াশ উপজেলায় পাট কাটার ধুম পরেছে। কালের খবর নবীনগরে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ। কালের খবর
যশোরে সমিতির সংঘবদ্ধ প্রতারকের প্রলোভনে পড়ে অর্থাভাবে মারা গেছেন ৫৭ জন, বহু শয্যাশায়ী। কালের খবর

যশোরে সমিতির সংঘবদ্ধ প্রতারকের প্রলোভনে পড়ে অর্থাভাবে মারা গেছেন ৫৭ জন, বহু শয্যাশায়ী। কালের খবর

আবেদ হোসাইন ,যশোর সিটি প্রতিনিধি, কালের খবর : এহসান শিরোনামের ৩টি মাল্টি পারপাসসহ ডজনখানেক সমিতির সংঘবদ্ধ প্রতারকের প্রলোভনে পড়ে ধুকে ধুকে যশোরে মারা গেছেন ৫৭ জন। সারা জীবনের সঞ্চয় ওদের হাতে তুলে দিয়ে শেষ জীবনে অর্থাভাবে ওষুধ পর্যন্ত কিনতে পারেননি তারা। অনেকটা বিনা চিকিৎসায় মরতে হয়েছে। তাদের পরিবার পরিজনেরও এখন করুণ দশা। একইসাথে যশোরের শতাধিক ভুক্তভোগী লগ্নিকারী এখন রোগেশোকে বিছানায় শয্যাশায়ী। এক সময় অর্থ বৈভবের মালিক থাকলেও প্রতারকদের কারণে আজ তাদের জীবন চলছে ফকিরের হালে। কারো ওষুধ কেনার টাকা নেই। কারো ঠিকমত খাদ্য জুটছে না।

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল। ফাঁদে পা দেয়াদের মধ্যে চাঁচড়ার রাজা বরদাকান্ত রোডের মৃত আব্দুল হকের স্ত্রী আম্বিয়া (৬০) পাঁচ লাখ টাকা, ঝুমঝুমপুরের মুক্তিযোদ্ধা কলোনীর মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী রহিমা খাতুন (৬৫) সাত লাখ টাকা, রুপদিয়ার মৃত শের আলীর ছেলে নূর ইসলাম (৬০) চার লাখ টাকা, বাঘারপাড়ার ঘোষনগরের শরৎ চন্দ্রের স্ত্রী শেফালী রাণী শীল (৬৫) ছয় লাখ টাকা ও একই গ্রামের সূব্রত অধিকারীর স্ত্রী দূর্গা রাণী অধিকারী (৬০) পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন সমবায়ী নামধারী প্রতারকদের হাতে। বাড়ির সবর্স্ব খুইয়ে ওই টাকা লগ্নি করে আজ তারা চরম অর্থাভাবে দিন কাটাচ্ছেন। রোগে শোকে শয্যাশায়ী। বৃদ্ধ বয়সে বিনা সুদের টাকা ভোগ করার স্বপ্ন তাদের শেষ। বাকি জীবন ভাল কাটাবেন এই জন্য হুজুরদের কথায় বিশ্বাস করে টাকা রেখেছিলেন কিন্তু, এখন হচ্ছে ঠিক তার উল্টোটা। লাভ তো দূরের কথা সেই সাত বছর ধরে ওই চক্রের মোবাইল ফোনও বন্ধ। টাকা নেয়ার সময় দিনে দু’পাক দিলেও এখন কেউ খোঁজ নিতে আসে না। তারা জানান, ঠিকমত পথ্য ও দু বেলা খাবার জোটে না। অনেকটা পরনির্ভর হয়ে মানবেতর জীনযাপন করছেন তারা। এখন তারা প্রতারকদের কঠিন শাস্তি ও পরিণাম দেখতে চান।
একই অবস্থা হামিদপুর এলাকার কামরুজ্জামান, রূপদিয়া এলাকার শের আলী, বারান্দীপাড়া এলাকার বিধবা আমিরুননেছা, ও কুলসুম বেগমের। পুরাতন কসবা মিশনপাড়ার আফসার উদ্দিন, সীতারামপুরের আবুল কালাম, বালিয়া ভেকুটিয়ার মোহাম্মদ হানিফ, বারান্দীপাড়ার আমিনুন্নেছা, রাজারহাট এলাকার শাহাজাদী বেগম, বারান্দীপাড়ার আলেয়া বেগম, পূর্ববারান্দী মাঠপাড়ার নাছিমা খাতুন, একই এলাকার রায়হানুল ইসলাম, নাজির শংকরপুর এলাকার তরিকুল ইসলামের পরিবারে এখন ঘোর অমানিশা। তাদের অনেকেই এখন শয্যাশায়ী। লগ্নিকারী এসব পরিবারের সদস্যরা এখনও পথ চেয়ে আছেন ওই টাকা কবে ফেরত পাবেন।
এহসানের হালাল উর্পাজনের টাকায় হজ করত চেয়েছিলেন পুরতান কসবার আফসার আলী। এখন তিনি প্যারালাইজড। জানান, নিকট আত্মীয়ের মহানুভবতায় ওষুধ কিনছেন। কিন্তু তার একটাই প্রশ্ন কতদিন চলবে এভাবে ? এহসানে তার লগ্নি ছিল ১০ লাখ টাকা। তার মত বারান্দীপাড়া কদমতলার রবিউল ইসলাম, শাখারিগাতীর আবদুল জলিলসহ আরো অনেকেই রয়েছেন শয্যাশায়ী।
লগ্নিকারীদের মধ্যে এপর্যন্ত যারা পৃথিবী ছেড়েছেন তাদের মধ্যে পশ্চিম বারান্দীপাড়ার শামসুর রহমান একজন। তার বাসায় গেলে চোখে পড়ে এক করুণ চিত্র। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে জরাজীর্ণ ভাড়া বাসাটিতে মানবেতর দিন কাটে তার পরিবারের সদস্যদের। মৃত শামসুর রহমানের স্ত্রী আরেয়া খাতুন ও ভাগ্নি তাসলিমা বেগম জানান, মুসলিম একাডেমিতে কেরানীর চাকরি করতেন শামসুর রহমান। সারা জীবন চাকরির পর সেখান থেকে পাওয়া শেষ সম্বল পাঁচ লাখ টাকা লগ্নি করেছিলেন এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাসে।
একই এলাকার মৃত মোমিনুল ইসলামের স্ত্রী নূরজাহান বেগম, ছেলে মাসুদ আহমেদ ও পুত্রবধূ রিক্তা বেগম জানান, ছোট একটি ব্যবসা নষ্ট করে চার লাখ টাকা দেয়া ছিল এহসান ইসলামী রিয়েল স্টেটে।  একটি টাকা উপার্জন দূরের কথা, মূল টাকা  ফেরত পাননি তারা। অর্থাভাবে ওষুধপথ্য কিনতে না পেরে শেষমেশ মারা গেছেন মোমিনুল। একই অবস্থা মারা যাওয়া লগ্নিকারী ভেকুটিয়ার জয়নাল আবেদীন, বজলুর রহমান, পূর্ববারান্দীপাড়ার আবু কাওছার, নূরজাহান বেগমের ক্ষেত্রেও। তাদের বাড়ি ও পরিবারের এখন করুণ হাল। রেলগেটের  আব্দুল গফুর, রুপদিয়ার আলী গাজী, মুড়লি খাঁ পাড়ার গনি মিয়া ও কাজীপুরের জব্বার আলীর পরিবার পরিজনও চরম আর্থিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। টাকা হারিয়ে তাদের মত শত কষ্টে রয়েছে যশোর শহর ও শহরতলীতে আরো অসংখ্য পরিবার। যাদের কারো বাবা, বড় ভাই, মা  টাকা লগ্নি করে মারা গেছেন। এসব পরিবারে এখন শুধুই হা হুতাশ আর কান্না।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com