মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় অবৈধ ভেজাল গুড় তৈরি কারখানায় অভিযানে জেল-জরিমানা। কালের খবর যশোরের মাটিতেই প্রথম উড়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। কালের খবর শাহজাদপুরে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমুলক সভা। কালের খবর আগামীকাল ছাত্রলীগের সম্মেলন: অনূর্ধ্ব ২৯ বছরেই বন্ধি ছাত্রলীগ বিতর্কমুক্ত ছাত্রলীগের কমিটি উপহার চলন বিলে পানি যাওয়ার সাথে সাথে আমন কেটেই জমিতে সরিষা বুনছেন কৃষক। কালের খবর নজু মুন্সির বাড়ীতে বেআইনিভাবে হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। কালের খবর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অপতৎপরতা প্রতিরোধে এবার মাঠে নামছে আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ। কালের খবর সখীপুরে হায়দার মাস্টার স্মৃতি ফুটবল টুর্নান্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত। কালের খবর যশোরে সন্তানের বায়না পূরণই কাল হলো তহমিনার, স্বামী-সন্তান হারিয়ে নির্বাক। কালের খবর নবীনগরে ২০০ শত বছরের কবরস্থান রক্ষায় গ্রামবাসীর মানববন্ধন। কালের খবর
জানুয়ারি এলেই ভাড়া বৃদ্ধির খড়গ নামে ভাড়াটিয়াদের উপর

জানুয়ারি এলেই ভাড়া বৃদ্ধির খড়গ নামে ভাড়াটিয়াদের উপর

কালের খবর : জীবিকার তাগিদে এই নগরীকেই বেছে নিচ্ছেন সবাই। প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস রাজধানী ঢাকায়। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। বাইরে থেকে আসা মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল ভাড়া বাসা। এ সুযোগে কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাড়ির মালিকরা ভাড়ার বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেন ভাড়াটিয়াদের কাঁধে।
বাড়ির ভাড়া কেমন হবে, কখন ভাড়া বাড়বে, ভাড়াটিয়াকে কখন উচ্ছেদ করা যাবে, অগ্রিম জামানত গ্রহণ, ভাড়া আদায়ের রশিদ প্রদান, লিখিত চুক্তি, বাড়ি মেরামত ও বসবাস যোগ্য কিনা- বিষয়গুলো নিয়ে কোনো ধরণের আইনে তোয়াক্কা করেন না বাড়ির মালিকরা। অন্যদিকে, বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া বিষয়গুলো না জানায় সব অনিয়ম মুখ বুজে সহ্য করেন।
সূত্রে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গুলশান এলাকার প্রতি বর্গফুট বাড়িভাড়া ১৫ থেকে ১৮ টাকা, বনানীতে ১৪ থেকে ১৬, মহাখালীতে ১১ থেকে ১২, নাখালপাড়াতে ৬ থেকে ৭, উত্তরায় ৫ থেকে ৯, শান্তিবাগে ৫ থেকে ৬ টাকা, নয়াপল্টনে ৯ টাকা, শান্তিনগরে ৮ থেকে ৯ টাকা, কল্যাণপুর-পল্লবীতে ৬ টাকা, জিগাতলায় ৮ টাকা ও ধানমন্ডিতে ১১ দশমিক ২৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু বাড়ির মালিকরা ভাড়া আদায় করছেন এর দ্বিগুণ থেকে তিনগুণেরও বেশি।
রাজধানীজুড়েই যেন চলছে বাড়িভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য। বাড়িওয়ালারা যখন ইচ্ছা তখন বাড়িভাড়া বাড়াচ্ছেন। আর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়িভাড়ায় নৈরাজ্য ভাড়াটিয়া জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।
প্রতি বছর জানুয়ারি এলেই ভাড়া বৃদ্ধির খড়গ নামে ভাড়াটিয়াদের উপর। আর প্রতি বছরের ন্যায় ঢাকায় প্রায় সব বাড়িওয়ালাই ইতোমধ্যে আগামী জানুয়ারি থেকে ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ দিয়েছেন ভাড়াটিয়াদের। এ বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন ভাড়াটিয়ারা।
জাতীয় ভাড়াটিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও অবস্থানভেদে ভাড়ার হারও নির্ধারণ করে। ‘ঢাকার ৮৩ শতাংশ মানুষ ভাড়া থাকে। অথচ বেশির ভাগ বাড়িওয়ালাই ভাড়ার রশিদ দেন না। চুক্তি করেন না। কোন বাড়ির মালিক চুক্তি করলেও সব শর্ত থাকে নিজের পক্ষে। জোর করে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ, ইচ্ছা মতো ভাড়া বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো সবার চোখের সামনে হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নাই। বাড়ি ভাড়া এখন লাভজনক বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা নিরসনে সরকার পদক্ষেপ না নিলে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার বিরোধ বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেবে।’
যদি ৮৩ শতাংশ মানুষ ঢাকায় ভাড়া থাকেন তাহলে বলা যায় ঢাকার ১৭ শতাংশ বাড়ি মালিকের কাছে এই ৮৩ শতাংশ ভাড়াটিয়া জিম্মি।
মিরপুর ১ এর বাসিন্দা বলেন, ‘আমি এখন যে বাসায় আছি সেখানে তিন বছরে ভাড়া বেড়েছে ৫ হাজার টাকা। ১২ হাজার টাকা ভাড়ায় উঠেছি। এখন দিতে হচ্ছে ১৭ হাজার টাকা। এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে গেলে বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলে।’
মোহাম্মদপুরের আরেক ভাড়াটিয়া বলেন, ‘জানুয়ারি হচ্ছে ভাড়া বৃদ্ধির মাস। প্রতি বছর বাড়ি ভাড়ার সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিও নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে।’
সরকার ১৯৯১ সালে ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন’ প্রণয়ন করে। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক ও উপ-নিয়ন্ত্রক নিয়োগেরও বিধান রাখা হয়েছে আইনে। আইনটি প্রণয়নের পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও অবস্থানভেদে ভাড়ার হারও নির্ধারণ করে। কিন্তু পরে এসব কিছুই আর বাস্তবায়ন করা হয়নি।
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৬ বছর আগে আইন করা হলেও তার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়নি কোনোদিন। বাড়িভাড়া নিয়ে বিরোধের কারণ চিহ্নিত করতে ২০১৫ সালের ১ জুলাই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিশন গঠন করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ছয়মাসের মধ্যে এই কমিশন গঠন করতে বলে উচ্চ আদালত। কিন্তু এ বিষয়েও সরকারের কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com