শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
যশোরের কেশবপুরে শান্তি স্থাপন ও সহিংসতা নিরসনে (পিএফজি, র) সভা অনুষ্ঠিত। কালের খবর রায়পুরার ছাত্রলীগ নেতা মামুনকে জড়িয়ে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক ধর্ষণ মামলাসহ একাধিক মামলা করায় সর্বমহলে নিন্দা। কালের খবর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর ৫৬ ধারার প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে.প্রধান অতিথি সিএমপি কমিশনার। কালের খবর সহিংসতা নয়-শান্তির জন্য আমরা-এই শ্লোগান কে সামনে রেখে বাঘারপাড়ায় অনুষ্ঠিত হলো (পিএফজির) সম্মিলিত কার্যক্রম ও পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা। কালের খবর ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্ত। কালের খবর বাঘারপাড়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক লক্ষণ চন্দ্র মন্ডলের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের শোক। কালের খবর যুবদের নেতৃত্বে সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহনের ফলে , সমাজে সহিংসতা নিরসন ও শান্তি স্থাপন হতে পারে। কালের খবর কোরবানির পশু প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সাতক্ষীরার খামারিরা। কালের খবর চট্টগ্রামের ইপিজেডে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ ২জন গ্রেপ্তার। কালের খবর রাজধানী ঢাকা শহরে কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে না : সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। কালের খবর
পুলিশ দ্বারা নিরীহ মানুষ যেন হয়রানি, নির্যাতনের শিকার না হয় : পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী । কালের খবর

পুলিশ দ্বারা নিরীহ মানুষ যেন হয়রানি, নির্যাতনের শিকার না হয় : পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী । কালের খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের খবর  :
পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সমস্যা আন্তরিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুলিশ সদস্যদের দ্বারা নিরীহ মানুষ যেন হয়রানি, নির্যাতনের শিকার না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখতে বলেছেন তিনি।

তিনি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জনবান্ধব হওয়ারও আহ্বান জানান। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এমন নির্দেশনা দেন। এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘পুলিশ-জনতা ঐক্য গড়ি, মাদক-জঙ্গি নির্মূল করি’।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের সমস্যাকে দেখতে হবে একান্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। জনগণের মনে পুলিশ সম্পর্কে যেন অমূলক ভীতি না থাকে সে জন্য জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পুলিশকে আমরা সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় জনবান্ধব পুলিশ হিসেবে দেখতে চাই। এ জন্য পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক বাংলাদেশ পুলিশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ দেশমাতৃকার সেবায় সর্বদা পেশাদারি ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।’
পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা একান্তভাবে প্রয়োজন এবং জরুরি। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা আপনাদের দায়িত্ব। নিজের দেশ নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করেই এ দেশকে আরো উন্নত করতে কাজ করবেন। একটি বিষয় লক্ষ রাখবেন, আপনাদের হাতে কোনো নিরীহ জনগণ, কেউ যেন নির্যাতনের শিকার না হয় বা কোনো রকম হয়রানির শিকার না হয়। বরং কোনো হয়রানি হলে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা—এটাই আপনাদের কর্তব্য, এটাই জনগণ আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে। আপনারা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন। বাংলার আনাচ-কানাচে শান্তি নিরাপত্তা বজায় থাকলে আপনাদের পরিবারেরও শান্তি বজায় থাকবে।’

সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘যেকোনো একজন সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম নাই, বর্ণ নাই, দেশও নাই, কিছুই নাই। কাজেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি একটি অনুরোধ করব, মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। যারা পথচারী তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব আছে। তারা যখন-তখন ছুটে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এই জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য স্কুলপর্যায় থেকে ট্রাফিক রুল সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে আমরা যে যথাযথ ভূমিকা নিয়েছি, সেটা পালন করা প্রয়োজন।’

পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে সন্ত্রাস দমনে, জঙ্গিবাদ দমনে, মাদক দমনে এবং অগ্নিসন্ত্রাস দমনে (পুলিশ বাহিনী) যে ভূমিকা রেখেছে, তার জন্য আজকে শুধু দেশে নয়, বিশ্বে তারা প্রশংসা পাচ্ছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ বাহিনী কর্মদক্ষতা ও পেশাদারির সঙ্গে কাজ করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের পুলিশ আজ বিশ্বে রোল মডেল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুলিশ সদস্যরা পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে গণতন্ত্রবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, জনবিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালায়। সেই অশুভ শক্তি সারা দেশে হরতাল, অবরোধ, সহিংসতা, নাশকতা, জ্বালাও-পোড়াও, আগুনসন্ত্রাস, নিরীহ মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। সেদিন পুলিশ সদস্যরা পেশাদারি ও সাহসিকতার সঙ্গে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা হয়। পুলিশ বাহিনী সুদৃঢ় মনোবল, অসীম সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্য নিহত হলে তাঁর পরিবার আট লাখ টাকা পাবেন।

২০০৯ সালে পুলিশ ও জনসংখ্যার অনুপাত ছিল ১:১৩৫৫। কিন্তু তাঁর সরকারের আমলে এই অনুপাত ১:৮০১ এ উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ বছরে পুলিশের জনবল ধাপে ধাপে প্রায় ৮০ হাজার বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ, যানবাহন, প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। সুপার নিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের পদোন্নতি প্রাপ্তির জটিলতা নিরসনেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংগঠনের নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com