মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৯:১৩ অপরাহ্ন

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে পুলিশ প্রশাসনের শেল্টারে তাজজুট মিলের পাশে তৈরি হচ্ছে ফ্রূটিকা নামের জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর ভেজাল জুস। কালের খবর

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে পুলিশ প্রশাসনের শেল্টারে তাজজুট মিলের পাশে তৈরি হচ্ছে ফ্রূটিকা নামের জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর ভেজাল জুস। কালের খবর

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি,  কালের খবর  : সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় তৈরি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর ভেজাল জুস। খাদ্য নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বিএসটিআইর অনুমতি ছাড়াই আলমগীর নামে এক লোক ফ্রূটিকা নামক ওই জুস কারখানা গড়ে তুলেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও একটি মহলকে ম্যানেজ করে এই কারকানায় তৈরি জুস নিশ্চিন্তে বাজারজাত করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল তাজজুট মিলের উত্তর পশ্চিম কোণায় ফ্রূটিকা জুস কারখানার অবস্থান। শিমরাইল এলাকার মোঃ মনিরুল ইসলাম নামে এক লোকের কাছ থেকে বাড়ী ভাড়া নিয়ে আলমগীর ও রেজাউল যৌথ ভাবে এই কারখানা গড়ে তুলেছিল। পরে রেজাউল তার অংশিদারিত্ব ত্যাগ করে চলে গেলে আলমগীর একক ভাবে কারখানাটি চালাচ্ছে।

অভিযোগ জানা গেছে, এই কারখানায় তৈরি জুস জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সরকারি খাদ্যনীতিমালা অমান্য করে বিএসটিআইর অনুমতি ছাড়াই এই কারখানায় তৈরি হচ্ছে ভেজাল জুস। কারখানাটি সরকারি অনুমোদন না থাকায় কর ফাঁকি দিয়েই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নোংরা পরিবেশে তৈরি ভেজাল জুস বাজারজাত করে মানুষের জীবন বিপন্ন করছে কারখানা মালিক। বিশেষ করে এ জুস শিশুদের জন্য বেশি ক্ষতিকর বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি মহলের প্রচেষ্টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক সেকেন্ড অফিসার মো: হারুনকে ম্যানেজ করে এই জুস কারখানা গড়ে তুলা হয়েছিল। তৎকালিন পুলিশের ওই উপ-পরিদর্শক হারুন ও তার সোর্স দালালদের শেল্টারে এই ভেজাল জুস কারখানা ভাল ভাবেই চলছিল। পরে হারুন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর বেকায়দায় পড়ে যায় কারখানা মালিক।

প্রশাসনিক শেল্টার না পাওয়ায় কারখানাটি বন্ধ করে রাখা হয়। মাঝে মাঝে গোপনে চালু করলেও বেশি দিন ঠিকতে পারেনি। এ অবস্থায় ক্ষতির সম্মক্ষিণ হয়ে পড়ায় রেজাউল কারখানা বন্ধ করে দেয়। কিন্ত অংশিদার আলমগীর কারখানা চালানোর পক্ষে অনড় থাকে। তখন রেজাউল তার অংশিদারিত্ব ছেড়ে দিলে আলমগীর একক মালিক হয়ে গত কয়েকমাস ধরে আবার কারখানাটি চালু করেছে। জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর এই ভেজাল জুস তৈরি করে কি ভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার আইন ফাঁকি দিয়ে এই খারখানার তৈরি ভেজাল জুস বাজারজাত করে মানুষের জীবন বিপন্নকারী কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে কারখানা মালিক আলমগীরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। কারখানায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com