শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শিশু তুবা মায়ের বিয়ের খবর দেখে টেলিভিশনে। কালের খবর জুট কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। কালের খবর ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায় গাড়ির চাকা থামে ঘোরে। কালের খবর সাংবাদিক মুজাক্কিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আলটিমেটাম। কালের খবর বাড়ছে উৎপাদন চায়ের বাজারে নতুন ‘সাদা সোনা’ ইউপি নির্বাচনে ইমানুজ্জামান পল্লবকে ‘নৌকা প্রতীক দিতে সলিমগঞ্জবাসীর উঠান বৈঠক। কালের খবর পাটুরিয়াঘাটে পরিবহণ ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য। কালের খবর ডেমরা ব্যাটারিচালিত নিষিদ্ধ অটোরিকশা ও ইজিবাইকের দৌড়াত্ম্য স্কুল মাঠ দখল করে ইউপি মেম্বারের বালু ব্যবসা। কালের খবর ইউএনও-র নির্দেশ উপেক্ষা আ’লীগ নেতার ফসলি জমিতে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রি চলছে। কালের খবর
সরকারি সংস্থার প্রতিবেদন : ঘুষখোর এসআই মিজানের চার কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি ! থলের বিড়াল বেড়িয়ে গেল ?। কালের খবর

সরকারি সংস্থার প্রতিবেদন : ঘুষখোর এসআই মিজানের চার কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি ! থলের বিড়াল বেড়িয়ে গেল ?। কালের খবর

 

এম আই ফারুক আহমেদ, কালের খবর  : পুলিশের চাকরি থেকে মাসিক আয় (বেতন) ৪২ হাজার ৬৬০ টাকা। সেই অনুযায়ী তিনি সরকারকে মাসিক করও পরিশোধ করেন।
কিন্তু মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এই পুলিশ উপপরিদর্শকের আলিশান বাড়ির সন্ধান পেয়ে অবাক হয়েছে। তাঁর রয়েছে একটি ব্র্যান্ড নিউ গাড়িও। সংস্থার প্রতিবেদনে এ পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ির নির্মাণ ব্যয় হিসাব করা হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা।
সরকারের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাটির এই বাড়ি নির্মাণ ও তথ্য গোপনের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে সরকারি সংস্থাটির প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের সূত্র ধরে রাজধানীর অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকার পশ্চিম তল্লার গ্রিন রোডের বাড়িটিতে গিয়ে নানা তথ্য পাওয়া যায়। এলাকার মানুষের কাছে এটি ‘ডিবির বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত। মালিকের নাম এসআই মিজানুর রহমান। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত বলে জানা যায়। তবে নিজেকে তিনি ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন বলে বাড়িটি ডিবি পুলিশের বাড়ি বলেই সবাই জানে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার গ্রিন রোডের বিলাসবহুল বাড়িটির মালিক বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। সরকারের কাছে তাঁর দাখিলকৃত কাগজপত্রে তিনি ৪২ হাজার ৬৬০ টাকা বেতনপ্রাপ্ত হন। এর বাইরে অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই বলে জানান। কিন্তু সরেজমিন তদন্তে তাঁর ভূসম্পত্তি ও বহুতল ভবনের মালিক হওয়া এবং ভবন থেকে সপ্রাপ্ত অর্থেরও সন্ধান পাওয়া যায়, যা আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পিডাব্লিউডির (গণপূর্ত অধিদপ্তর) রেট অনুযায়ী ভবনটির নির্মাণে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা। এ কর্মকর্তা টয়োটা ব্র্যান্ডের একটি নতুন মাইক্রোবাসও ব্যবহার করেন। ’ সংস্থাটি পৃথকভাবে ইট, রড, সিমেন্ট, টাইলস, স্টিল, গেট, পাইপ, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীর দরদাম উল্লেখ করে বাড়ির মোট ব্যয় নির্ণয় করেছে।

গতকাল শনিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে আশপাশের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে এক লহমায় সবাই ‘ডিবির বাড়ি’ দেখিয়ে দেয়। বাড়ির নিচতলায় গিয়ে ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, মিজানুর রহমান পরিবার নিয়ে তৃতীয় তলায় থাকেন। ওই সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। তৃতীয় তলায় খোঁজ নিলে গৃহকর্মী জোসনা বেগম বলেন, ‘মিজান স্যার ও ম্যাডাম বাইরে গেছেন। ’

বিশাল আকৃতির এ বাড়িতে প্রতি ফ্লোর চার ইউনিটের; মোট ফ্ল্যাট ২৪টি। প্রতিটি ফ্ল্যাটের ভাড়া গড়ে ১২ হাজার টাকা। সেই অনুযায়ী তিনি মাসে প্রায় দুই লাখ ৮৮ হাজার টাকা ভাড়া পান। নিচতলায় দেখা যায়, ‘মায়া ফার্মেসি ও সামিয়া ফ্যাশন’ নামের দুটি বাণিজ্যিক স্থাপনাও রয়েছে। ভবনের পাশের একটি দোকানের চা বিক্রেতা লিটন মিয়া বলেন, ‘ডিবি অফিসার মিজানুর রহমান তিন-চার বছর আগে ভবনটি বানিয়েছেন। ’

জানতে চাইলে এসআই মিজানুর রহমান গতকাল কালের খবরকে  বলেন, ‘আমার বাড়ির সব তথ্য আয়কর রিটার্নে দেখানো আছে। কোনো কিছু গোপন করা হয়নি। ’ কথা শেষ না করেই তিনি ফোন কেটে দেন

        দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন । 

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com