শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
চ্যাম্পিয়ন চা-পাতা দিয়ে তৈরী চা মাসে ৭৫ হাজার টাকা বিক্রি করে স্বাবলম্বী আনোয়ারা। কালের খবর “নবজাগরণ “( নসাস) আত্মপ্রকাশ : আহবায়ক অলিদ তালুকদার ও সদস্য সচিব এডভোকেট স্বপ্নীল। কালের খবর ফিলিপাইন জাতের আখ চাষে চেয়ারম্যানের সফলতা। কালের খবর জাতিসংঘে এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। কালের খবর প্রথম ধাপের ১৬১ ইউপি নির্বাচনের প্রচারণা শেষ। কালের খবর যশোরে গ্রাম ডাক্তার কল্যান সমিতির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। কালের খবর শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানে হট্টগোল : মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর রাগ উগড়ে দিলেন এমপি মনু। কালের খবর বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রনেতা শাহাজুল আলমের ৪৬তম মৃত্যার্ষিকী। কালের খবর মানিকগঞ্জে ব্যবসায়ীকে মারধর, দোকানপাট বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ। কালের খবর পুলিশ চাইলে সব পারে- দুই ঘন্টায় হারানো মোবাইলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার। কালের খবর
দখল আর দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে রাজধানীর ছোট-বড় ৪৩টি খাল

দখল আর দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে রাজধানীর ছোট-বড় ৪৩টি খাল

কালের খবর প্রতিবেদন   :

দখল আর দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে রাজধানীর ছোট-বড় ৪৩টি খাল। এসব খাল দখলে জড়িত রয়েছে নামে-বেনামে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। খাল উদ্ধারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, খাল উদ্ধার করা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব, প্রয়োজনে সরকার সহযোগিতা করবে।

অবিভক্ত সিটি কর্পোরেশনের ২০০৮ সালের এক জরিপে বলা হয়, রাজধানীতে একসময় ৪৪টি খাল ছিল। যার মধ্যে ৩৫টি খাল শুকিয়ে গেছে। অনেক খাল ভরাট করে সড়ক, ড্রেনেজ লাইন করে ফেলা হয়েছে। তবে ঢাকা ওয়াসা এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের যৌথ জরিপের তথ্যমতে, খালের সংখ্যা ৪৩। বর্তমানে ২৬টি খাল আছে শুধু তালিকায়, বাস্তবে নেই। ১৩টি খালের প্রস্থ ১০ ফুটের বেশি নয়।
পরিবেশবিদদের তথ্যমতে, রাজধানীর খালগুলো পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। স্বাধীনতার পর ঢাকাকে রাজধানী করায় আস্তে আস্তে জমির দাম বাড়তে থাকে। আর রাজধানীকেন্দ্রিক ব্যবসা-শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় গ্রামবাংলার মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকায় জড়ো হতে থাকে। মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে অসাধু প্রভাবশালী মহল রাজধানীর খালগুলো দখল করে গড়ে তুলেছে অট্টালিকা। কেউবা গড়ে তুলেছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জলাশয় আইন থাকলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে না বলে মন্তব্য পরিবেশবাদীদের।

জানা গেছে, পুরো ঢাকার প্রায় অর্ধেক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সঞ্চালন হতো মোহাম্মদপুরের বসিলার খাল দিয়ে। একসময় বুড়িগঙ্গা থেকে তুরাগ তীরে সহজে পৌঁছার মাধ্যমও ছিল এই খালটি। কিন্তু বর্তমানে এর দু’পাশজুড়ে রয়েছে অবৈধ দখল, যুক্ত হয়েছে দূষণ। দখল আর দূষণের পরে এবার ভরাট করার পালা। সরকারের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই খালটিকে ভরাট করছে আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন। বসিলার এ খালটি ভরাট করায় স্থায়ী দুর্ভোগের শঙ্কা এলাকাবাসীর।

বসিলা এলাকার বাসিন্দা বশির হোসেন বলেন, যদি খালই আটকে যায় তাহলে তো ঢাকা শহর পানিতে তলিয়ে যাবে। তখন এলাকার মানুষ কেউ কূলকিনারা পাবে না। এজন্য এসব ট্রাক রাখার জন্য একটা ভালো ব্যবস্থা করে এই খাল পুনরায় খনন করা উচিত।

আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সভাপতি নসু মিয়া বলেন, আমরা গেল তিন চার মাস যাবত এখানে মাটি ভরাট করে ট্রাক রাখার ব্যবস্থা করছি। ট্রাক রাখার পারমিশন এখনো দেয়নি। তবে বলেছে আপনারা আগে জায়গা ভরাট করেন তারপর দেয়া যাবে।

খাল দখলের বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মো. মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি জানান, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল উদ্ধার করা জরুরি, তবে সেক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো খাল কেউ ভরাট করে দখল করার চেষ্টা করে। এমন অভিযোগ সরকার যদি পায়, তাহলে সরকার অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং একপর্যায়ে গিয়ে এগুলো উদ্ধার হবেই হবে।

জলবায়ু ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, রাজধানীর খালগুলোর সঙ্গে আশপাশের চারটি নদীর সংযোগ ছিল। সূত্রাপুর থেকে লোহারপুল হয়ে বুড়িগঙ্গা, মোহাম্মদপুরের বসিলা হয়ে বুড়িগঙ্গা, উত্তরার-আবদুল্লাহপুর হয়ে তুরাগ, উত্তরখান হয়ে তুরাগ, খিলক্ষেত ডুমনি হয়ে বালু ও মানিকনগর হয়ে শীতলক্ষ্যা নদ-নদীতে চলাচল করা যেত। বুড়িগঙ্গা নদীর বসিলা থেকে ধানমণ্ডি, তেজগাঁও, রামপুরা হয়ে তুরাগ নদে মিলেছিল শুক্রাবাদ খাল। এই খালের রায়েরবাজার, জিগাতলা ও শুক্রাবাদ এলাকায় এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। এসব খালের ৮০ শতাংশই স্থায়ী স্থাপনার দখলে চলে গেছে। মোহাম্মদপুর ও পিসিকালচার হাউজিংয়ের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কাটাসুর খাল। খালটি এখন নর্দমার আকৃতি পেয়েছে।

ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর খালগুলো বাঁচিয়ে রাখতে আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। খাল পাকাকরণ, পরিষ্কার এবং খাল দখলমুক্ত করতে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ করছে। ঢাকা ওয়াসার এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে রাজধানীর বিদ্যমান খালগুলো নতুন করে দখল হচ্ছে না। তবে আশপাশের বাসিন্দারা ময়লা-আবর্জনা ফেলেন এটা সত্য। এজন্য খালগুলো বছরে কয়েকবার পরিষ্কার করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, রাজধানীর খাল এবং জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ঢাকায় তো নতুন করে কোনো খাল কাটা সম্ভব নয়, তবে জলাধারগুলো পরিষ্কার-পরিছন্ন রেখে পানি নিষ্কাশন সহজতর করতে কাজ করছি আমরা। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসাকে সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ১৯৬০ সালে ঢাকা শহরে জলাশয় ও নিম্নভূমি ছিল ১৬ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৬ হেক্টর, ১৯৮৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮২১ দশমিক ৩৫ হেক্টর। ২০০৮ সালে জলাধারের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৭৭৫ দশমিক ৯ হেক্টরে। ২০১৩ সালে এর পরিমাণ আরো কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩২৫ হেক্টরে। ১৯৬০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এ হ্রাসের পরিমাণ ৬২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ঢাকা জেলা প্রশাসন, এ চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খাল রক্ষণাবেক্ষণ, পুনরুদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় কাজে সমন্বয়ের অভাবে ঢাকার খালগুলোর এ অবস্থা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসাকে খালগুলোর তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওয়াসা খাল রক্ষায় এককভাবে তেমন কিছুই করতে পারছে না। খাল পুনরুদ্ধারে অভিযান চালানোর পর আবার দখল হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ আছে, ঢাকা জেলা পরিষদ খালের সীমানা নির্ধারণ করে ওয়াসাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে না। জেলা প্রশাসন দাবি করেছে, সব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে রাজউক কর্তৃপক্ষ ওয়াসা বা জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা না করেই খালের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিচ্ছে।

নগর সংস্থাগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাজধানীর ৪৩টি খাল দখল করেছে অন্তত ১০ হাজার ৫০০ প্রভাবশালী। যাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ২১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে এ দখল। ২০১০ সালে নগর সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সরকারি এক তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। ২০১২ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন অবৈধ দখলদারদের ধরতে মাঠে নামলেও পরে রহস্যজনক কারণে তদন্ত থেমে যায়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসন, জরিপ অধিদফতর থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা ছাড়া কার্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সূত্রমতে, খাল বেদখলে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মহানগর জরিপের সময় জরিপ কাজে সংশ্লিষ্ট ২১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খালের জমি দখলের কাজে সহায়তা করেছেন। শুধু তাই নয় দখলকৃত কোনো কোনো খালের ওপর ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের কাঁচাপাকা স্থাপনা। তদন্ত রিপোর্টে দখলকারীদের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য এবং এ কাজে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়েরও উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, একসময় রাজধানীতে ৪৩টি খালের অস্তিত্ব ছিল। সেখানে বর্তমানে আছে ২৬টির অস্তিত্ব। সেগুলোরও কোনো না কোনো অংশ অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে গেছে। দখলদাররা খালের ওপর যেসব অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ করেছে, তার মধ্যে আছে, বহুতল পাকা ভবন, আধাপাকা ঘর, কাঁচাঘর, টংঘর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সীমানা দেয়াল, দোকান, ওয়ার্কশপ, মাছের ঘের, রাস্তা, করাতকল, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি, পলিথিন কারখানা, রিকশার গ্যারেজ, ট্যানারি, বেকারি, আবাসিক ভবন ইত্যাদি। ব্যক্তি মালিকানায় চলে যাওয়া খালগুলো ফিরে পেতে সরকারের সহায়তা চেয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। খালগুলো দখলের পর অবকাঠামোর এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে যে, ওই স্থানে কখন খাল ছিল তা বোঝার কোনো উপায় নেই।

ঢাকা ওয়াসার আওতাধীন ২৬টি খাল: ঢাকা ওয়াসার ২৬টি খালের মধ্যে ৩২০ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের স্টর্ম ওয়াটার ও ব্রিক স্যুয়ার লাইন এবং ৫.৭৫ কিলোমিটার হচ্ছে বক্স কালভার্ট। খালগুলো হচ্ছে, কাটাসুর খাল, রামচন্দ্রপুর খাল, বেগুনবাড়ী খাল, খিলগাঁও-বাসাবো খাল, শাহজাদপুর খাল, সুভিভোলা খাল, আব্দুল্লাহপুর খাল, সেগুনবাগিচা খাল, মহাখালী খাল, ইব্রাহিমপুর খাল, দ্বিগুণ খাল, বাউনিয়া খাল, কল্যাণপুর ‘ক’ খাল, কল্যাণপুর ‘খ’ খাল, কল্যাণপুর ‘ঘ’ খাল, কল্যাণপুর ‘ঙ’ খাল, কল্যাণপুর ‘চ’ খাল, কল্যাণপুর প্রধান খাল, দেবদোলাই খাল, রূপনগর মেইন খাল, রূপনগর ব্রাঞ্চ-১ খাল (চিড়িয়াখানা), রূপনগর ব্রাঞ্চ-২ খাল (আরামবাগ), রূপনগর ব্রাঞ্চ-৩ খাল (দুয়ারীপাড়া), জিরানী খাল, মান্ডা খাল, হাজারীবাগ খাল (কালুনগর অংশসহ), কসাইবাড়ি খাল, সাংবাদিক কলোনী খাল এবং বাইশটেকি খাল।

ঢাকা ওয়াসার এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কাটাসুর খালে বিভিন্ন ধরনের ৭৭টি, রামচন্দ্রপুর খালে ৩৭টি, বেগুনবাড়ী খালে ২০টি, বাসাবো খালে দু’টি, শাহজাদপুর খালে ৪টি, আব্দুল্লাহপুর খালে ৭টি, সেগুনবাগিচা খালে ১০টি, মহাখালী খালে ২৩টি, ইব্রাহিমপুর খালে ৩৬টি, কল্যাণপুর প্রধান খালে ২৬টি, কল্যাণপুর-খ খালে ৩৮টি, কল্যাণপুর-ঘ খালে ১২টি, কল্যাণপুর-ঙ খালে ১৪টি, কল্যাণপুর-চ খালে ১৯টি, জিরানী খালে ১৫টি, হাজারীবাগ খালে ১১৭টি অবৈধ অবকাঠামো রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরে অবস্থিত ২৯৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে ও ৩০ মিটার প্রস্থের রামচন্দ্রপুর খালের ২০০ মিটার অংশেই গড়ে উঠেছে বস্তি। খালের আরো ৩০ ফুট জায়গা ভরাট করে রাস্তা বানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে খালটিও নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। ১২০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ও ১২ মিটার প্রস্থের কাটাসুর খালের ২০ ফুট বাই ১০০ ফুট জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। হাজারীবাগ খালের উপখাল হিসেবে পরিচিত কালুনগর খালের পুরোটাই ভরাট করে রাস্তা বানিয়েছে স্থানীয় কিছু লোক। জিরানী খালের কদমতলা থেকে মান্ডা ব্রিজ পর্যন্ত একপাশ ভরাট হয়ে সংকীর্ণ হয়ে গেছে। সেগুনবাগিচা খালের ওপর দিয়ে রাস্তা করেছে সিটি কর্পোরেশন। পরীবাগ খাল, ধানমণ্ডি খাল, কাঁঠালবাগান খাল, রাজাবাজার খাল, রায়েরবাজার খাল, বেগুনবাড়ী মেরাদিয়া খাল, গোপীবাগ খাল, ধোলাইখাল-১ এবং ধোলাইখাল-২, দক্ষিণগাঁও-নন্দীপাড়া খাল, রাজারবাগ-নন্দীপাড়া, নন্দীপাড়া-ত্রিমোহনী খাল, নাসিরাবাদ-নন্দীপাড়া খাল, ডুমনি খাল, বাউথার খাল, গোবিন্দপুর খাল, বাইশটেকী খালের অস্তিত্ব এখন আর সরকারি নথিপত্রেও পাওয়া যায় না।

রায়েরবাজার খাল: সুলতানগঞ্জ থেকে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ছিল আড়াই কিলোমিটার। পুরো খালই ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

গোপীবাগ খাল: গোপীবাগ থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ছিল। ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

জিরানী খাল : এই খালটি ভরাট করে সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ী সড়ক করা হয়েছে।

সাঁতারকুল খাল: রামপুরা থেকে সাঁতারকুল পর্যন্ত ভরাট করে ‘আফতাবনগর’ ও ‘বনশ্রী’ হাউজিং প্রকল্প হয়েছে।

পরীবাগ খাল: শাহবাগ থেকে মগবাজার পর্যন্ত আধা কিলোমিটার ভরাট করে স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। এভাবে হারিয়ে গেছে ঢাকার আরো অনেক খাল।

রামচন্দ্রপুর খাল: মোহাম্মদপুর থেকে কাটাসুর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্য। বর্তমানে ১৫-১৬০ ফুট প্রশস্ত। ভরাট করে ক্ষমতাসীন দলের অফিস, বহুতল ভবন, সরকারি লিজ, কিছু অংশে সড়ক ও আংশিক জীবিত।

হাইক্কার খাল: মোহাম্মদপুর থেকে বসিলা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার। নতুন করে দুই ধারে দখলের উৎসব শুরু হয়েছে। ভরাট করে বস্তিঘর ও পাকা ভবন তৈরি হচ্ছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

উত্তরা খাল: এয়ারপোর্ট থেকে টঙ্গী পর্যন্ত এ খালটি। খালের দুই পাড় প্রভাবশালীরা ভরাট করছেন। মানুষের পয়ঃবর্জ্যরে সরাসরি সংযোগ।

সাংবাদিক কলোনি খাল: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডের মিরপুর বেনারসী পল্লী এলাকায় অবস্থিত সাংবাদিক কলোনি খাল। দৈর্ঘ্য প্রায় ১ কিলোমিটার। আর প্রস্থ ১০-১৫ মিটার। দু’পাশের দখলে খালটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে। কোনো কোনো জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে ভবন নির্মাণ করেছে। ফলে সাংবাদিক কলোনির পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না।

হাজারীবাগ খাল: জীবিত ২৬টি খালের তালিকায় এটি অন্যতম। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এ খালটি ব্যক্তি মালিকানায় রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। এভাবেই দখল হয়ে যাচ্ছে ঢাকার জীবিত অন্য খালগুলোও। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ওয়াসা উচ্ছেদের পর আবার তা দখল হয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার, ভরাট, অতঃপর দখল, ফের উদ্ধার এভাবেই চলছে খাল উদ্ধার-দখল খেলা।

ওয়াসার অধীনে থাকা ২৬টি খালের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, অস্তিত্ব পাওয়া ঢাকা ওয়াসার ২৬টি খালের মধ্যে ৩২০ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের স্ট্রম ওয়াটার ও ব্রিক স্যুয়ার লাইন এবং ৫.৭৫ কিলোমিটার হচ্ছে বক্স কালভার্ট। তিনি বলেন, রাজধানীর খাল সংস্কারের বর্তমানে ওয়াসার কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন নেই। গত এক বছরের অধিক সময় যাবত কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীতে যেসব খালের অস্তিত্ব এখনো পাওয়া যায় সেগুলোও ভরাট ও দখল হওয়ার পথে রয়েছে। বাসাবো খালে ৬০ ফুট প্রশস্ততার পরিবর্তে আছে ২৫ ফুট, বেগুনবাড়ী খালে শতাধিক ফুটের জায়গায় আছে ৬০ ফুট, মহাখালী খালের ৬০ ফুটের পরিবর্তে রয়েছে ৩০ ফুট, রামচন্দ্রপুর খালে ১১০ ফুটের পরিবর্তে আছে ৬০ ফুট, দ্বিগুণ খালে ২০০ ফুটের পরিবর্তে আছে ১৫০ ফুট, আবদুল্লাহপুর খালে ১০০ ফুটের পরিবর্তে আছে ৬৫ ফুট, কল্যাণপুর খালে ১২০ ফুটের পরিবর্তে আছে ৬০ ফুট।

এ ছাড়া গুলশান, বনানী, কাটাসুর, ইব্রাহিমপুর, বাউনিয়া, দিয়াবাড়ী, কল্যাণপুর খাল-ক, খ, ঘ, ঙ ও চ, শাহজাদপুর খালের অবস্থা নাজুক।

এগুলোর অস্তিত্ব থাকলেও খালগুলো এখন ভূমিদস্যু ও দখলদারদের কারণে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া খাল সম্পর্কে ওয়াসা সূত্র জানায়, কল্যাণপুর শাখা খাল-গ, বাইশটেকী, হাউজিং, পরীবাগ, রাজারবাগ, হাজারীবাগ, চরকামরাঙ্গীরচর, সেগুনবাগিচা, আরামবাগ, গোপীবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও-বাসাবো, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও-নজীপাড়া, রাজারবাগ-কান্দিপাড়া, মুতিতোলা, বাউশার, গোবিন্দপুর ও ডুমনী খালের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন

কালের খবর -/৫ /৪ / ১৮

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com