রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ১০:১৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কোটাবিরোধী আন্দোলন-আবারও রাজনীতির মাঠে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। কালের খবর চালের দাম আরও বাড়লো, সবজি আলু পেঁয়াজেও অস্বস্তি। কালের খবর খুনি ওসি প্রদীপের হাতে নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি। কালের খবর বন্দরে ৬ প্রতারকের বিরুদ্ধে আদালতে চাজশীট দাখিল। কালের খবর মুরাদনগরে মাদক বিরোধী সমাবেশ। কালের খবর সাংবাদিক জুয়েল খন্দকারের বিরুদ্ধে কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল বাবুর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত। কালের খবর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদারদের সাথে লিরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ”র মতবিনিময় সভা-সম্পন্ন। কালের খবর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ বিরুদ্ধে কাজ না করেই সরকারি বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ!। কালের খবর স্ত্রীর যৌতুক মামলায়,ব্যাংক কর্মকর্তা রাশেদের শেষ রক্ষা মিলেনি বাকলিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার। কালের খবর নবীনগর থানা প্রেস ক্লাবের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে কমিটি গঠন, সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক রুবেল। কালের খবর
চলনবিলের ঘরে ঘরে এখন শীতকালীন পিঠা উৎসবে মেতে উঠেছে গ্রামের গৃহনীরা। কালের খবর

চলনবিলের ঘরে ঘরে এখন শীতকালীন পিঠা উৎসবে মেতে উঠেছে গ্রামের গৃহনীরা। কালের খবর

মোঃ মুন্না হুসাইন তাড়াশ, (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি, কালের খবর : চলনবিলের ঘরে ঘরে শীতকালীন পিঠা উৎসব।গত কয়েক দশকের চেয়ে এবার বাংলাদেশে শীত রের্কড ভেঙ্গেছে। প্রতিবছরই শীতের আগমন থেকে শুরু করে শীতের শেষ পর্যন্ত চলনবিলের ঘরে ঘরে চলে পিঠাপুলির উৎসব। পিঠা বাঙালির প্রিয় খাবার। এ দেশে এমন মানুষ কমই আছে, যারা পিঠা পছন্দ করে না। পিঠা নিত্যদিনের খাবার না হলেও শীতকালে চলনবিলের ঘরে ঘরে পিঠার ব্যাপক কদর রয়েছে। উৎসব আয়োজনেই পিঠা নামের বাড়তি খাবার তৈরি করা হয়। বর্তমানে শুধু বাড়িতে নয় বরং চলনবিলের হাট বাজারেও হরেক রকমের পিঠার কদর বেড়েছে। শীতকালের এই পিঠা বিক্রি করে চলনবিলের শতাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে। সম্প্রতি সিংড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী উপজেলা কোর্টমাঠে চলনবিল পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পিঠা উৎসবে ১১৭ প্রকার ঐতিহ্যবাহী পিঠা প্রদর্শিত হয়।

আগে শীতের শুরুতেই গ্রামগঞ্জের ঘরে ঘরে পৌষ পার্বনের রকমারী পিঠার আয়োজন করা হত। দাদী-নানী, মা,খালারা পরম মমতায় তৈরী করতো বিভিন্ন ধরনের রসালো পিঠা।
বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে হেমন্ত ঋতুর শুরু থেকেই পিঠা তৈরি শুরু হয়। তখন দেশজুড়ে ধানকাটা শুরু হয়। কৃষকের ঘরে ঘরে থাকে গোলাভরা ধান। নতুন সে ধানের আতব চালে তৈরি হয় পিঠা। এ সময় গ্রামে সন্ধ্যা হলেই চাল কোটার শব্দে মুখরিত হয় চারদিক। রাতভর চলে পিঠা তৈরির কাজ। অনেকে আবার পিঠা তৈরির সময় গীত গেয়ে রাত পার করে। পিঠার অন্যতম উপাদান চালের গুঁড়ো হলেও এর সঙ্গে লাগে গুড়, ক্ষীরসহ নানা উপকরণ। এ উপকরণের সঙ্গে শীতের একটা যোগসূত্র আছে। তাই হেমন্ত থেকে শীতকাল পর্যন্ত পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। বাংলাদেশে কত রকম পিঠা হয় তা বলে শেষ করা কঠিন। তবে জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চিতই, পাটিসাপটা, লরি পিঠা, ভাপা, আন্দশা, কুশলী, পাতা পিঠা, কাটা পিঠা, ছিট পিঠা, চুটকি পিঠা, মুঠি পিঠা, মেরা পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, চাপড়ি পিঠা, নকশি পিঠা, পুলি পিঠা, জামাই পিঠা, ঝুরি পিঠা ও বিবিয়ানা পিঠা। এসব পিঠার সঙ্গে মিষ্টি বা ঝাল মিশিয়ে তৈরি করা হয় নতুন পিঠা। যেমন চিতই পিঠার সঙ্গে দুধ-গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় দুধচিতই। চিতই পিঠার সঙ্গে কাঁচামরিচ ও ধনিয়া পাতা দিয়ে ঝাল পিঠাও তৈরি করা হয়।
খেজুরের রসে তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েস গ্রাম বাংলার মানুষের নবান্নের সেরা উপহার। খেজুরের রস দিয়ে তৈরি করা হতো পাটালিগুঁড়, মিঠাই সহ নানা রকমের মজার মজার খাবার। সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী শীতের পিঠা।
প্রতি বাড়িতে সকাল বেলা খেজুরের রসে ভেজানো পিঠা খাওয়ার ধুম পরতো। নিজের বাড়ির সদস্য ছাড়াও জামাই-ঝি, আত্বীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী সবাই মিলে এক আসরে বসে চলতো পিঠা খাওয়ার মহোৎসব। সরেজমিনে সিংড়ার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় বাড়ি বাড়ি চলছে শীতকালীন পিঠার মহোৎসব। পৌর শহরের চাঁদপুর গ্রামের মাহমুদা খাতুন ও সারাফুন্নেছাকে তাদের বাড়িতে বিভিন্ন রকম পিঠা তৈরি করতে দেখা যায়। তারা বলেন, বাড়িতে আত্বীয়-স্বজনের আগমন উপলক্ষ্যে প্রতি বছর এই পিঠার উৎসব হয়, এটা আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য। তারা আরো বলেন, অতীতে চলনবিলের প্রতি বাড়ি বাড়ি শীতকালীন পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হতো। কালের বিবর্তনে এ ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
চলনবিল ফেসবুক সোসাইটির যুগ্ম মহাসচিব রাকিবুল ইসলাম জানান, পিঠা মূলত মুখরোচক খাবার। আগের দিনে বাড়িতে বাড়িতে জামাই-ঝি এনে হরেক রকমের পিঠা উৎসব চলতো। এখন রাস্তার মোড়ে মোড়ে জীবিকার তাগিদে পিঠা বিক্রি করতে দেখা যায়। ফেসবুক সোসাইটির প্রচার সম্পাদক আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে একান্নবর্তী পরিবার না থাকায় চলনবিলের ঘরে ঘরে সেই ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব অনেকটাই কমে এসেছে। আমি আশা করি চলনবিলের ঘরে ঘরে সেই হারানো পিঠা উৎসব আবার ফিরে আসবে। নতুন প্রজন্ম সেই পিঠাপুলির সাথে পরিচিতি লাভ করবে।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com