শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৩:১৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
জগন্নাথপুর বন্যার প্রভাবে হাটভর্তি গরু, ক্রেতা কম !! কালের খবর রূপগঞ্জে কারখানার বিষাক্ত পানিতে মরে গেলো ৩ লাখ টাকার মাছ : অসুস্থ অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা। কালের খবর মুরাদনগরে  দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক  বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত। কালের খবর বাঘারপাড়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অর্থায়নে এক,শত শিক্ষার্থী কে বাইসাইকেল প্রদান। কালের খবর পৈত্রিক সম্পত্তি ভূমিদস্যু হাতে থেকে রক্ষার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন জগন্নাথপুরে রেমিটেন্স যোদ্ধার মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া, জানাযা সম্পন্ন। কালের খবর সাইবার অপরাধ দমন ও অপপ্রচার ঠেকাতে একটি আলাদা ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ হবে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন। কালের খবর ইউপি চেয়ারম্যান পিতার এক ছেলে এমপি আরেক ছেলে উপজেলা চেয়ারম্যান। কালের খবর ঢাকা প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য এম নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক। কালের খবর
ডেমরায় অস্থায়ী কাঁচাবাজারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার চাঁদাবাজি। কালের খবর

ডেমরায় অস্থায়ী কাঁচাবাজারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার চাঁদাবাজি। কালের খবর

রাজধানীর ডেমরায় বড়ভাঙ্গা এলাকায় অস্থায়ী কাঁচাবাজারে মো. আলী নামে স্থানীয় এক আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও তার বাহিনীর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হতদরিদ্র দোকানিরা।

ওই বাজারের ২০-২৫টি দোকানের মধ্যে একেক সময় একেক দোকান থেকে বিনামূল্যে সবজি, মাছ ও নগদ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে কথিত মো. আলী বাহিনীর বিরুদ্ধে। তিনি বড়ভাঙ্গা এলাকার জাবেদ আলীর ছেলে।

বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটিতে তার কোনো পদ না থাকলেও মো. আলী সাবেক সারুলিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ছিলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ওই বাজার কমিটি ডেমরা থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মো. আলী বাহিনী বড়ভাংগা কাঁচাবাজারে অস্থায়ী দোকানগুলোতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নগদ টাকা ও কাঁচামাল নিয়ে যায়। এ সময় টাকা চাইলে টাকা না দিয়ে উল্টো ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয় চাঁদাবাজরা।

এ বিষয়ে কাঁচামাল দোকানিরা ওই বাজারের আহবায়ক কমিটির কাছে গত রোববার লিখিত অভিযোগ দেন। এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে মো. আলীর ছোটভাই রেদওয়ান মঞ্জু ও তার বন্ধু মঞ্জু আহমেদসহ ৪-৫ জন সন্ত্রাসী মিলে বাজার কমিটির সদস্য সচিব আবদুল মান্নানের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে।

এ বিষয়ে ডেমরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী আবদুল মান্নান। কিন্তু এ বিষয়ে অভিযোগ দিলেও কোনো সুরাহা পায়নি বাজার কমিটি।

সরেজমিন দেখা গেছে, বড়ভাঙ্গা বাজারে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে অর্ধশতাধিক দোকানপাট রয়েছে। বাসিন্দারা এ বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করেন প্রতিনিয়ত। আর বাসিন্দারের সুবিধার্থে বাজারে প্রয়োজনীয় সব কাঁচাবাজার ও খাদ্য সামগ্রীর দোকান করেন দোকানিরা।

আর এ বাজারে লকডাউনের কারণে অল্প সময় দোকান করার সুযোগ পায় দোকানিরা। এ সময়েও চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন দোকানিরা।  আর এ বিষয়ে বড়ভাঙ্গা বাজার কমিটি ও স্থানীয়রা কথিত এই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. আলী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছ থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দোকানি বলেন, আমার কাছ থেকে সিগারেট খাওয়ার কথা বলে ৫০০ টাকা নিয়ে যায় মো. আলী। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে আমাকে উল্টো মারতে আসেন তিনি। আর কথা না শুনলে এ বাজারে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান মো. আলী বাহিনী।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বড়ভাঙ্গ বাজার কমিটি ছিল না। বর্তমানে এলাকাবাসী, বাজারের দোকানদার ও সামাজিক সংগঠন বড়ভাঙ্গা যুবসংঘ মিলে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহবায়ক বাজার কমিটি করে দেয়; যার আমি সদস্য সচিব।

এদিকে মো. আলী প্রতিনিয়ত বাজারের দোকানিদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও কাঁচাবাজার নিয়ে যার মূল্য পরিশোধ করে না। এছাড়া অনেক দোকানদারের কাছ থেকে পকেটে হাত দিয়েও টাকা নিয়ে যায় মো. আলী। আর টাকা ফেরত চাইলে হুমকি-ধমকি দিয়ে বলে এখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।

আর এ অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার বাজারে লিস্ট করা হচ্ছিল কোন দোকানদারের কাছ থেকে কত টাকা ও মালামাল নিয়েছে মো. আলী। এ সময় তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় ওই বাহিনী।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রিপন থানায় ওসিকে মো. আলীর পক্ষে ফোন দেওয়ায় তিনি আমাদের বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে মো. আলী বলেন, লকডাউনের কারণে বড়ভাঙ্গা বাজার এলাকায় বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। আর ডেমরা থানা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব থানা থেকে আমাকে দেওয়া হয়েছে বলে সময় শেষে আমি ৫ জন ভ্যানগাড়িওয়ালা দোকানিকে চলে যেতে বলায় বাজার কমিটি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছে; যা মিথ্যা ও বানোয়াট। আর এ বাজার বসাচ্ছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির লোকজন; যারা নিজেরাই চাঁদাবাজ। বর্তমানে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ইচ্ছা করলেও চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করার পর ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে যারা অভিযোগ করেছে তারা নিজেরাই চাঁদাবাজ। আর লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বড়ভাঙ্গা অস্থায়ী বাজারে সড়ক থেকে ভ্যানগাড়ি ও দোকান সরানোর কথা বলার পর ক্ষিপ্ত হয়ে অপকৌশল অবলম্বন করে তারা অভিযোগ করেছে।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com