শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কে.এ নিলয়ের ‘হৃদয় নিয়ে খেলা’ সিনেমায় শিশির!। কালের খবর কুষ্টিয়ায় নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক। কালের খবর সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রী বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন। কালের খবর আনন্দমুখর পরিবেশে বিজিইপিএ-এর বনভোজন ও নবীন বরণ সম্পন্ন। কালের খবর বাঘারপাড়ার দরাজহাটে শিবমন্দির থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার। কালের খবর অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি যুবলীগের। কালের খবর বাহারের নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লার রাজনীতি। কালের খবর ব্রয়লারের চেয়ে চাহিদা বেশি বাউ মুরগির, খুশি খামারিরা। কালের খবর বাঘারপাড়ায় শান্তি স্থাপন ও সহিংসতা নিরসনে (PFG) কমিটি গঠন”। কালের খবর গাছে গাছে আমের মুকুল, মৌ মৌ ঘ্রাণে ব্যকুল মানুষ। কালের খবর
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এরশাদ সমাহিত পল্লী নিবাসে। কালের খবর

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এরশাদ সমাহিত পল্লী নিবাসে। কালের খবর

রংপুর ব্যুরো, কালের খবর :

রংপুরের মানুষের আবেগ, ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রংপুরেই দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে স্বপ্নের বাসভবন রংপুরের পল্লী নিবাসে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ছোটভাই জিএম কাদেরসহ পরিবারের সম্মতিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে চার কিলোমিটার হেঁটে জাতীয় পার্টির সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মরদেহ বহনকারী গাড়ি তার স্বপ্নের বাসভবন রংপুরের পল্লী নিবাসে নিয়ে যান দলীয় নেতাকর্মীরা।

এদিন বাদ জোহর বেলা আড়াইটায় রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মরদেহ বহনকারী গাড়ি আটকে দেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা। এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে এরশাদকে রংপুরে দাফনের দাবি জানান।

এ অবস্থায় রংপুরের মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পল্লী নিবাসেই সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় পার্টি। পরে কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পল্লী নিবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন নেতাকর্মীরা।

গত ২৭ জুন সকালে এরশাদ অসুস্থবোধ করলে তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। তিনি রক্তে হিমোগ্লোবিন-স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি লাইফ সাপোর্ট ছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ জুলাই সকাল পৌনে আটটায় এরশাদ মারা যান।

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এরশাদ। পরে তার পরিবার রংপুরে চলে আসে। রংপুরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন এরশাদ। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন।

১৯৭৩ সালে এরশাদকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাঁকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনীপ্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি দেশে উপজেলা পদ্ধতি চালু করেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর পর গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ থাকেন।

কারাগারে থেকেই রংপুরের পাঁচটি আসনে নির্বাচন করে জয়ী হন তিনি। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রংপুর থেকে কোনো নির্বাচনেই হারেননি পল্লীবন্ধু এরশাদ।
দশম জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল ছিল তার নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। একাদশ জাতীয় সংসদেও জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের আসনে। দশম জাতীয় সংসদে এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদমর্যাদায় ছিলেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে তাকে বিরোধীদলীয় নেতার পদে বসান।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com