মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সাজেক দুর্গম এলাকায় শিয়ালদহ বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক বিতরণ করেন বাঘাইহাট আর্মি জোন। কালের খবর রাঙ্গামাটি সাজেক বৈশাখী ( বিযু) উৎসব উপলক্ষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান। কালের খবর সাজেক শুকনাছড়া এলাকা যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫২.৭১ ঘন ফুট সেগুন কাঠ জব্দ। কালের খবর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে পার্বত্য এলাকা থেকে বিএনপির খাগড়াছড়ির শাহেনা আক্তার আলেচনায়। কালের খবর কালের সাক্ষী হয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী পার্ব্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষী এই ভবন! কালের খবর দেশের আভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের খনিজসম্পদ ব্যবহারের দাবি। কালের খবর মাটিরাঙ্গায় নিয়ম ভেঙে তেল বিক্রির দায়ে বিশ হাজার টাকা জরিমানা। কালের খবর খাগড়াছড়িতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে তামাক চাষ, কমছে সবজির আবাদ। কালের খবর সাজেকে ঘুরতে আসা টুরিস্ট এর হারানো মোবাইল সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার করে মালিককে ফেরত প্রদান। কালের খবর রায়পুরায় মাদকাসক্ত ছেলেকে কারাগারে পাঠাতে অসহায় বৃদ্ধা মায়ের আকুতি। কালের খবর
বিদ্যালয়ে না যেতে প্রধান শিক্ষককে হুমকি! কালের খবর

বিদ্যালয়ে না যেতে প্রধান শিক্ষককে হুমকি! কালের খবর

নাটোর প্রতিনিধি, কালের খবর :

প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পরও ইসলাম হোসেনকে বিদ্যালয়ে না যেতে হুমকি দিচ্ছেন নয় বছর ধরে অবৈধভাবে ওই পদের দায়িত্বে থাকা এনামুল হক। নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর বরমহাটি ইউনিয়নের শালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

গত সপ্তাহে ইসলাম হোসেনকে ঢাকা থেকে তুলে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকাও আদায় করেন এনামুল হক। এর আগে এনামুল হক গভীর রাতে প্রধান শিক্ষক ইসলাম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে স্ত্রীকে মারপিট করে এবং টাকা, গহনা ও বিভিন্ন কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।

এসব ঘটনায় পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ইসলাম হোসেন।
বুধবার সকালে প্রধান শিক্ষককে হুমকি ও প্রাণনাশের চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকশত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। মানববন্ধনকালে শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

জানা যায়, ২০০৫ সালে অনুমোদিত ম্যানেজিং কমিটি বহাল থাকার পরও বিধি বহির্ভূতভাবে এডহক কমিটির সভাপতি ওমর আলী নিজেই সভা আহ্বান করে কমিটির মাত্র দুইজন সদস্যের উপস্থিতিতে ইসলাম হোসেনকে বরখাস্ত করেন। এরপর ওই পদে নিজের ভাই এনামুল হককে বসান। উচ্চ আদালতের একটি রিটের প্রেক্ষিতে কোন শিক্ষককে ৬০ দিনের বেশি বরখাস্ত না রাখার নির্দেশ সত্ত্বেও ২০১০ সাল থেকে ইসলাম হোসেনকে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। অথচ ২০০৯ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধান নীতিমালা অনুযায়ী ইসলাম হোসেনকে বরখাস্ত করার জন্য আপিল এন্ড আরবিট্রেশন কমিটিতে অনুমোদনই হয়নি।

বিদ্যালয়টির বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানান, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে রসিদবিহীন মর্জিমত সেশন ফিস, অতিরিক্ত বোর্ড ফিস, চাঁদা, বিদ্যুৎ বিল আদায়, জালিয়াতির মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দান ও সনদ বাবদ মোটা অংকের টাকা আদায় করতেন। প্রতিবাদ করলে নানারকম হয়রানির খড়গ নেমে আসতো অন্যদের উপর। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফিস বাবদ আংশিকসহ সকল বিষয়ে মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে অতিরিক্ত ফিসসহ ৬৪ হাজার টাকা আদায় করলেও বোর্ড নির্ধারিত ফিস জমা দেন ৩৭ হাজার টাকা।

২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটি গঠন না করে আত্মীয় স্বজনদের অন্তর্ভূক্ত করে এডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ বিলে প্রতিস্বাক্ষর করে বেতন ভাতা উত্তোলন করে চলেছেন। সম্প্রতি এনামুল হকের দাখিলকৃত বেতন-ভাতার সরকারি অংশের বিলে স্বাক্ষর না করে তার অনিয়ম ও জালিয়াতির ব্যপারে ব্যবস্থা নিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড পরিদর্শক বরাবর চিঠি দিলে জেলা শিক্ষা অফিসারের তদন্তে জানা যায়, এনামুল হক হাইকোর্টের একটি আদেশ নিজেই জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষা অফিসে দাখিল করেন। ফলে ২০১৮ সালের আগস্ট মাস থেকে এনামুল হকের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের বিলে প্রতিস্বাক্ষর বন্ধ রাখেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

বিদ্যালয়টির প্রস্তাবিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলতাব হোসেন বলেন, স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এনামুল হক এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির সম্মান নষ্ট করেছেন। এখন শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের জন্য প্রধান শিক্ষককে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। এতে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষক ইসলাম হোসেন বলেন, কোন অবৈধ নিয়োগ বা কাজে সমর্থন না করায় বিতর্কিত এডহক কমিটি আমার উপর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠে। আইনের বিধান মতে তারা আমাকে বরখাস্ত করেনি যা প্রমাণিত হয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর বেতন-ভাতা না পেয়ে পরিবার নিয়ে আমি মানবেতর জীবনযাপন করেছি। এখন স্বপদে ফিরলেও এনামুল হক আমাকে হুমকিসহ হত্যাচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ন্যায়বিচার পাওয়াই কি আমার অপরাধ? আমি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এনামুল হকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com