বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাটিরাঙ্গায় ধলিয়া খালে বিলীন বসতঘর ; প্রশাস‌নের ত্রান ‌বিতরণ। কালের খবর জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতিকে ধারণ করে ‘৩৬ জুলাই’ পত্রিকার আত্মপ্রকাশ। কালের খবর কাঁচা রাস্তা ধানক্ষেত-জঙ্গল পেরিয়ে যা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী। কালের খবর রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকার নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে বাঘাইহাট জোনের সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন। কালের খবর সত্যের মঞ্চ না রাজনৈতিক অঙ্গন? সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে নতুন বৈশ্বিক ভাবনা। কালের খবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি নতুন ওয়ার্ডগুলোয় মশার রাজত্ব, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। কালের খবর নবীনগরে গোলাগুলির ঘটনায় নিখোঁজ রিফাতের লাশ উদ্ধার। কালের খবর মাটিরাঙ্গায় ওয়াদুদ ভুইয়া এমপি’র সহায়তায় সিদ্ধ চাল পেল গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারীরা। কালের খবর দুর্গম পাহাড়ে নওমুসলিমদের পাশে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ। কালের খবর মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে জার্নালিস্ট ফারুক নগর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “ফারুকজি ফুড গার্ডেন”-২-এ বৃক্ষরোপণ। কালের খবর
অর্থাভাবে চিকিৎসাহীনতায় ধুঁকে ধুঁকে মরছেন রণাঙ্গনে অকুতোভয় আম্বর আলী। কালের খবর

অর্থাভাবে চিকিৎসাহীনতায় ধুঁকে ধুঁকে মরছেন রণাঙ্গনে অকুতোভয় আম্বর আলী। কালের খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের খবর :

মুক্তিযোদ্ধা আম্বর আলীর এখন বয়স ৭০ বছর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে যুদ্ধে যান সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার মাইজবাড়ী গ্রামের এই বাসিন্দা। তখন তিনি ২৫ বছরের যুবক।

রণাঙ্গনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আটজনকে একাই গুলি করে হত্যা এবং একজনকে জীবিত ধরে নিয়ে আসেন তিনি। আর এখন হুইল চেয়ার তার নিত্যসঙ্গী।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। হুইল চেয়ার ছাড়া চলাচল করতে পারেন না। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি করেন। ছোট ছেলে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয়বর্ষে পড়ে। বড় ছেলের বেতনের টাকা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতায় চলে আম্বর আলীর চিকিৎসা এবং সংসার।

গেরিলাযোদ্ধা আম্বর আলীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। আম্বর আলী বলেন, যুদ্ধে ভারতের বালাটে মৌলাম ক্যাম্প ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হন। পরে মেঘালয় রাজ্যে ২৮ দিন প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে ভারতের শিলং নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে অস্ত্র ও গুলি দেওয়া হয়।

যুদ্ধের স্মৃতি উল্লেখ করে আম্বর আলী বলেন, সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেড়িগাঁও, কৃষ্ণনগর, ষোলঘর, হালুয়ারঘাট ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেন তিনি। বিশেষ করে মেজর মোতালেব কৃষ্ণনগরে পাক বাহিনীকে আক্রমণ করার জন্য আম্বর আলীকে দায়িত্ব দেন। তার সঙ্গে গোদিগাঁও গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ, চিনাউড়ার গ্রামের আকবর আলী ও ইউসুফ আলীসহ অন্যরা এই যুদ্ধে অংশ নেন। মেজর মোতালিব ‘আল্লাহ বাঁচিয়ে আনলে দেখা হবে’- বলে বিদায় জানান।

কৃষ্ণনগরে গেরিলা আক্রমণে আম্বর আলী একাই আটজন পাক সেনাকে গুলি করে হত্যা করেন। একজনকে জীবিত ধরে নিয়ে আসেন। এই বীরত্বে মেজর মোতালিব তাকে মেডেল উপহার দেন। সেই আম্বর আলী এখন অভাব-অনাটনে চিকিৎসা নিতে পারছেন না।

বড় ছেলে নাজমুল হোসেন বলেন, ডাক্তার বাবার ঘাড়ে অপারেশন করাতে বলেছেন কিন্তু টাকার অভাবে করা সম্ভব হয়নি। যত দিন যাচ্ছে, বাবার অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

তিনি জানান, অপারেশন করার জন্য লক্ষাধিক টাকা লাগবে। কিন্তু টাকা না থাকায় চিকিৎসা হয়নি।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com