শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারিগর : বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও রূপান্তরের রাজনীতি। কালের খবর দলের প্রধানের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকে ভালবেসে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন সাংবাদিক নেতা মো: আসাদুজ্জামান বাবুল। রাঙ্গামাটি জেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ। কালের খবর নওগাঁ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সামসুজোহা খানের পক্ষে প্রচারণা। কালের খবর ঢাকা ১৭ আসনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটির সমন্বয়ক ডাবলু ও যুগ্ম সমন্বয়ক রাজ। কালের খবর লক্ষ্মীপুরে গণ মিছিলে এসে জামায়াত – বিএনপির ২ কর্মীর মৃ-ত্যু। কালের খবর সবার আগে বাংলাদেশ : একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির পুনর্জন্ম ও আগামীর রাষ্ট্র দর্শন। কালের খবর নবীনগরে অস্ত্রসহ একজন আটক, শিশুকে মুচলেকায় মুক্ত৷। কালের খবর ফেসবুকে ফেক স্ট্রাইক : মুফতি আমির হামজার ভেরিফাইড পেজ অপসারণ, সাইবার হামলার অভিযোগ। কালের খবর নবীনগরে ১১ দলের জনসভায় : মিডিয়াকে চরিত্র বদলের আহবান জানিয়ে মিডিয়ার মালিকদেরকে ‘প্রথম মোনাফিক’ আখ্যায়িত করলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। কালের খবর
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারিগর : বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও রূপান্তরের রাজনীতি। কালের খবর

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারিগর : বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও রূপান্তরের রাজনীতি। কালের খবর

মো. সহিদুল ইসলাম সুমন, কালের খবর : 

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বাংলাদেশের আকাশ থেকে স্বৈরাচারের মেঘ কাটতে শুরু করেছে, ঠিক তখন এক ভঙ্গুর ও সাহায্য-নির্ভর অর্থনীতির হাল ধরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। একজন অর্থনীতি বিশ্লেষক হিসেবে যখন আমি সেই সময়ের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো বিশ্লেষণ করি, তখন অবাক হয়ে দেখি কীভাবে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য থেকে তিনি একটি জাতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে তুলে এনেছিলেন। সেই সময়ে বাংলাদেশের জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন কেবল একটি পরিসংখ্যান ছিল না, বরং তা ছিল একটি রুদ্ধশ্বাস পরিবর্তনের গল্প। ১৯৯১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল মূলত আমদানিনির্ভর এবং বৈদেশিক সাহায্যের মুখাপেক্ষী। বেগম জিয়া খুব দ্রুতই উপলব্ধি করেছিলেন যে, স্রেফ দান-খয়রাত দিয়ে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র দীর্ঘকাল টিকে থাকতে পারে না। তাই তিনি প্রথাগত নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির খোলস ভেঙে বাজার অর্থনীতির দিকে এক দুঃসাহসিক অভিযাত্রা শুরু করেন। সেই অভিযাত্রার প্রথম ধাপটিই ছিল ফিসকাল ডিসিপ্লিন বা আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যার হাত ধরে বাংলাদেশ প্রথমবার উচ্চ প্রবৃদ্ধির স্বাদ পেতে শুরু করে।
বেগম জিয়ার প্রথম শাসনামলের (১৯৯১-১৯৯৬) সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক বিপ্লবটি ছিল ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা ভ্যাট (VAT) প্রবর্তন। ১৯৯১ সালের পহেলা জুলাই যখন এটি চালু হয়, তখন ব্যবসায়ী সমাজ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিরোধিতা ছিল। কিন্তু একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি জানতেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়াতে না পারলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। আজ আমরা যে মেগা প্রজেক্টের গল্প শুনি, তার আসল জ্বালানি কিন্তু সেই ভ্যাট থেকেই আসে। ভ্যাট প্রবর্তনের ফলে সরকারের রাজস্ব আয় রাতারাতি বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেই সময়ে মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশন ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা ছিল এক অভাবনীয় সাফল্য। মনে রাখতে হবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তখনই টেকসই হয় যখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা স্থিতিশীল থাকে। বেগম জিয়ার অর্থনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তিই ছিল সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রেখে প্রবৃদ্ধির চাকাকে সচল রাখা। এর ফলে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের ঘর অতিক্রম করে ৫ শতাংশের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে।
২০০১ সালে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর বেগম জিয়া এক নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হন। বিশ্বায়ন বা গ্লোবালাইজেশনের সেই যুগে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক বড়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সেই সময়কালকে আমি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের ‘টেক-অফ’ পিরিয়ড হিসেবে দেখি। এই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কেবল বাড়েনি, বরং তা ৫.৪ শতাংশ থেকে শুরু করে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৬.৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। অনেকে হয়তো ভুলে গেছেন যে, সেই সময়টিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ছিল আকাশচুম্বী এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল চরম। কিন্তু বেগম জিয়ার সরকার রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বা রেমিট্যান্স বাড়ানোর ওপর যে জোর দিয়েছিলেন, তা অর্থনীতিকে এক নিরেট বর্ম প্রদান করেছিল। বিশেষ করে পোশাক খাতের কোটা প্রথা বা মাল্টি ফাইবার অ্যারেঞ্জমেন্ট (MFA) শেষ হওয়ার পর যে বিপর্যয় আসার আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা তিনি তাঁর বলিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলে নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন। বন্ডেড ওয়ারহাউজ সুবিধা এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি প্রথার সংস্কার পোশাক শিল্পকে বিশ্ববাজারে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলে, যা জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদানকে আমূল বদলে দেয়।
এই প্রবৃদ্ধির পেছনে আরেকটি শক্তিশালী ইঞ্জিন ছিল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই (SME) খাতের বিকাশ। বেগম জিয়া বুঝেছিলেন, কেবল বড় বড় শিল্প দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। তাই তিনি ব্যাংকিং খাতকে নির্দেশ দিয়েছিলেন গ্রামীণ জনপদে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে। তাঁর সময়েই কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের চাঙ্গাভাব তৈরি হয়। কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং সারের দাম কমিয়ে উৎপাদন খরচ কমানোর ফলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। জিডিপিতে কৃষির অবদান সেই সময়ে যে স্থিতিশীলতা দিয়েছিল, তা ছিল এক নিরব বিপ্লব। আপনি যখন কোনো গ্রামীণ হাটে যাবেন এবং দেখবেন কেনাবেচার ধুম লেগেছে, বুঝবেন এর শেকড় পোতা হয়েছিল সেই সময়ে নেওয়া তৃণমূলমুখী অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের গভীরে।
বেগম জিয়ার শাসনামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম অনুঘটক ছিল অবকাঠামো উন্নয়ন, যা স্রেফ ইটের ওপর ইট সাজানো ছিল না, ছিল অর্থনৈতিক সংযোগ। যমুনা সেতুর সফল ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং সারা দেশে সড়ক ও জনপথের যে জাল তিনি বুনেছিলেন, তা পণ্য পরিবহনের খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয়। অর্থনীতিবিদরা একে বলেন ‘ট্রানজ্যাকশন কস্ট রিডাকশন’। যখন একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গ থেকে সবজি নিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছাতে পারে, তখন তার প্রভাব সরাসরি জিডিপির গ্রাফে গিয়ে পড়ে। তাঁর সময়েই বেসরকারি খাতে টেলিযোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুয়ার উন্মুক্ত করা হয়। মোবাইল ফোনের লাইসেন্স উন্মুক্তকরণ এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র (IPP) স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার ফলে বিনিয়োগের এক নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়। আজ আমরা যে ডিজিটাল ইকোনমির কথা বলি, তার প্রকৃত অবকাঠামোগত ও নীতিগত ভিত্তি কিন্তু স্থাপিত হয়েছিল সেই দিনগুলোতে। উচ্চবিত্তের ড্রয়িং রুম থেকে মোবাইল ফোনকে সাধারণ মানুষের পকেটে নিয়ে আসার কৃতিত্ব বেগম জিয়ার সাহসী উদারীকরণ নীতির।
বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বেগম জিয়া ‘লুক ইস্ট’ পলিসি বা প্রাচ্যমুখী নীতির প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসুক। এর ফলে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ইপিজেডগুলোতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি পায়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে দেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল। এটি সম্ভব হয়েছিল কারণ তখন বিনিয়োগকারীদের মনে এক ধরনের আস্থা ছিল যে, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল এবং ফিসকাল ডেফিসিট বা বাজেট ঘাটতি সীমার মধ্যে রয়েছে। বেগম জিয়ার সরকার কখনোই ছাপানো টাকা দিয়ে বাজার সয়লাব করেনি বা অপরিকল্পিত ঋণের জালে দেশকে জড়ায়নি। তাঁর সময়ে ‘ডেট-টু-জিডিপি’ রেশিও ছিল অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর, যা বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিল। তারা বাংলাদেশকে ‘এমার্জিং টাইগার’ বা উদীয়মান বাঘ হিসেবে আখ্যা দিতে শুরু করেছিল সেই সময়েই।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির আরেকটি বড় স্তম্ভ ছিল প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ। বেগম জিয়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন করে এই খাতকে এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানোর উৎসাহ দিতে রেমিট্যান্সের ওপর বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হয়। এর ফলে ২০০১-০৬ মেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহে এক বিশাল লম্ফন দেখা দেয়। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ সরাসরি গ্রামীণ ভোগব্যয় বা কনজাম্পশন বাড়িয়ে দেয়, যা জাতীয় আয়ের গুণক প্রভাব বা মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট তৈরি করে। গ্রামের একটি সাধারণ পরিবার যখন প্রবাসের টাকায় ঘর তোলে বা জমি কেনে, তখন ইট, বালু, সিমেন্ট থেকে শুরু করে রাজমিস্ত্রির মজুরি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হয়। এই যে তৃণমূল পর্যায়ে অর্থের সঞ্চালন, এটিই ছিল বেগম জিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আসল জাদু। তিনি প্রবৃদ্ধি কেবল শহরের ধনীদের ড্রয়িং রুমে আটকে রাখতে চাননি, বরং তাকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন হাওর থেকে পাহাড়ের প্রান্তিক জনপদে।
বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিতে দেখলে, বেগম জিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের আরেকটি মূল কারণ ছিল মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির চমৎকার সমন্বয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এক ধরনের স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছিল যাতে তারা রাজনৈতিক চাপে মুদ্রা সরবরাহ না বাড়ায়। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে টাকা বা কারেন্সির মান স্থিতিশীল ছিল। ২০০৬ সাল নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যে শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছিল, তা পরবর্তী সরকারের জন্য একটি মজবুত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেয়। প্রবৃদ্ধির গুণগত মানও ছিল দেখার মতো। এটি কেবল ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়ানোর প্রবৃদ্ধি ছিল না, বরং দারিদ্র্য বিমোচনের হার সেই সময়ে বছরে ১.৮ শতাংশ হারে কমে আসছিল, যা তৎকালীন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ছিল ঈর্ষণীয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রবৃদ্ধি তখনই অর্থবহ হবে যখন তা মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বরাদ্দ বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিস্তার করার ফলে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা বেড়েছিল।
বেগম জিয়ার শাসনামলে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার নানা রাজনৈতিক অভিযোগ থাকলেও, শুদ্ধ অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে তাঁর সাফল্য ছিল প্রশ্নাতীত। ২০০৫ সালে গোল্ডম্যান স্যাকস বাংলাদেশকে ‘নেক্সট ইলেভেন’ বা পরবর্তী ১১টি সম্ভাবনাময় দেশের তালিকায় স্থান দিয়েছিল, যার পেছনে প্রধান যুক্তি ছিল তাঁর শাসনামলের ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংস্কার। জেনারেশন অফ রিসোর্সেস বা সম্পদ আহরণে তাঁর সরকার যে স্বচ্ছতা দেখিয়েছে, তা আজও গবেষকদের কাছে গবেষণার বিষয়। তিনি স্রেফ বরাদ্দ দিতেন না, বরং সেই বরাদ্দের ‘ভ্যালু ফর মানি’ বা অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি করতেন। তাঁর সময়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে কোনো অস্বাভাবিক খরচ বা অহেতুক মেগা-বাজেটের দাপট ছিল না, যা অর্থনীতিকে ঋণের চাপে পিষ্ট করেনি। বরং সীমিত সম্পদ দিয়ে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়ার এক অনন্য নজির তিনি স্থাপন করেছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক রূপান্তরের কাল। একটি তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে বের করে এনে তিনি বাংলাদেশকে একটি উদীয়মান অর্থনীতির মর্যাদা দিয়েছিলেন। ৫.৪ শতাংশ গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং শেষ বছরে ৬.৬ শতাংশে পৌঁছানো কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, সংস্কার ও সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফসল। তাঁর নেওয়া উপবৃত্তি প্রকল্প, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার প্রসার যেভাবে মানবসম্পদ উন্নয়ন করেছে, তা দীর্ঘমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে। আজ যখন আমরা উচ্চ জিডিপির কথা বলি, তখন আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, এই ইমারতটি দাঁড়িয়ে আছে নব্বই ও দুই হাজার দশকের সেই শক্ত ভিতের ওপর। বেগম জিয়ার অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার কেবল ইতিহাসের পাতায় নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতিটি স্পন্দনে মিশে আছে। একজন লেখক ও গবেষক হিসেবে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, সামষ্টিক অর্থনীতির যে শৃঙ্খলা তিনি বজায় রেখেছিলেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের নীতিনির্ধারকদের জন্য এক চিরকালীন পাঠ্যপুস্তক হয়ে থাকবে। সত্যের নিজস্ব একটা গতি আছে, আর সেই গতির নামই হলো বেগম জিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন দর্শন, যা বাংলাদেশের মানচিত্রকে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন পরিচয়ে অভিষিক্ত করেছিল।
লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।
E-mail: msislam.sumon@gmail.com

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com