শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
রাঙ্গামাটি সাজেক বৈশাখী ( বিযু) উৎসব উপলক্ষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান। কালের খবর সাজেক শুকনাছড়া এলাকা যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫২.৭১ ঘন ফুট সেগুন কাঠ জব্দ। কালের খবর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে পার্বত্য এলাকা থেকে বিএনপির খাগড়াছড়ির শাহেনা আক্তার আলেচনায়। কালের খবর কালের সাক্ষী হয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী পার্ব্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষী এই ভবন! কালের খবর দেশের আভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের খনিজসম্পদ ব্যবহারের দাবি। কালের খবর মাটিরাঙ্গায় নিয়ম ভেঙে তেল বিক্রির দায়ে বিশ হাজার টাকা জরিমানা। কালের খবর খাগড়াছড়িতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে তামাক চাষ, কমছে সবজির আবাদ। কালের খবর সাজেকে ঘুরতে আসা টুরিস্ট এর হারানো মোবাইল সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার করে মালিককে ফেরত প্রদান। কালের খবর রায়পুরায় মাদকাসক্ত ছেলেকে কারাগারে পাঠাতে অসহায় বৃদ্ধা মায়ের আকুতি। কালের খবর চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের অভিনন্দন। কালের খবর
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সততার অনন্য দৃষ্টান্ত

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সততার অনন্য দৃষ্টান্ত

এম আই ফারুক আহমেদ, কালের খবর : এ সমাজ যখন দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে, তখন সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। গত বছর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের কোনো একদিন তার দফতরে দেখা করতে গিয়েছিলেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পেতে আগ্রহী চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের দু’জন প্রতিনিধি।

আলাপ শেষে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে ‘চীনের উন্নতমানের চা’য়ের একটি প্যাকেট সচিবকে উপহার দেয়া হলে তিনি সৌজন্যের খাতিরে তা রেখে দেন। যথারীতি বাড়ি ফিরে তিনি তার স্ত্রীকে ‘চায়ের প্যাকেট’টি দিয়ে বলেন, ‘চীনের টাটকা চা তৈরি করতে বলো তো, দেখি কেমন স্বাদ।’

প্যাকেট খুলতেই চায়ের বদলে বেরিয়ে আসে মার্কিন ডলারের নতুন কড়কড়ে সব নোট! সব মিলিয়ে এক লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা। মো. নজরুল ইসলাম কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। তার বুঝতে বাকি থাকে না এ টাকা তাকে ‘উপঢৌকন’ তথা ঘুষ হিসেবে দেয়া হয়েছে। তিনি তৎক্ষণাৎ মোবাইল ফোনে বিস্তারিত ঘটনা জানান নিজ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে।

মন্ত্রীর কাছে পরবর্তী করণীয় জানতে চান মো. নজরুল ইসলাম। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সরকারের শীর্ষপর্যায়ে অবহিত করে দ্রুত ‘উপঢৌকন’ ফেরত দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পরে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি লিখে বিস্তারিত বর্ণনাসহ সেই অর্থ ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ঘটনাটি সততার একটি বড় দৃষ্টান্ত হলেও কৌশলগত কারণে তা প্রকাশ করেননি সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি প্রথমে গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত সোমবার বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) সভা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে চীনা প্রতিষ্ঠানটি কাজ করতে এসেছে, তারা ঘুষের প্রস্তাব দেয়, প্রকাশ্য ঘুষ। সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে তারা অর্থ দিয়েছিল, যা আমরা চীনা দূতাবাসে ফেরত দিয়েছি।’ এরপর মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সনের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবারও এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওই কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অন্য কোনো কাজ পাবে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ২২৬ কিলোমিটার পথ চার লেনে উন্নীত করতে গত বছরের ৯ অক্টোবর চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সই করে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ)।

চীন সরকারের বিনিয়োগ (জিটুজি) পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা। চায়না হারবারের সঙ্গে দর নিয়ে আলোচনা করে সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাছানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি। আলোচনা শেষে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করে কমিটি।

কিন্তু চীনা কোম্পানি ওই টাকায় কাজ করতে রাজি হয়নি। এ ঘটনার পর গত নভেম্বরের দিকে আলোচনা অনেকটাই থেমে যায়। এরপর সওজ নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দুটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে। এখন সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকল্পটি সরকারই বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে ২৬টি প্রকল্পে ২ হাজার ১৫০ কোটি ডলারের সমঝোতা স্বাক্ষর হয়। ওই ২৬ প্রকল্পের একটি হল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা।

এ প্রকল্পে ১৬০ কোটি ডলার দেয়ার কথা ছিল। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসারে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে ঠিকাদারি কাজ দেয়ার জন্য ঠিক করে দিয়েছিল চীন সরকার।

মো. নজরুল ইসলাম বিসিএস ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা। গত বছরের ১৫ অক্টোবর তিনি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব পদে যোগ দেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মো. নজরুল ইসলামের বাড়ি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায়। তার এ সততার ঘটনাটিকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দৃষ্টান্ত হিসেবে নিলে দেশ উপকৃত হবে।

   .…. দৈনিক কালের খবর

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com