শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০১:০৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
একটা সেতুর জন্য শার্শার ৩০ হাজার মানুষের অপেক্ষা ! শেখ হাসিনার জন্মদিনে ঢাবি ছাত্রলীগের মাঝে বই বিতরণ বাকেরগঞ্জ বিএমএসএফ সাবেক সভাপতি দীনু আর বেঁচে নেই। কালের খবর কাশিমপুরে হাবেল মিয়ার পরিবার কে ধর্ষন মামলায় ফাঁসাতে তৎপর কুচক্রী মহল। কালের খবর বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় ও বাসাবাড়িতে চরমভাবে ব্যাহত। কালের খবর টেকের হাট বন্দরে দিন দুপুরে ৫ লক্ষ টাকা ছিনতাই, চারজন আটক। কালেন খবর ১৫ টি পূজা মন্ডপে আর্থিক অনুদান ও পরিদর্শন করলেন এমপি মনু। কালের খবর দেশের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হচ্ছে : নসরুল হামিদ। কালের খবর মহেশরৌহালীর ৩ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। কালের খবর দুর্গাপূজায় মন্দিরে-মণ্ডপে সতর্ক পাহারা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। কালের খবর
রাক্ষুসী মেঘনার ভাঙনে নবীনগরের মানচিএ থেকে হাড়িয়ে যাচ্ছে কয়েকটি গ্রাম। কালের খবর

রাক্ষুসী মেঘনার ভাঙনে নবীনগরের মানচিএ থেকে হাড়িয়ে যাচ্ছে কয়েকটি গ্রাম। কালের খবর

নবীনগর থেকে মো:কবির হোসেন, কালের খবর :   রাক্ষুসী মেঘনা নদীর ভাঙনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের মানচিএ থেকে হাড়িয়ে যাচ্ছে কয়েকটি গ্রাম। গত কয়েক দশকে নদী তীরবর্তী ধরাভাঙ্গা, মুক্তারামপুর, নূরজাহানপুর, সোনাবালুয়া গ্রামের বহু কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাই মেঘনার এই অব্যাহত ভয়াবহ ভাঙ্গন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী নবীনগর পশ্চিম এলাকার বড়িকান্দি ইউনিয়নের প্রায় ৪ টি গ্রামে ১৫ থেকে ২০ হাজার বাসিন্দা বছরের পর বছর ধরে ভাঙ্গনের কবলিত নদীর তীরবর্তী এলাকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। ভাঙ্গনের কবলে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো নবীনগর পশ্চিম এলাকার বড়িকান্দি ইউনিয়নের ধরাভাঙ্গা, মুক্তারামপুর, নূরজাহানপুর, সোনাবালুয়া ও এমপিটিলা এবং শ্রীঘর, কান্দাপাড়া, উল্লেখযোগ্য ঐসব গ্রামগুলোর অর্ধলক্ষাধীক মানুষ  যুগ যুগ ধরে নদীর সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করছেন।

এলাকাবাসী জানান এ সব গ্রামের নদীর তীরবর্তী অংশগুলো সারা বছরই কমবেশী ভাঙ্গনের কবলে থাকে। তবে বর্ষাকালে এ সব এলাকায় নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ লাভ করে। সে সময় ওইসব এলাকার নদীর পাড়ের মানুষেরা অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের ভয়ে সর্বদাই থাকেন আতংকে। তবে মেঘনার অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ইতিমধ্যে এলাকার বিত্তশালীরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানান এলাকাবাসী।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ধরাভাঙ্গা, এমপি টিলা থেকে নূরজাহানপুর খাল পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙ্গন চোখে পড়ার মত। বড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী বড়িকান্দি ইউনিয়নের সোনাবাল্লা, নূরজাহানপুর,মুক্তারামপুর, ধরাভাঙ্গা ও শ্রীঘর, কান্দাপাড়া গ্রামে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে সোনাবাল্লা ও ধরাভাঙ্গা গ্রাম দুটিতে এখন মাত্র ৫০-৬০টি পরিবার রয়েছে।

ধরাভাঙ্গা গ্রামের উত্তর প্রান্তে মেঘনা নদীর পাড়ে ১৯৯৬ সালে একটি ‘টি’ বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই বাঁধের পশ্চিম দিকের জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটির অর্ধেকের বেশি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানান সেখানকার বাসিন্দারা। গত শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সোনাবাল্লা গ্রাম নদীভাঙনে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। গ্রামের শেষ প্রান্তে ২০-৩০টি পরিবার আছে। নদী পারাপারের জন্য একটি ঘাট রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব) এবি তাজুল ইসলাম এমপি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৫ নবীনগরের সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল এর উদ্যোগে গত ৩১মে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল সোবহান, ২ হাজার ৭০০ মিটার এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙ্গন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান। অতি শ্রীঘই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এই ভাঙ্গন রোধের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে ধরাভাঙ্গা,সোনাবালুয়া, নূরজাহানপুর, মুক্তারামপুর গ্রামের শতশত লোকজনকে আশ্বাস প্রদান করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল সোবহান বলেন, উপজেলার ধরাভাঙ্গা, মুক্তারামপুর নূরজাহানপুর, সোনাবালুয়া ও এমপিটিলা এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে তীরে ২ হাজার ৭০০ মিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে ২০১৫ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। তবে এখনো কোনো বরাদ্দ আসেনি।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com