আবর্জনায় ভরা খাল ও জলাধারে প্রজননক্ষেত্র * মশক নিধনে উদাসীন প্রশাসন, দাবি এলাকাবাসীর
এম আই ফারুক আহমেদ, কালের খবর, ঢাকা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন ওয়ার্ডগুলোয় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা। খাল কিংবা জলাধারে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে ব্যাপক হারে জন্ম নিচ্ছে মশা। বাসিন্দাদের ভোগান্তি চরমে উঠলেও সিটি করপোরেশনের কোনো নজর নেই। মশার কামড়ে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শিশু ও বয়স্করা। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা মশার উৎপাতে বাসিন্দারা অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগছে।
সরেজমিন দেখা যায়, স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলে রাজত্ব কায়েম করেছে মশা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাসিন্দারা এখন মশার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ডিএসসিসির কোনো পদক্ষেপ এখানে চোখে পড়ে না। স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। পাশাপাশি নজরদারি না থাকায় যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়। খাল ও জলাধারে ময়লা জমে জন্ম নিচ্ছে মশা।
এদিকে মশার কামড়ে নারী-শিশুসহ নাগরিকরা ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, পীতজ্বরসহ মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মশার কয়েল জ্বালালেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
জানা যায়, ডিএসসিসির নতুন ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ডেমরা, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, শ্যামপুর, দনিয়া, দক্ষিণগাঁও, নাসিরাবাদসহ ১৮টি ওয়ার্ড রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনে অব্যবস্থাপনা থাকায় মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসে কোনো দপক্ষেপ নেই।
এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্রই মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়ে আছে। বাসিন্দারা অসচেতন হওয়ায় যত্রতত্র ময়লার স্তূপ ও ভাগাড়। বাসাবাড়ির সংগ্রহ করা ময়লা-অবর্জনা সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। বাসাবাড়ির ময়লা ফেলা নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা যথাস্থানে ময়লা না ফেলে যেখানে-সেখানে ভাগাড় তৈরি করছে।
এ বিষয়ে ডেমরা পুলিশ লাইনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নুসরাত এদিব লুনা বলেন, পুলিশ লাইনের পাশেই বয়ে চলেছে বালু নদ। এ নদ মশার বিশাল প্রজননক্ষেত্র। মশার প্রজনন রোধে কোনো ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ কিংবা পুলিশ সবাই মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, বাসাবাড়ির ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই তাদের। তাছাড়া এলাকায় কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। সরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ব্যবস্থাপনা নেই। তাই বাড়ির পাশে বা খালেই ময়লা ফেলে বাসিন্দারা।
রাজধানীর ডেমরার ৬৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: নুর হোসেন নুরু ভূঁইয়া বলেন, আমাদের ৬৬নং ওয়ার্ড এলাকায় এমন ভাবে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে যা জনসাধারণকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। ডেমরার সাইনবোর্ডে মসজিদে রাসুল (সা:) জামে মসজিদের সহ-সভাপতি মো: সোলাইমান, যুগ্ন সম্পাদক বিএনপি নেতা মো: আব্দুর রহমান ও অর্থ সম্পাদক মো: আঁখিনুর বলেন, সরকার এই এলাকায় মশা নিধনে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে এলাকাবাসী। দ্রুত মশা নিধনে সরকারের জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তারা।
ডেমরার সারুলিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডা. শামীম মিছির বলেন, যত্রতত্র বর্জ্য ফেললে চারপাশের লোকজন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। ভাগাড়ে অতিরিক্ত মশা জন্মায়।
মশা নিধনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, নতুন ওয়ার্ডগুলোয় যথারীতি মশক নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এসব এলাকায় ডোবানালা বেশি থাকায় মশার উপদ্রব অনেক। তারপরও মশক নিধনে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম মোবাইল ফোনে বলেন, নতুন ওয়ার্ডগুলোয় জলাধার বেশি থাকায় মশার উপদ্রব বেশি। খাল ও জলাধারে অসচেতন বাসিন্দারা ময়লা ফেলে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি করছে। সংকট সমাধানে কিছু সময় লাগবে।
অফিস : ৪৪-ক, অতিশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা । সম্পাদকীয় কার্যালয় : আরএস ভবন, ১২০/এ মতিঝিল, ঢাকা
মোবাইল : ০১৭৫৩-৫২৬৩৩৩ ই-মেইল : dainikkalerkhobor5@gmail.com
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি