মঙ্গলবার, ০২ অগাস্ট ২০২২, ১০:১৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
চলনবিলে খাল বিল শুকিয়ে নেমে এসেছে বিপর্যয়। কালের খবর ঢাকায় ৯ ফ্ল্যাট ২ প্লট পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালকের রাজশাহীর ভদ্রায় ডিসির অনুমোদন নিয়ে চলছে পুকুর ভরাট সিদ্ধিরগঞ্জে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি, থানায় অভিযোগ। কালের খবর ডিজিটাল আইনে মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে : বিএফইউজে। কালের খবর সাংবাদিক স্ত্রী প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ রাশিদা আক্তারের দিত্বীয় মৃত্যুবার্ষিকী। কালের খবর লেবেল কেটে ২০ টাকার সিরাপ ৩৫ টাকায় বিক্রি করায় জরিমানা দিলেন ৩৭ হাজার। কালের খবর সখীপুরে এমপি’র অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা, সাংবাদিকদের মৌন মিছিল। কালের খবর আমিরাতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি। কালের খবর তাড়াশে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন। কালের খবর
কটিয়াদী পৌরসভা নির্বাচন শেষ বেলায় উৎসবমুখর প্রচার-প্রচারণা। কালের খবর

কটিয়াদী পৌরসভা নির্বাচন শেষ বেলায় উৎসবমুখর প্রচার-প্রচারণা। কালের খবর

কালের খবর ডেস্ক :

কোয়াশা আচ্ছন্ন ভোর থেকেই প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণা উৎসবে রুপ নিয়েছে কটিয়াদী পৌরসভা নির্বাচন। সবচেয়ে বেশি প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন নৌকার প্রার্থী শওকত উসমান শুক্কুর আলী ও ঐক্যবদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। একপ্রকার এবারের পৌর নির্বাচনকে বিজয়ের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। প্রতিদিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ভোটারদের ঘুম ভাঙ্গছে প্রার্থীদের ভোট ভিক্ষার মধ্যদিয়ে।

৩০ জানুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় নতুন নতুন কৌশল আর প্রতিশ্রুতিতে চায়ের দোকান ও স্টলগুলোতে ভোটারদের আড্ডায় বাড়তি বেচা-কেনা হচ্ছে দোকানিদের। কেউ কেউ বলাবলি করছেন এবার কে হচ্ছেন কটিয়াদী পৌর পিতা। কেউ কেউ বলছেন বর্তমান মেয়র নৌকার প্রার্থী শওকত উসমান শুক্কুর আলী দলের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতা। তার সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি। কোনো দুর্নীতি কিংবা কারো সাথে কখনো খারাপ আচরণ করেননি শওকত উসমান শুক্কুর আলী। সবার সাথে তার রয়েছে মধুর সর্ম্পক। কটিয়াদী পৌরসভা উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ভ’মিকা রেখেছেন তিনি। তাই এবারো শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট দিয়ে শওকত উসমান শুক্কুর আলীকে নির্বাচিত করতে চান কটিয়াদী পৌর সভার ভোটাররা। বৃহস্পতিবার শেষবারের মতো ১১টি ভাগে বিভক্ত হয়ে কটিয়াদী পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা চালিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কথা হয় কটিয়াদী সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান ও দুলাল বর্মন এর সাথে। তারা পৌর নির্বাচনে তিনি গত ১০দিন যাবত টানা নৌকার প্রার্থী শওকত উসমান শুক্কুর আলীর পক্ষে প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। বৃহস্পতিবারও সকাল থেকে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারনা চালিয়েছেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জালালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুর্শিদ উদ্দিন মাষ্টার, কটিয়াদী উপজেলা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মজনু, কটিয়াদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান প্রধান ও রুমান মাষ্টার, পৌর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপক রায় ও সাধারণ সম্পাদক মিঠুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন, শফিকুল আলম বদরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কটিয়াদী সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা আজকে প্রধানমন্ত্রী আছে বলেই বিএনপি-জামায়াত এখনো রাস্তায় বুক ফলিয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছে। অন্য কেউ ক্ষমতায় থাকলে এই দেশেই থাকা দায় হতো। কারণ বিগত সময়ে পুলিশসহ দেশের সাধারণ মানুষের জানমালে যে ক্ষতি সাধন করেছে, তাদের তো ঘর থেকেই বের হওয়ার কথা নয়। বঙ্গবন্ধুর কণ্যা ক্ষমতায় থাকায় আজকে দেশজুড়ে একের পর এক যেমন উন্নয়ন হচ্ছে, তেমনই বিএনপি-জামায়াতও বুক ফুলিয়ে এদেশে রাজনীতি করতে পারছে। আবার বলছে,সরকার নাকি তাদের রাজনীতি করতে দিচ্ছে না। এবার আপনারাই বুঝে নেন,এই বেইমানদের ভোট দিবেন,নাকি শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকায় ভোট দিবেন। তবে আমার অনুরোধআগামী ৩০ জানুয়ারি সারাদিন নৌকা মাকায় ভোট দিন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী শওকত উসমান শুক্কুর আলীর পক্ষে শেষবারের মতো পৌরসভার রাস্তাঘাট, অলিগলি ও পাড়া-মহল্লা মিছিল আর স্লোগানের পৌরসভা পরিনত হয়েছে। এরইমধ্যে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো পৌর এলাকা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বসতবাড়িতেও এখন আলোচনার বিষয় শুধু নির্বাচন। প্রার্থীরা ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন তাদের নির্বাচনী এলাকা। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী বর্তমান মেয়র শওকত উসমান শুক্কুর আলী ব্যাপক গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি সমানভাবে চালাচ্ছেন উঠান বৈঠক ও মাইকিং। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা ব্যাক্ত করে শওকত উসমান শুক্কুর আলী বলেন, আমি মেয়র থাকাকালীন পৌরসভাকে বি-গ্রেড থেকে এ-গ্রেডে উন্নীত নিয়েছি। পাড়ায় পাড়ায় রাস্তা ও ড্রেন হয়েছে। অসহায় লোকজন পেয়েছেন বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড। দেয়া হয়েছে মাতৃত্বকালীন ভাতা। বিশেষ করে পৌরসভার সড়কে রাতে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। পৌরবাসী পেয়েছেন সুন্দর আধুনিক পৌর শহর। জমির মূল্য বেড়েছে কয়েকগুণ। জলাবদ্ধতা কমেছে। নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার হচ্ছে। মেয়র হিসেবে করোনাকালীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। পৌরবাসীর ঘরে-ঘরে পৌঁছে দিয়েছি চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এখন সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা কাকে মেয়র বানাবেন। অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক দুই বারের মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান, জাতীয় পার্টি থেকে অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন আলম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি থেকে আব্দুল বাতেন পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের তেমন একটা প্রচারণায় দেখা মিলছে না। একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন কটিয়াদী থানা সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নারী নেত্রী সালমা আনিকা তার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি ভোট সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। একইভাবে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন কাউন্সিলর ও মহিলা প্রার্থীরাও। সবাই নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন। একজন নারী মেয়র প্রার্থীসহ ৫ জন মেয়র পদে ভোট যুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন দলীয় এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এছাড়া ৩টি সংরক্ষিত আসনে মোট ১১ জন এবং ৯টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন প্রার্থী এবারের ভোট যুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।

দৈনিক কালের খবর নিয়মিত পড়ুন এবং বিজ্ঞাপন দিন..

কালের খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com